ঢাকা , বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সড়কবাতির প্রযুক্তি শিখতে ফ্রান্সে যাচ্ছেন রাসিক প্রশাসক প্যান্টে বসলো রানি মৌমাছি, মুহূর্তে যুবকের পশ্চাৎদেশে চাক বাঁধলো মৌমাছির ঝাঁক! পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানালেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর গরু পশু নয়, আমাদের মা: মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের যোগী আদিত্যনাথ আর্জেন্টিনার পতাকা টাঙাতে গিয়ে মৌমাছির কামড়ে সমর্থক আহত মোহাম্মদপুরে বাসার গেটে চাপাতি ঠেকিয়ে ছিনতাই, গ্রেপ্তার ২ ইউনিয়ন বিএনপির নেতা একাই গিলে খাচ্ছেন জনগণের সকল বরাদ্দ ও সুযোগ সুবিধা ইউনিয়ন বিএনপির নেতা একাই গিলে খাচ্ছেন জনগণের সকল বরাদ্দ ও সুযোগ সুবিধা বাসার গেটের সামনে ছিনতাইয়ের শিকার দুই নারী, গ্রেফতার ২ জামায়াত দেশের দায়িত্ব নিতে চায়: আযাদ

মমতার হাত ফসকে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:২৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন বিজেপির ভূমিধস জয়ের পর টিকে থাকার লড়াইয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। এরইমধ্যে বেশ কিছু প্রভাবশালী নেতার দলত্যাগ ও আরও অনেকের দলে থাকা নিয়ে দোটানায় এ সংশয় আরও ঘনীভূত হচ্ছে। সেই সঙ্গে তৃণমূলের নেতৃত্ব থেকে মমতাকে সরিয়ে দেওয়ার মতো সম্ভাবনা নিয়েও চলছে নানা সমীকরণ।

 

ভারতের শীর্ঘ গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-এর এক বিশ্লেষণে তৃণমূলের এমন অনিশ্চয়তার বিষয়টি উঠে এসেছে। সংকটকালীন এ পরিস্থিতি মমতা আদৌ সামাল দিতে পারবে, নাকি সবকিছু তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে তারই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে।

 

ইন্ডিয়া টুডে বলছে, মসতার নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকে থাকার প্রশ্ন এখন পুরো পশ্চিমবঙ্গ জুড়েই বহুল চর্চিত একটি বিষয়। তৃণমূল কংগ্রেস আগামী পাঁচ বছর টিকে থেকে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০৩১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির মোকাবিলা করতে পারবে কি না সে প্রশ্নই এখন বড় করে দেখা হচ্ছে। পূর্ব ভারতের এই রাজ্যটিতে অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি এখন এক বিশাল রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এবং ভবিষ্যতে তাদের প্রভাব আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে ভাঙনের লক্ষণও বেশ স্পষ্ট।

 

দলের বিদ্রোহী কয়েকজন নেতা নিজেদের মধ্যে বৈঠকে বসেছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ভাতিজা দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থানের বিরোধিতা করছেন তারা। সোমবার তৃণমূল কংগ্রেস ‘দলবিরোধী কার্যকলাপের’ অভিযোগে দুই বিধায়ক সন্দীপন সাহা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ ‘ভুল পথে পরিচালিত’ হয়ে বিদ্রোহে জড়িয়ে পড়া বিধায়কদের কাছে হাতজোড় করে দলের ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।

 

 

এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও সোমবার ফেসবুক লাইভে এসে স্বীকার করেন যে দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করার একটি ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি বলেন, এটি তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিনতম সময়গুলোর মধ্যে একটি।

 

১৯৯৮ সালে যখন তিনি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশের কোঠায়। এখন ৭১ বছর বয়সে তাকে সেই দলকেই ঐক্যবদ্ধ ও নিয়ন্ত্রণে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। গত ৩০ বছরের মধ্যে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকায় দলের নেতৃত্ব দেওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ ছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল।

 

তৃণমূল কংগ্রেসের সামনে যে সংকট, তার আভাস মূলত রবিবারই স্পষ্ট হয়ে গেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এক বৈঠকে দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে প্রায় ৬০ জনই উপস্থিত হননি।

 

তবে দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকায় অনেক বিধায়ক বৈঠকে আসতে পারেননি।

 

তবুও বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়, কারণ প্রায় ২০ জন বিধায়ক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের সঙ্গে একটি ‘অনানুষ্ঠানিক আলোচনা’ করেছেন।

 

রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন চলছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার দলের বিধায়ক ও নেতাদের একত্রে ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, টিএমসি শাসনামলে দুর্নীতির অভিযোগ, রাজনৈতিক নিপীড়নের অভিযোগ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনঅসন্তোষের মতো কারণও দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এগুলো মূলত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগের বিষয়। বিভিন্ন পক্ষ এসব নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করে।

 

