ঢাকা , রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে নূরজাহান বেগমের স্বপ্নপূরণ তৃণমূল নেতা অভিষেককে ডিম-জুতো নিক্ষেপ, হেলমেট পরে গেলেন নিহত কর্মীর বাড়িতে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার লাশের সামনে অঝোরে কাঁদলেন সাবেক এমপি সুজন নেইমারকে নিয়েই বিশ্বকাপে যাবে ব্রাজিল, নিশ্চিত করলেন আনচেলত্তি এবার ২৫ কোটি টাকা নেওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন আসিফ মাহমুদ  বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল ইসরায়েল, ক্ষয়ক্ষতির চিত্র প্রকাশ দুই ভবনের ফাঁকে আটকা কুকুরকে বাঁচাল ফায়ার সার্ভিস ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের বানান ভুল, চিড়িয়াখানার কিউরেটরকে বদলি এক দশক পর জঙ্গি অভিযোগের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন সেই তিন ছাত্রী লুডু খেলা নিয়ে দু‘পক্ষের তুমুল সংঘর্ষ, আহত ২০

এবার ২৫ কোটি টাকা নেওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন আসিফ মাহমুদ 

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০৮:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়া এবং সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ কুমিল্লা জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে মোট ২৫ কোটি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া।

 

ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, একটা বিষয় একটু হয়তো আপনারা সবাই শিরোনামে দেখছেন বিভিন্ন জায়গায় যে ২৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছে আসিফ মাহমুদ এবং হাসনাত আব্দুল্লাহ। এর মধ্যে ১৫ কোটি নিয়ে গেছেন আসিফ মাহমুদ, আর ১০ কোটি নিয়ে গেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তো শিরোনাম দেখে আবার সবাই একটু প্যারা খেতে পারেন—যেমন ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছেন তারেক রহমান। এটা অনেকটা এরকমই যে, আগামী দিনে আমরা শুনছি যে বা জেট ধরা হবে বা প্রস্তাবিত বা জেটটা আসবে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। তো এটা তো সরকার বরাদ্দ করছে যে এক বছরে এই বা জেট তারা নির্দিষ্ট কিছু খাতে খরচ করবে। তো সেটা যদি এখন আমি বলি যে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছেন তারেক রহমান। এমনভাবে বলা যে তার মানে পকেটে করে নিয়ে যাচ্ছেন—তাহলে এটা যেমন হাস্যকর এবং মানহানিকর শোনাবে, ঠিক একইরকম একটা স্টেটমেন্ট আজকে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসকের পক্ষ থেকে এসেছে।

 

এনসিপির মুখপাত্র বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সমবায় মন্ত্রণালয়ের বা জেট গত অর্থবছরে ছিল মোট ৪২ থেকে ৪৩ হাজার কোটি টাকার মতো এবং বিগত অর্থবছরে ছিল এটা প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার মতো। এই অর্থের মধ্যে একটা অংশ স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘বিশেষ বরাদ্দ’। এটা যেকোনো স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রী, সচিব বা প্রতিমন্ত্রী দিতে পারেন। প্রয়োজন যদি তিনি অনুভব করেন যে এখানে এটার প্রয়োজন আছে বা কোনো প্রজেক্টের জন্য, তবে সেটা বরাদ্দ দিতে পারেন। এর বাইরে তো সাধারণ বরাদ্দ আছেই। সাধারণ বরাদ্দটা সাধারণত প্রপোরশনেটলি (অনুপাত অনুযায়ী) ঠিক হয়ে থাকে। যেমন—কুমিল্লা একটা জেলা, ফেনী একটা জেলা। কিন্তু কুমিল্লা জেলাতে উপজেলার পরিমাণ ফেনীর থেকে অনেক বেশি। তো কয়টা উপজেলা আছে, জনসংখ্যা কত, ভোটার সংখ্যা কত—সেটা বিবেচনায় নিয়ে প্রপোরশনেট রেশিও অনুযায়ী সাধারণ বরাদ্দটা বিভক্ত করা হয়।

 

আসিফ মাহমুদ বলেন, এই বরাদ্দটা পাঁচটা খাতে যায়—জেলা পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ এবং সিটি করপোরেশন। এটা প্রতিবছর নির্দিষ্ট বরাদ্দ থাকে যা চার কিস্তিতে অবমুক্ত করা হয়। জেলা পরিষদের যিনি প্রশাসক থাকেন (অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ডিসিরা ছিলেন পদাধিকার বলে, এখন প্রশাসক বিএনপি নিয়োগ দিয়েছে), তার সভাপতিত্বে একটা কমিটি আসলে নির্ধারণ করে যে খরচটা কীভাবে করা হবে। তারা সেটা বসে নির্ধারণ করেন এবং চূড়ান্ত প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য আবার মন্ত্রণালয়ে পাঠান।

