ঢাকা , বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিগত ১৮ বছরে লোভ–লালসায় পা দিইনি: তথ্যমন্ত্রী পার্থ স্বৈরাচারের সময়ে বাপেক্সকে পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী নিজের বি’রুদ্ধে অভি/যোগের প্রমাণ উন্মুক্ত করতে বললেন আসিফ মাহমুদ পে-স্কেল: ৫৩ বছরে ১৩০ থেকে পৌঁছেছে ১ লাখ ৫৬ হাজার বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ কর্মী নেওয়ার দাবি নাকচ করল মালয়েশিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বং’স করতে ইরানকে গোপনে ‘ক্ষেপ/ণা/স্ত্র’ সহায়তা করছে রাশিয়া চলন্ত ট্রেনের ক্যান্টিনে নারীকে ধ/র্ষণ, চার পুলিশ সদস্যের বি’রু’দ্ধে ব্যবস্থা গ্যাস না পেয়ে সিএনজি চালকদের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ চিকিৎসাধীন বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন কমলো এলপিজির দাম, সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর

জুমার খুতবার মাঝখানে থেমে গেলেন মসজিদে নববীর ইমাম, দিলেন সতর্কবার্তা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:২০:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • ৪৭৯ বার পড়া হয়েছে

এবার মদিনার মসজিদে নববিতে জুমার খুতবার সময় হঠাৎ বক্তব্য থামিয়ে উপস্থিত ফটোগ্রাফার ও ভিডিওগ্রাহকদের সতর্ক করেন ইমাম ড. সালাহ আলবুদাইর। তিনি বলেন, ছবি ও ভিডিও ধারণ এমনভাবে করতে হবে, যাতে মুসল্লিদের কষ্ট না হয় এবং ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

জুমার নামাজে মুসল্লিদের ভিড়ের মধ্যেই খুতবা দিচ্ছিলেন ড. সালাহ আলবুদাইর। একপর্যায়ে তিনি সংক্ষিপ্ত বিরতি নেন। এরপর চিত্রগ্রহণকারীদের উদ্দেশে স্মরণ করিয়ে দেন, পবিত্র এই স্থানে দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। ছবি বা ভিডিও ধারণ যেন কারও মনোযোগ নষ্ট না করে এবং ইবাদতের পরিবেশ ব্যাহত না হয়এ কথাই তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। খুতবার সেই মুহূর্তের ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বিষয়টিকে সময়োপযোগী বার্তা হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ পবিত্র স্থানগুলোতে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নতুন করে ভাবনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হারামাইন শরিফাইনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে মোবাইল ফোন ও ক্যামেরার ব্যবহার বেড়েছে। ওমরাহ পালনকারী, জিয়ারতকারী ও সাধারণ মুসল্লিরা স্মৃতি ধরে রাখতে কিংবা স্বজনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। ডিজিটাল যুগে এটি অনেকের কাছে স্বাভাবিক চর্চায় পরিণত হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, অতিরিক্ত চিত্রগ্রহণ কখনো কখনো ইবাদতের গভীরতা ও একাগ্রতায় প্রভাব ফেলে। নামাজ, দোয়া, তাওয়াফ বা অন্যান্য ইবাদতের সময় ক্যামেরার সামনে নিজেকে উপস্থাপনের প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, ইবাদতের লক্ষ্য একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন; তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রদর্শনের উপকরণে পরিণত হওয়া উচিত নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংযত ও শালীনভাবে স্মৃতি সংরক্ষণ এক বিষয়, কিন্তু এমনভাবে চিত্রগ্রহণ করা যা অন্যের মনোযোগ বিঘ্নিত করে বা পবিত্র পরিবেশ নষ্ট করেতা গ্রহণযোগ্য নয়। পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা, নীরবতা ও আধ্যাত্মিক আবহ রক্ষায় সচেতনতা জরুরি। পর্যবেক্ষকদের মতে, . সালাহ আলবুদাইরের সতর্কবার্তা কেবল উপস্থিত কয়েকজনের উদ্দেশে ছিল না। প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে ইবাদত ও আত্মপ্রদর্শনের সূক্ষ্ম সীমারেখা সম্পর্কে এটি বৃহত্তর মুসলিম সমাজের জন্যও একটি স্মরণিকা হয়ে উঠেছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিগত ১৮ বছরে লোভ–লালসায় পা দিইনি: তথ্যমন্ত্রী পার্থ

জুমার খুতবার মাঝখানে থেমে গেলেন মসজিদে নববীর ইমাম, দিলেন সতর্কবার্তা

আপডেট সময় ০৩:২০:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

এবার মদিনার মসজিদে নববিতে জুমার খুতবার সময় হঠাৎ বক্তব্য থামিয়ে উপস্থিত ফটোগ্রাফার ও ভিডিওগ্রাহকদের সতর্ক করেন ইমাম ড. সালাহ আলবুদাইর। তিনি বলেন, ছবি ও ভিডিও ধারণ এমনভাবে করতে হবে, যাতে মুসল্লিদের কষ্ট না হয় এবং ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

জুমার নামাজে মুসল্লিদের ভিড়ের মধ্যেই খুতবা দিচ্ছিলেন ড. সালাহ আলবুদাইর। একপর্যায়ে তিনি সংক্ষিপ্ত বিরতি নেন। এরপর চিত্রগ্রহণকারীদের উদ্দেশে স্মরণ করিয়ে দেন, পবিত্র এই স্থানে দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। ছবি বা ভিডিও ধারণ যেন কারও মনোযোগ নষ্ট না করে এবং ইবাদতের পরিবেশ ব্যাহত না হয়এ কথাই তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। খুতবার সেই মুহূর্তের ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বিষয়টিকে সময়োপযোগী বার্তা হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ পবিত্র স্থানগুলোতে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নতুন করে ভাবনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হারামাইন শরিফাইনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে মোবাইল ফোন ও ক্যামেরার ব্যবহার বেড়েছে। ওমরাহ পালনকারী, জিয়ারতকারী ও সাধারণ মুসল্লিরা স্মৃতি ধরে রাখতে কিংবা স্বজনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। ডিজিটাল যুগে এটি অনেকের কাছে স্বাভাবিক চর্চায় পরিণত হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, অতিরিক্ত চিত্রগ্রহণ কখনো কখনো ইবাদতের গভীরতা ও একাগ্রতায় প্রভাব ফেলে। নামাজ, দোয়া, তাওয়াফ বা অন্যান্য ইবাদতের সময় ক্যামেরার সামনে নিজেকে উপস্থাপনের প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, ইবাদতের লক্ষ্য একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন; তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রদর্শনের উপকরণে পরিণত হওয়া উচিত নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংযত ও শালীনভাবে স্মৃতি সংরক্ষণ এক বিষয়, কিন্তু এমনভাবে চিত্রগ্রহণ করা যা অন্যের মনোযোগ বিঘ্নিত করে বা পবিত্র পরিবেশ নষ্ট করেতা গ্রহণযোগ্য নয়। পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা, নীরবতা ও আধ্যাত্মিক আবহ রক্ষায় সচেতনতা জরুরি। পর্যবেক্ষকদের মতে, . সালাহ আলবুদাইরের সতর্কবার্তা কেবল উপস্থিত কয়েকজনের উদ্দেশে ছিল না। প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে ইবাদত ও আত্মপ্রদর্শনের সূক্ষ্ম সীমারেখা সম্পর্কে এটি বৃহত্তর মুসলিম সমাজের জন্যও একটি স্মরণিকা হয়ে উঠেছে।