কলকাতার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শিখা মুখোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের অনেক নেতার মধ্যেই এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে দলটি আর আগের মতো শক্তিশালী অবস্থানে নেই। তারা মনে করছেন, এখন নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের বিষয়টি নিয়েই তাদের ভাবতে হবে।

 

অর্থাৎ, দলের শক্তি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে কিছু নেতা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ও সম্ভাবনা নিশ্চিত করার জন্য বিকল্প পথ বা কৌশল খুঁজতে শুরু করেছেন।

 

এদিকে শনিবার সোনাপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনার পরও তুণমূল কংগ্রেসের খুব বেশি নেতা প্রকাশ্যে ওই ঘটনার নিন্দা জানাতে এগিয়ে আসেননি।

 

এদিকে সোমবারের ফেসবুক লাইভে মমতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসন তৃণমূল জনসভা করার অনুমতি দিচ্ছে না। তোমরা যতই তৃণমূল কংগ্রেসকে ভাঙার চেষ্টা করো না কেন, দল ততই শক্তিশালী হয়ে উঠবে।’

 

মমতা আরও বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস কোনো নেতানির্ভর দল নয়, বরং এটি কর্মী-নির্ভর দল। নেতারা ভয় পেতে পারেন, কিন্তু কর্মীরা ভয় পান না। যতদিন তৃণমূলের কর্মীরা আমার সঙ্গে আছেন, ততদিন আমি দলকে নতুন করে গড়ে তুলতে থাকব।’

 

তবুও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব থেকে মমতা ও অভিষেককে সরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যদিও এই মুহূর্তে তৃণমূলে বিকল্প কোনো নেতৃত্ব দৃশ্যমান নয়, তবুও রাজনীতিতে সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখতে হয়।

 

মমতার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তৃণমূলের প্রবীণ নেতা কুণাল ঘোষ দলের বিধায়কদের উদ্দেশে একটি আবেগঘন আবেদন জানিয়েছেন।

 

যেখানে তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের বিধায়কদের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি। আমরা কেউ নিজের শক্তিতে নির্বাচন জিতে এখানে আসিনি। আমরা এখানে এসেছি তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য। নির্বাচনে আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি-পরিচিতি ব্যবহার করেছি, এবং তার অর্জিত ভোটগুলোই আমরা পেয়েছি। যদি আমাদের নিজেদের সেই শক্তি থাকত, তাহলে আমরা নিজেরাই নির্বাচন জিতে আসতে পারতাম।’

 

তবে তৃণমূল কংগ্রেসের উপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা ও দলীয় সংগঠনকে নতুন করে গড়ে তোলা সহজ কাজ হবে না। যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা ধরে রাখতে পারবেন, ততদিন দলটিরও লড়াই করে টিকে থাকার সম্ভাবনা থাকবে। নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক ঝড় হয়ত তৃণমূল কংগ্রেস সামাল দিতে পারবে, কিন্তু এর জন্য দলটিকে কী রাজনৈতিক মূল্য চুকাতে হবে, তা সময়ই বলে দেবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সড়কবাতির প্রযুক্তি শিখতে ফ্রান্সে যাচ্ছেন রাসিক প্রশাসক

মমতার হাত ফসকে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস!

আপডেট সময় ০৯:২৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন বিজেপির ভূমিধস জয়ের পর টিকে থাকার লড়াইয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। এরইমধ্যে বেশ কিছু প্রভাবশালী নেতার দলত্যাগ ও আরও অনেকের দলে থাকা নিয়ে দোটানায় এ সংশয় আরও ঘনীভূত হচ্ছে। সেই সঙ্গে তৃণমূলের নেতৃত্ব থেকে মমতাকে সরিয়ে দেওয়ার মতো সম্ভাবনা নিয়েও চলছে নানা সমীকরণ।

 

ভারতের শীর্ঘ গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-এর এক বিশ্লেষণে তৃণমূলের এমন অনিশ্চয়তার বিষয়টি উঠে এসেছে। সংকটকালীন এ পরিস্থিতি মমতা আদৌ সামাল দিতে পারবে, নাকি সবকিছু তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে তারই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে।

 

ইন্ডিয়া টুডে বলছে, মসতার নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকে থাকার প্রশ্ন এখন পুরো পশ্চিমবঙ্গ জুড়েই বহুল চর্চিত একটি বিষয়। তৃণমূল কংগ্রেস আগামী পাঁচ বছর টিকে থেকে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০৩১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির মোকাবিলা করতে পারবে কি না সে প্রশ্নই এখন বড় করে দেখা হচ্ছে। পূর্ব ভারতের এই রাজ্যটিতে অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি এখন এক বিশাল রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এবং ভবিষ্যতে তাদের প্রভাব আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে ভাঙনের লক্ষণও বেশ স্পষ্ট।

 