 

তিনি বলেন, কুমিল্লার প্রশাসক প্রথমত উনি একেবারেই কাঁচা একটা মিথ্যা কথা বলেছেন সেটি হচ্ছে রাজস্ব খাত। রাজস্ব খাত থেকে কারও এলাকায় কোনো ধরনের বরাদ্দ নিয়ে যাওয়ার কারও কোনো সুযোগ নেই। রাজস্ব খাতের বা জেট বছরের শুরুতেই জেলা পরিষদ ঠিক করে যে তারা কোথায় কতটুকু খরচ করবে। এটা মূলত এডিপির ‘বিশেষ বরাদ্দ’। তো উনি এটাকে রাজস্ব খাতের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছেন।

 

‘এই বিশেষ বরাদ্দটা সাধারণত ১০০ থেকে ১২৫ কোটি টাকার মতো হয়। এই বরাদ্দ দেয়ার এখতিয়ারটা মন্ত্রী বা উপদেষ্টার হাতে থাকে। আমি যখন দায়িত্বে ছিলাম, স্বাভাবিকভাবেই আমি সারা দেশে এটা দিয়েছি। এটার প্র্যাকটিস হচ্ছে ‘অন রিকোয়েস্ট’ বা অ্যাপ্লিকেশনের ভিত্তিতে। আপনারা অনেকেই অনেক অ্যাপ্লিকেশন করেন যে আমাদের গ্রামের এই রাস্তাটা করা খুব প্রয়োজন। সেই অ্যাপ্লিকেশনগুলো উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে আসে। মন্ত্রণালয় এই অ্যাপ্লিকেশনগুলো আর্কাইভ করে এবং উপদেষ্টা বা মন্ত্রী সেই আর্কাইভ থেকে বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেন। বরাদ্দ দেয়ার মানেই শেষ না; বরাদ্দ দেয়ার পরেও ওই জেলার প্রশাসক বা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি কমিটি বসে ঠিক করে যে এই টাকাটা কোন কোন খাতে খরচ করা হবে’, যোগ করেন আসিফ মাহমুদ।

 

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, আমি ফেব্রুয়ারি ২০২৫ মাসের কুমিল্লা জেলা পরিষদের মাসিক সভার কার্যবিবরণী দেখাতে পারি। সেখানে উপস্থিতির তালিকা, আলোচ্য সূচি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনার বিস্তারিত আছে। সেখানে বিশেষ বরাদ্দের টাকা কোথায় খরচ হবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। যেমন—সোলার লাইট স্থাপনের জন্য ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা, কর্মহীন অসহায় ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ৬২ লাখ টাকা, ১০৪টি বিদ্যালয় এবং ১৪টি কলেজের আসবাবপত্রের জন্য ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে নূরজাহান বেগমের স্বপ্নপূরণ

এবার ২৫ কোটি টাকা নেওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন আসিফ মাহমুদ 

আপডেট সময় ১১:০৮:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়া এবং সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ কুমিল্লা জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে মোট ২৫ কোটি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া।

 

ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, একটা বিষয় একটু হয়তো আপনারা সবাই শিরোনামে দেখছেন বিভিন্ন জায়গায় যে ২৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছে আসিফ মাহমুদ এবং হাসনাত আব্দুল্লাহ। এর মধ্যে ১৫ কোটি নিয়ে গেছেন আসিফ মাহমুদ, আর ১০ কোটি নিয়ে গেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তো শিরোনাম দেখে আবার সবাই একটু প্যারা খেতে পারেন—যেমন ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছেন তারেক রহমান। এটা অনেকটা এরকমই যে, আগামী দিনে আমরা শুনছি যে বা জেট ধরা হবে বা প্রস্তাবিত বা জেটটা আসবে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। তো এটা তো সরকার বরাদ্দ করছে যে এক বছরে এই বা জেট তারা নির্দিষ্ট কিছু খাতে খরচ করবে। তো সেটা যদি এখন আমি বলি যে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছেন তারেক রহমান। এমনভাবে বলা যে তার মানে পকেটে করে নিয়ে যাচ্ছেন—তাহলে এটা যেমন হাস্যকর এবং মানহানিকর শোনাবে, ঠিক একইরকম একটা স্টেটমেন্ট আজকে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসকের পক্ষ থেকে এসেছে।

 

