ঢাকা , মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সড়কবাতির প্রযুক্তি শিখতে ফ্রান্সে যাচ্ছেন রাসিক প্রশাসক প্যান্টে বসলো রানি মৌমাছি, মুহূর্তে যুবকের পশ্চাৎদেশে চাক বাঁধলো মৌমাছির ঝাঁক! পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানালেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর গরু পশু নয়, আমাদের মা: মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের যোগী আদিত্যনাথ আর্জেন্টিনার পতাকা টাঙাতে গিয়ে মৌমাছির কামড়ে সমর্থক আহত মোহাম্মদপুরে বাসার গেটে চাপাতি ঠেকিয়ে ছিনতাই, গ্রেপ্তার ২ ইউনিয়ন বিএনপির নেতা একাই গিলে খাচ্ছেন জনগণের সকল বরাদ্দ ও সুযোগ সুবিধা ইউনিয়ন বিএনপির নেতা একাই গিলে খাচ্ছেন জনগণের সকল বরাদ্দ ও সুযোগ সুবিধা বাসার গেটের সামনে ছিনতাইয়ের শিকার দুই নারী, গ্রেফতার ২ জামায়াত দেশের দায়িত্ব নিতে চায়: আযাদ

‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:০২:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • ১৩৯ বার পড়া হয়েছে

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে চাপে রাখতে রাজনৈতিক নাম না উল্লেখ করে বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যার প্রসঙ্গ টেনে বিস্ফোরক দাবি করেন তিনি।

 

মঙ্গলবার (২ জুন) কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, হাদির হত্যাকারীদের রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ফোন পান তিনি। তাকে বলা হয়, এই বিষয়টি যেন বাইরে জানাজানি না হয়।

 

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল। যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন হয়েছিল। অন্য দেশের কথা আমি বলছি না। আমার অধিকারও নেই বলার। কিন্তু আমি যেটা বলতে চাইছি তা হলো ওই হত্যাকারীরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে। বাংলায় আসার পর আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে। এইটা তাদের কৃতিত্ব।’

 

তিনি বলেন, ‘কিন্তু তারপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে আমাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, আপনি রাজ্য পুলিশকে জানিয়ে দিন এটা যেন বাইরে না যায়। কারণ এটা দেশের ব্যাপার।’

 

অমিত শাহকে উদ্দেশ্যে করে মমতা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? আজকের সরকার পরিবর্তন হলেও আমি সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটা কথার ভান্ডার। তথ্য ভান্ডার।’

 

তিন বলেন, ‘এতদিন আমি বলিনি। কিন্তু আজকে অত্যাচারে শেষ সীমায় গেছে বলে আমাকে মুখ খুলতে হয়েছে। আমি সেই নামটা বলতে চাইছি না, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। দেশের স্বার্থে ওই নাম আমি বলব না।’

 

মিশনারি অব চারিটিস তহবিল বন্ধ করে দেওয়া নিয়েও এদিন সোচ্চার হয়েছেন মমতা। মূলত বিধানসভা নির্বাচনের পর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গনের মুখে দাঁড়িয়ে আছে তৃণমূল কংগ্রেস। মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনের বিদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। মঙ্গলবারেও মমতার ধর্না কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ছয়জন বিধায়ক। এমন অবস্থায় বিজেপিকে নিশানা করেছেন দলনেত্রী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

তার অভিযোগ, দিল্লি থেকে কলকাঠি নাড়িয়ে তৃণমূলকে ভেঙে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। বেআইনিভাবে পুলিশ দিয়ে আমাদের দলের বিধায়ক কাউন্সিলরদের ভয় দেখানো হচ্ছে। যদিও সেই প্রচেষ্টা কোনভাবেই সফল হবে না।

 

কেন্দ্র সরকারকে লক্ষ্য করে মমতা বলেন, আমাকে কতবার বলা হয়েছিল, আপনি কি চান, সব কিছু দেব। কিন্তু আমাদের দলের একটা নীতি আছে। আদর্শ আছে। দর্শন আছে। আজকে আমার একটাই দুঃখ, যাদের জন্য সারা জীবন করেছি, তারাই আজ গাদ্দারের সঙ্গে লাইন দিয়েছে। যারা আজকে তৃণমূলকে ভাঙ্গার জন্য গাদ্দারি করছে, আমি বলব সবাইকে ভগবান যেন সুমতি দেন। যদি কোনদিন ভালো কাজ করে থাকি, সেটা মেনে চলবো।