দলের বিদ্রোহী কয়েকজন নেতা নিজেদের মধ্যে বৈঠকে বসেছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ভাতিজা দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থানের বিরোধিতা করছেন তারা। সোমবার তৃণমূল কংগ্রেস ‘দলবিরোধী কার্যকলাপের’ অভিযোগে দুই বিধায়ক সন্দীপন সাহা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ ‘ভুল পথে পরিচালিত’ হয়ে বিদ্রোহে জড়িয়ে পড়া বিধায়কদের কাছে হাতজোড় করে দলের ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।

 

 

এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও সোমবার ফেসবুক লাইভে এসে স্বীকার করেন যে দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করার একটি ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি বলেন, এটি তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিনতম সময়গুলোর মধ্যে একটি।

 

১৯৯৮ সালে যখন তিনি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশের কোঠায়। এখন ৭১ বছর বয়সে তাকে সেই দলকেই ঐক্যবদ্ধ ও নিয়ন্ত্রণে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। গত ৩০ বছরের মধ্যে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকায় দলের নেতৃত্ব দেওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ ছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল।

 

তৃণমূল কংগ্রেসের সামনে যে সংকট, তার আভাস মূলত রবিবারই স্পষ্ট হয়ে গেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এক বৈঠকে দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে প্রায় ৬০ জনই উপস্থিত হননি।

 

তবে দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকায় অনেক বিধায়ক বৈঠকে আসতে পারেননি।

 

তবুও বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়, কারণ প্রায় ২০ জন বিধায়ক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের সঙ্গে একটি ‘অনানুষ্ঠানিক আলোচনা’ করেছেন।

 

রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন চলছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার দলের বিধায়ক ও নেতাদের একত্রে ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, টিএমসি শাসনামলে দুর্নীতির অভিযোগ, রাজনৈতিক নিপীড়নের অভিযোগ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনঅসন্তোষের মতো কারণও দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এগুলো মূলত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগের বিষয়। বিভিন্ন পক্ষ এসব নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করে।

 

কলকাতার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শিখা মুখোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের অনেক নেতার মধ্যেই এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে দলটি আর আগের মতো শক্তিশালী অবস্থানে নেই। তারা মনে করছেন, এখন নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের বিষয়টি নিয়েই তাদের ভাবতে হবে।

 

অর্থাৎ, দলের শক্তি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে কিছু নেতা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ও সম্ভাবনা নিশ্চিত করার জন্য বিকল্প পথ বা কৌশল খুঁজতে শুরু করেছেন।

 

এদিকে শনিবার সোনাপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনার পরও তুণমূল কংগ্রেসের খুব বেশি নেতা প্রকাশ্যে ওই ঘটনার নিন্দা জানাতে এগিয়ে আসেননি।

 

এদিকে সোমবারের ফেসবুক লাইভে মমতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসন তৃণমূল জনসভা করার অনুমতি দিচ্ছে না। তোমরা যতই তৃণমূল কংগ্রেসকে ভাঙার চেষ্টা করো না কেন, দল ততই শক্তিশালী হয়ে উঠবে।’

 

মমতা আরও বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস কোনো নেতানির্ভর দল নয়, বরং এটি কর্মী-নির্ভর দল। নেতারা ভয় পেতে পারেন, কিন্তু কর্মীরা ভয় পান না। যতদিন তৃণমূলের কর্মীরা আমার সঙ্গে আছেন, ততদিন আমি দলকে নতুন করে গড়ে তুলতে থাকব।’

 

তবুও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব থেকে মমতা ও অভিষেককে সরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যদিও এই মুহূর্তে তৃণমূলে বিকল্প কোনো নেতৃত্ব দৃশ্যমান নয়, তবুও রাজনীতিতে সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখতে হয়।

 

মমতার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তৃণমূলের প্রবীণ নেতা কুণাল ঘোষ দলের বিধায়কদের উদ্দেশে একটি আবেগঘন আবেদন জানিয়েছেন।

 

যেখানে তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের বিধায়কদের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি। আমরা কেউ নিজের শক্তিতে নির্বাচন জিতে এখানে আসিনি। আমরা এখানে এসেছি তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য। নির্বাচনে আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি-পরিচিতি ব্যবহার করেছি, এবং তার অর্জিত ভোটগুলোই আমরা পেয়েছি। যদি আমাদের নিজেদের সেই শক্তি থাকত, তাহলে আমরা নিজেরাই নির্বাচন জিতে আসতে পারতাম।’

 

তবে তৃণমূল কংগ্রেসের উপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা ও দলীয় সংগঠনকে নতুন করে গড়ে তোলা সহজ কাজ হবে না। যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা ধরে রাখতে পারবেন, ততদিন দলটিরও লড়াই করে টিকে থাকার সম্ভাবনা থাকবে। নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক ঝড় হয়ত তৃণমূল কংগ্রেস সামাল দিতে পারবে, কিন্তু এর জন্য দলটিকে কী রাজনৈতিক মূল্য চুকাতে হবে, তা সময়ই বলে দেবে।