কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন বিএনপি সেক্রেটারি মীর্জা আবুল হাসেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ছত্রছায়া এবং আধিপত্যের বলয় তৈরি করার জন্য দুই হাতে লুটে যাচ্ছেন সাধারণ জনগণের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা অনুদান। এমনকি দুস্থ অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সহায়তা সমূহ।
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে দুস্থ ও অসহায় সাধারণ জনগণের সহায়তার জন্য বরাদ্দকৃত মাত্র দুই হাজার টাকা তসরুপের ঘটনার মধ্য দিয়ে সম্প্রতি তিনি আলোচনায় আসেন। স্থানীয় ভাবে প্রতিটি ইউনিয়ন এবং উপজেলার জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ত্রাণ সহায়তা হিসেবে বরাদ্দ হওয়া অর্থ, ব্যক্তিগত ১৯ জন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীকে প্রদান করার পর থেকেই তিনি আলোচনায় এসেছেন। যেখানে সহায়তা গ্রহণকারী প্রতিটি ব্যক্তির শনাক্তকারী হিসেবে তালিকায় তার নাম খুঁজে পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঈদের পূর্ববর্তী মুহূর্তে সময় স্বল্পতার কারণে তাকে একটি তালিকা করতে হয়েছে, যেখানে তিনি পুরো ইউনিয়নের মধ্যে সুসমভাবে ত্রাণ সহায়তা বণ্টন করার জন্য তার পরিচিত স্থানীয় লোকের নাম উল্লেখ করেন এবং তাদের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করেন। একজন দুস্থ অসহায় লোকের সহায়তা একজন রাজনৈতিক নেতা কেন গ্রহণ করলেন জানতে চাইলে তিনি তার সদুত্তর দিতে না পেরে জানান, স্থানীয় ভাবে তদন্ত করে খবর নিন।
বিষয়টির তদন্ত করতে গিয়ে আরো নানাবিধ অনিয়ম এবং অভিযোগ উঠে আসে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক রাজনৈতিক কর্মী জানান, গ্রামীণ জনসাধারণের মধ্যে বিদ্যমান দুস্থ ও অসহায়ের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় শতাধিক টিসিবির কার্ড যথাযথ ভাবে বিতরণ না করে, ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আবুল হাসেম ব্যক্তিগত পছন্দের বিশ পঁচিশ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে প্রদান করেন। ফলে পুরো ইউনিয়নে বিগত সময়ে যে সকল দুস্থ পরিবার ত্রাণ সহায়তা ভোগ করতেন, তারা বঞ্চিত হবার পাশাপাশি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
এছাড়াও সরকারের বরাদ্দের বিভিন্ন সহায়তা ও কৃষিজ উপকরণ, যেমন সাবমার্সিবল পানির পাম্প, ধান উত্তোলনের মেশিন, কৃষক কার্ড সহ নানাবিধ জিনিসপত্র যা কিছু স্থানীয় কৃষকদেরও পাবার কথা ছিলো, সেগুলো নিজের নিকটবর্তী নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক সহযোগীদের মাধ্যমে দখল করেছেন। বিশেষ করে সাবমার্সিবল পাম্পটি তার রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠ উপজেলা যুবদলের সদস্য মোঃ সবুজ এবং ধানকাটার মেশিনটি অপর এক ঘনিষ্ঠ ইউনিয়ন যুব দলের নেতা নাদিম নামক একজনকে প্রদান করেন।
এছাড়াও তার ছত্রছায়ায় থাকা প্রতিটি নেতাকর্মীকে বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন অনৈতিক সুযোগ সুবিধা প্রদান করার মাধ্যমে তিনি একটি একক রাজনৈতিক বলয় সৃষ্টি করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন সাবেক স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কেউ কেউ। বিশেষ করে তার ইউনিয়নে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর ক্ষেত্রেও অতীতের সাবেক নেতাকর্মীরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পতিত হচ্ছেন। কেউ কেউ জানান, আবুল হাসেমের অনুমতি নিয়ে গ্রামে আসতে হবে এমন আইন রাজনৈতিক কোন কাঠামোতেই জানা ছিলো না।
তবে বিশদ ভাবে তথ্য অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা করে জানা গিয়েছে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজের অাধিপত্য এবং জনবল ভারি করার প্রয়াস নিয়েই তিনি এমনটা করে যাচ্ছেন। ফলে দুস্থ অসহায় এবং প্রকৃত সুবিধাভোগী বাদ দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের একচ্ছত্র ভাবে অবৈধ সুযোগ সুবিধা দেয়ার ফলে একদিকে যেমন দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তেমনি ভাবে নিরীহ ও বঞ্চিত মানুষের ক্ষোভ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ে।
এ বিষয়ে কথা বলার পর মুরাদনগর উপজেলা আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী যে হোক তার ব্যাপারে দল সব সময় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