 

এদিনের ধরনা কর্মসূচি শুরু করার আগে তিনি রেড রোডে অবস্থিত ভারতীয় সংবিধানের রচয়িতা বি আর আম্বেদকর এবং ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানান। সেখান থেকে চলে আসেন ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট করে দলের নেতাকর্মীদের সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও বিধায়ক ও সাংসদদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সড়কবাতির প্রযুক্তি শিখতে ফ্রান্সে যাচ্ছেন রাসিক প্রশাসক

‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’

আপডেট সময় ০৮:০২:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে চাপে রাখতে রাজনৈতিক নাম না উল্লেখ করে বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যার প্রসঙ্গ টেনে বিস্ফোরক দাবি করেন তিনি।

 

মঙ্গলবার (২ জুন) কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, হাদির হত্যাকারীদের রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ফোন পান তিনি। তাকে বলা হয়, এই বিষয়টি যেন বাইরে জানাজানি না হয়।

 

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল। যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন হয়েছিল। অন্য দেশের কথা আমি বলছি না। আমার অধিকারও নেই বলার। কিন্তু আমি যেটা বলতে চাইছি তা হলো ওই হত্যাকারীরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে। বাংলায় আসার পর আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে। এইটা তাদের কৃতিত্ব।’

 

তিনি বলেন, ‘কিন্তু তারপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে আমাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, আপনি রাজ্য পুলিশকে জানিয়ে দিন এটা যেন বাইরে না যায়। কারণ এটা দেশের ব্যাপার।’

 

অমিত শাহকে উদ্দেশ্যে করে মমতা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? আজকের সরকার পরিবর্তন হলেও আমি সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটা কথার ভান্ডার। তথ্য ভান্ডার।’

 

তিন বলেন, ‘এতদিন আমি বলিনি। কিন্তু আজকে অত্যাচারে শেষ সীমায় গেছে বলে আমাকে মুখ খুলতে হয়েছে। আমি সেই নামটা বলতে চাইছি না, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। দেশের স্বার্থে ওই নাম আমি বলব না।’

 

মিশনারি অব চারিটিস তহবিল বন্ধ করে দেওয়া নিয়েও এদিন সোচ্চার হয়েছেন মমতা। মূলত বিধানসভা নির্বাচনের পর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গনের মুখে দাঁড়িয়ে আছে তৃণমূল কংগ্রেস। মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনের বিদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। মঙ্গলবারেও মমতার ধর্না কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ছয়জন বিধায়ক। এমন অবস্থায় বিজেপিকে নিশানা করেছেন দলনেত্রী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

তার অভিযোগ, দিল্লি থেকে কলকাঠি নাড়িয়ে তৃণমূলকে ভেঙে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। বেআইনিভাবে পুলিশ দিয়ে আমাদের দলের বিধায়ক কাউন্সিলরদের ভয় দেখানো হচ্ছে। যদিও সেই প্রচেষ্টা কোনভাবেই সফল হবে না।

 

কেন্দ্র সরকারকে লক্ষ্য করে মমতা বলেন, আমাকে কতবার বলা হয়েছিল, আপনি কি চান, সব কিছু দেব। কিন্তু আমাদের দলের একটা নীতি আছে। আদর্শ আছে। দর্শন আছে। আজকে আমার একটাই দুঃখ, যাদের জন্য সারা জীবন করেছি, তারাই আজ গাদ্দারের সঙ্গে লাইন দিয়েছে। যারা আজকে তৃণমূলকে ভাঙ্গার জন্য গাদ্দারি করছে, আমি বলব সবাইকে ভগবান যেন সুমতি দেন। যদি কোনদিন ভালো কাজ করে থাকি, সেটা মেনে চলবো।

 

এদিনের ধরনা কর্মসূচি শুরু করার আগে তিনি রেড রোডে অবস্থিত ভারতীয় সংবিধানের রচয়িতা বি আর আম্বেদকর এবং ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানান। সেখান থেকে চলে আসেন ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট করে দলের নেতাকর্মীদের সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও বিধায়ক ও সাংসদদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।