ঢাকা , রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে নূরজাহান বেগমের স্বপ্নপূরণ তৃণমূল নেতা অভিষেককে ডিম-জুতো নিক্ষেপ, হেলমেট পরে গেলেন নিহত কর্মীর বাড়িতে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার লাশের সামনে অঝোরে কাঁদলেন সাবেক এমপি সুজন নেইমারকে নিয়েই বিশ্বকাপে যাবে ব্রাজিল, নিশ্চিত করলেন আনচেলত্তি এবার ২৫ কোটি টাকা নেওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন আসিফ মাহমুদ  বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল ইসরায়েল, ক্ষয়ক্ষতির চিত্র প্রকাশ দুই ভবনের ফাঁকে আটকা কুকুরকে বাঁচাল ফায়ার সার্ভিস ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের বানান ভুল, চিড়িয়াখানার কিউরেটরকে বদলি এক দশক পর জঙ্গি অভিযোগের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন সেই তিন ছাত্রী লুডু খেলা নিয়ে দু‘পক্ষের তুমুল সংঘর্ষ, আহত ২০

এক দশক পর জঙ্গি অভিযোগের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন সেই তিন ছাত্রী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:১৬:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

প্রায় এক দশক আইনি লড়াই শেষে জঙ্গিবাদের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় অব্যাহতি পেলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের তিন ছাত্রী। অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারায় গত ২৪ মে কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাদের অব্যাহতি দেন।

 

 

শনিবার (৩০ মে) বিকেলে মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, আদালতের রায়ের পর শিক্ষার্থীরা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, প্রায় এক দশক ধরে চলা অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের একটি অধ্যায়ের অবসান হয়েছে। তারা আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৭ জুলাই রাতে কুমিল্লা নগরীর নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলে যৌথ অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। অভিযানে হলের ২০২ নম্বর কক্ষে অবস্থানরত তিন শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তাদের কক্ষ তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় কয়েকটি ধর্মীয় ও ইসলামী বিষয়ক বই জব্দ করা হয়। জব্দকৃত বইয়ের মধ্যে ছিল ড. জাকির

নায়েকের লেকচার সমগ্র, আদর্শ পরিবার পরিবেশ, পরকালের প্রস্তুতি ও ইসলামী আন্দোলনের পথ ও পাথেয় শীর্ষক গ্রন্থ।

 

পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাদের নামে মামলা হয়। ২৮ জুলাই তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই সময়ে ঘটনাটি দেশব্যাপী বেশ আলোচনার সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় কয়েক মাস কারাভোগের পর তারা উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। পরবর্তীতে মামলাটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং উচ্চ আদালতসহ বিভিন্ন বিচারিক ধাপ অতিক্রম করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার একপর্যায়ে অভিযোগের সমর্থনে পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ না পাওয়ায় আদালতের বিচারক মিথিলা ইসলাম গত ২৪ মে তিন শিক্ষার্থীকে খালাসের আদেশ দেন।

 

মামলার আইনজীবী ও কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন জানান, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর আদালত অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের খালাস দিয়েছেন। জঙ্গি তকমার কারণে অভিযুক্তদের একজন মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, মামলাটির পেছনে কারা ভূমিকা রেখেছে ও কীভাবে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করা উচিত।

 

মামলার শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের পক্ষে আইনি সহায়তা প্রদান করেন অ্যাডভোকেট শহীদ উল্লাহ, অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন এবং অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম মনির।

 

এদিকে, ২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যূত্থানের পর ১৭ সেপ্টেম্বর জঙ্গি আখ্যা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় চার শিক্ষকের বিচার দাবি করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিল ওই তিন শিক্ষার্থী। ওইদিন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের প্রশাসনিক ভবন ও কলেজের নবাব ফয়জুন্নেসা হলের সামনে অবস্থান কর্মসূচির পর বিচার দাবি করেন তারা। পরে কলেজের অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন শিক্ষার্থীরা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে নূরজাহান বেগমের স্বপ্নপূরণ

এক দশক পর জঙ্গি অভিযোগের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন সেই তিন ছাত্রী

আপডেট সময় ১০:১৬:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

প্রায় এক দশক আইনি লড়াই শেষে জঙ্গিবাদের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় অব্যাহতি পেলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের তিন ছাত্রী। অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারায় গত ২৪ মে কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাদের অব্যাহতি দেন।

 

 

শনিবার (৩০ মে) বিকেলে মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, আদালতের রায়ের পর শিক্ষার্থীরা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, প্রায় এক দশক ধরে চলা অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের একটি অধ্যায়ের অবসান হয়েছে। তারা আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৭ জুলাই রাতে কুমিল্লা নগরীর নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলে যৌথ অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। অভিযানে হলের ২০২ নম্বর কক্ষে অবস্থানরত তিন শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তাদের কক্ষ তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় কয়েকটি ধর্মীয় ও ইসলামী বিষয়ক বই জব্দ করা হয়। জব্দকৃত বইয়ের মধ্যে ছিল ড. জাকির

নায়েকের লেকচার সমগ্র, আদর্শ পরিবার পরিবেশ, পরকালের প্রস্তুতি ও ইসলামী আন্দোলনের পথ ও পাথেয় শীর্ষক গ্রন্থ।

 

পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাদের নামে মামলা হয়। ২৮ জুলাই তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই সময়ে ঘটনাটি দেশব্যাপী বেশ আলোচনার সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় কয়েক মাস কারাভোগের পর তারা উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। পরবর্তীতে মামলাটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং উচ্চ আদালতসহ বিভিন্ন বিচারিক ধাপ অতিক্রম করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার একপর্যায়ে অভিযোগের সমর্থনে পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ না পাওয়ায় আদালতের বিচারক মিথিলা ইসলাম গত ২৪ মে তিন শিক্ষার্থীকে খালাসের আদেশ দেন।

 

মামলার আইনজীবী ও কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন জানান, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর আদালত অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের খালাস দিয়েছেন। জঙ্গি তকমার কারণে অভিযুক্তদের একজন মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, মামলাটির পেছনে কারা ভূমিকা রেখেছে ও কীভাবে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করা উচিত।

 

মামলার শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের পক্ষে আইনি সহায়তা প্রদান করেন অ্যাডভোকেট শহীদ উল্লাহ, অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন এবং অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম মনির।

 

এদিকে, ২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যূত্থানের পর ১৭ সেপ্টেম্বর জঙ্গি আখ্যা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় চার শিক্ষকের বিচার দাবি করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিল ওই তিন শিক্ষার্থী। ওইদিন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের প্রশাসনিক ভবন ও কলেজের নবাব ফয়জুন্নেসা হলের সামনে অবস্থান কর্মসূচির পর বিচার দাবি করেন তারা। পরে কলেজের অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন শিক্ষার্থীরা।