এনসিপির মুখপাত্র বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সমবায় মন্ত্রণালয়ের বা জেট গত অর্থবছরে ছিল মোট ৪২ থেকে ৪৩ হাজার কোটি টাকার মতো এবং বিগত অর্থবছরে ছিল এটা প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার মতো। এই অর্থের মধ্যে একটা অংশ স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘বিশেষ বরাদ্দ’। এটা যেকোনো স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রী, সচিব বা প্রতিমন্ত্রী দিতে পারেন। প্রয়োজন যদি তিনি অনুভব করেন যে এখানে এটার প্রয়োজন আছে বা কোনো প্রজেক্টের জন্য, তবে সেটা বরাদ্দ দিতে পারেন। এর বাইরে তো সাধারণ বরাদ্দ আছেই। সাধারণ বরাদ্দটা সাধারণত প্রপোরশনেটলি (অনুপাত অনুযায়ী) ঠিক হয়ে থাকে। যেমন—কুমিল্লা একটা জেলা, ফেনী একটা জেলা। কিন্তু কুমিল্লা জেলাতে উপজেলার পরিমাণ ফেনীর থেকে অনেক বেশি। তো কয়টা উপজেলা আছে, জনসংখ্যা কত, ভোটার সংখ্যা কত—সেটা বিবেচনায় নিয়ে প্রপোরশনেট রেশিও অনুযায়ী সাধারণ বরাদ্দটা বিভক্ত করা হয়।

 

আসিফ মাহমুদ বলেন, এই বরাদ্দটা পাঁচটা খাতে যায়—জেলা পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ এবং সিটি করপোরেশন। এটা প্রতিবছর নির্দিষ্ট বরাদ্দ থাকে যা চার কিস্তিতে অবমুক্ত করা হয়। জেলা পরিষদের যিনি প্রশাসক থাকেন (অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ডিসিরা ছিলেন পদাধিকার বলে, এখন প্রশাসক বিএনপি নিয়োগ দিয়েছে), তার সভাপতিত্বে একটা কমিটি আসলে নির্ধারণ করে যে খরচটা কীভাবে করা হবে। তারা সেটা বসে নির্ধারণ করেন এবং চূড়ান্ত প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য আবার মন্ত্রণালয়ে পাঠান।

 

তিনি বলেন, কুমিল্লার প্রশাসক প্রথমত উনি একেবারেই কাঁচা একটা মিথ্যা কথা বলেছেন সেটি হচ্ছে রাজস্ব খাত। রাজস্ব খাত থেকে কারও এলাকায় কোনো ধরনের বরাদ্দ নিয়ে যাওয়ার কারও কোনো সুযোগ নেই। রাজস্ব খাতের বা জেট বছরের শুরুতেই জেলা পরিষদ ঠিক করে যে তারা কোথায় কতটুকু খরচ করবে। এটা মূলত এডিপির ‘বিশেষ বরাদ্দ’। তো উনি এটাকে রাজস্ব খাতের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছেন।

 

‘এই বিশেষ বরাদ্দটা সাধারণত ১০০ থেকে ১২৫ কোটি টাকার মতো হয়। এই বরাদ্দ দেয়ার এখতিয়ারটা মন্ত্রী বা উপদেষ্টার হাতে থাকে। আমি যখন দায়িত্বে ছিলাম, স্বাভাবিকভাবেই আমি সারা দেশে এটা দিয়েছি। এটার প্র্যাকটিস হচ্ছে ‘অন রিকোয়েস্ট’ বা অ্যাপ্লিকেশনের ভিত্তিতে। আপনারা অনেকেই অনেক অ্যাপ্লিকেশন করেন যে আমাদের গ্রামের এই রাস্তাটা করা খুব প্রয়োজন। সেই অ্যাপ্লিকেশনগুলো উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে আসে। মন্ত্রণালয় এই অ্যাপ্লিকেশনগুলো আর্কাইভ করে এবং উপদেষ্টা বা মন্ত্রী সেই আর্কাইভ থেকে বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেন। বরাদ্দ দেয়ার মানেই শেষ না; বরাদ্দ দেয়ার পরেও ওই জেলার প্রশাসক বা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি কমিটি বসে ঠিক করে যে এই টাকাটা কোন কোন খাতে খরচ করা হবে’, যোগ করেন আসিফ মাহমুদ।

 

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, আমি ফেব্রুয়ারি ২০২৫ মাসের কুমিল্লা জেলা পরিষদের মাসিক সভার কার্যবিবরণী দেখাতে পারি। সেখানে উপস্থিতির তালিকা, আলোচ্য সূচি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনার বিস্তারিত আছে। সেখানে বিশেষ বরাদ্দের টাকা কোথায় খরচ হবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। যেমন—সোলার লাইট স্থাপনের জন্য ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা, কর্মহীন অসহায় ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ৬২ লাখ টাকা, ১০৪টি বিদ্যালয় এবং ১৪টি কলেজের আসবাবপত্রের জন্য ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছেন।