ঢাকা , সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
অন্তর্বর্তী সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দের টাকায় ৭৭টি আসন কিনেছে জামায়াত-এনসিপি: রাশেদ খান এবার হজে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৪১ বাংলাদেশির সৌভাগ্যের মৃত্যু ইসলামী ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ, টিয়ারশেল-সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ফিলিস্তিনকে সমর্থন জানিয়ে ইসরাইল দিবস প্যারেডে যোগ দিলেন না মামদানি আমরাও ভারতের জমি দখল করে রেখেছি: নেপালের প্রধানমন্ত্রী দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে না গেলে কয়টা ভোট পাইত?: প্রশ্ন মনিরার  নিজ দলের মার্কায় ভোট করলে ২০০ ভোটও পেতেন না: তীব্র প্রতিক্রিয়া তুষারের যুগের জিন্নাহ নাহিদ ইসলাম, যুগের মওদূদী সাদিক কায়েম: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রিয় দেশবাসী, অধিকার ছিনিয়ে আনতে হবে: জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে জামায়াত আমির মরণোত্তর জাতিসংঘ পদক পাচ্ছেন নিহত ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী

‘শেখ হাসিনা পদত্যাগপত্র ভ্যানিটি ব্যাগে করে নিয়ে চলে গেছেন’ 

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট দেশ ছাড়েন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিন পৃষ্ঠার একটি সুনির্দিষ্ট পদত্যাগপত্র লিখেছিলেন এবং সেটি তিনি তার ভ্যানিটি ব্যাগে করে সঙ্গে নিয়ে গেছেন বলে দাবি করেছেন দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী।
বিজ্ঞাপন শনিবার (৩০ মে) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউটিউবভিত্তিক সংবাদ প্ল্যাটফর্ম ‘দি পোস্ট’-এ প্রচারিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই চাঞ্চল্যকর খবরটি সামনে আসেন।

মতিউর রহমান চৌধুরী জানান, শেখ হাসিনা সাংবিধানিক নিয়ম মেনে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেই দেশ ছাড়তে চেয়েছিলেন, কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে তিনি সেই পদত্যাগপত্রটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সশরীরে জমা দিয়ে যেতে পারেননি; বরং তড়িঘড়ি করে বের হওয়ার সময় সেটি নিজের সঙ্গেই নিয়ে যান।

পদত্যাগপত্রের ভেতরের বিষয়বস্তু ও নাটকীয়তা নিয়ে প্রবীণ এই সাংবাদিক বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জন্য তার সরকারের বিভিন্ন অবদান, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং আন্দোলনের মুখে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে ৩ পৃষ্ঠার একটি দীর্ঘ চিঠি লিখেছিলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) একজন স্টাফের সেটি অফিশিয়ালি টাইপ করার কথা ছিল। কিন্তু গণভবনের বাইরে তখন পরিস্থিতি এত দ্রুত বদলে যাচ্ছিল যে, সেই চিঠিটি চূড়ান্তভাবে টাইপ করার মতো পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ আর পাওয়া যায়নি। ফলে হস্তলিখিত বা খসড়া সেই ঐতিহাসিক কাগজটিই শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ব্যাগে থেকে যায়।

মতিউর রহমান চৌধুরী সাক্ষাৎকারে শেষ মুহূর্তের সেই টানটান উত্তেজনার বিবরণ দিয়ে জানান, ৪ আগস্ট রাতের পর ৫ আগস্ট দুপুরে চারদিক থেকে লাখ লাখ মানুষ যখন গণভবনের একদম কাছাকাছি চলে আসে, তখন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর ওয়াকিটকি থেকে বারবার বার্তা আসছিল। দায়িত্বরত সেনা কর্মকর্তারা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে সাফ জানিয়ে দেন যে, ‘আপনার হাতে আর এক মুহূর্তও সময় নেই, এখনই গণভবন ছাড়তে হবে।’ এমন চরম তাড়াহুড়োর মধ্যে শেখ হাসিনা তাঁর অতি প্রয়োজনীয় ভ্যানিটি ব্যাগটি ভেতরের একটি চেয়ারের ওপরই ফেলে রেখে বাইরে চলে আসেন। পরবর্তীতে একদম শেষ মুহূর্তে যখন তিনি গাড়িতে উঠবেন, তখন পাশে থাকা সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমার ব্যাগটা ভেতরে রয়ে গেছে, ওটা একটু নিয়ে আসো।’ এরপর সেই সেনা কর্মকর্তা ব্যাগটি এনে দিলে তিনি গাড়িতে ওঠেন এবং সেই ব্যাগের ভেতরেই ছিল বহুল আলোচিত সেই ৩ পৃষ্ঠার পদত্যাগপত্র।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

অন্তর্বর্তী সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দের টাকায় ৭৭টি আসন কিনেছে জামায়াত-এনসিপি: রাশেদ খান

‘শেখ হাসিনা পদত্যাগপত্র ভ্যানিটি ব্যাগে করে নিয়ে চলে গেছেন’ 

আপডেট সময় ১০:০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট দেশ ছাড়েন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিন পৃষ্ঠার একটি সুনির্দিষ্ট পদত্যাগপত্র লিখেছিলেন এবং সেটি তিনি তার ভ্যানিটি ব্যাগে করে সঙ্গে নিয়ে গেছেন বলে দাবি করেছেন দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী।
বিজ্ঞাপন শনিবার (৩০ মে) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউটিউবভিত্তিক সংবাদ প্ল্যাটফর্ম ‘দি পোস্ট’-এ প্রচারিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই চাঞ্চল্যকর খবরটি সামনে আসেন।

মতিউর রহমান চৌধুরী জানান, শেখ হাসিনা সাংবিধানিক নিয়ম মেনে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেই দেশ ছাড়তে চেয়েছিলেন, কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে তিনি সেই পদত্যাগপত্রটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সশরীরে জমা দিয়ে যেতে পারেননি; বরং তড়িঘড়ি করে বের হওয়ার সময় সেটি নিজের সঙ্গেই নিয়ে যান।

পদত্যাগপত্রের ভেতরের বিষয়বস্তু ও নাটকীয়তা নিয়ে প্রবীণ এই সাংবাদিক বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জন্য তার সরকারের বিভিন্ন অবদান, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং আন্দোলনের মুখে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে ৩ পৃষ্ঠার একটি দীর্ঘ চিঠি লিখেছিলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) একজন স্টাফের সেটি অফিশিয়ালি টাইপ করার কথা ছিল। কিন্তু গণভবনের বাইরে তখন পরিস্থিতি এত দ্রুত বদলে যাচ্ছিল যে, সেই চিঠিটি চূড়ান্তভাবে টাইপ করার মতো পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ আর পাওয়া যায়নি। ফলে হস্তলিখিত বা খসড়া সেই ঐতিহাসিক কাগজটিই শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ব্যাগে থেকে যায়।

মতিউর রহমান চৌধুরী সাক্ষাৎকারে শেষ মুহূর্তের সেই টানটান উত্তেজনার বিবরণ দিয়ে জানান, ৪ আগস্ট রাতের পর ৫ আগস্ট দুপুরে চারদিক থেকে লাখ লাখ মানুষ যখন গণভবনের একদম কাছাকাছি চলে আসে, তখন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর ওয়াকিটকি থেকে বারবার বার্তা আসছিল। দায়িত্বরত সেনা কর্মকর্তারা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে সাফ জানিয়ে দেন যে, ‘আপনার হাতে আর এক মুহূর্তও সময় নেই, এখনই গণভবন ছাড়তে হবে।’ এমন চরম তাড়াহুড়োর মধ্যে শেখ হাসিনা তাঁর অতি প্রয়োজনীয় ভ্যানিটি ব্যাগটি ভেতরের একটি চেয়ারের ওপরই ফেলে রেখে বাইরে চলে আসেন। পরবর্তীতে একদম শেষ মুহূর্তে যখন তিনি গাড়িতে উঠবেন, তখন পাশে থাকা সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমার ব্যাগটা ভেতরে রয়ে গেছে, ওটা একটু নিয়ে আসো।’ এরপর সেই সেনা কর্মকর্তা ব্যাগটি এনে দিলে তিনি গাড়িতে ওঠেন এবং সেই ব্যাগের ভেতরেই ছিল বহুল আলোচিত সেই ৩ পৃষ্ঠার পদত্যাগপত্র।