ভারতের রাজস্থান রাজ্যের জয়পুরে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সমর্থকদের কাঁধে চড়ে বিক্ষোভস্থলে পৌঁছানোর সময় কয়েকজন যুবক তাকে চড় মারে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
সোমবার (১৫ জুন) ঘটনাটি ঘটে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলী রাজ্যটির বৃহত্তম শহরের শহীদ স্মারকে। সেখানে নিট (এনইইটি) প্রশ্নপত্র ফাঁস, বেকারত্ব ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণী জড়ো হয়েছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অভিজিৎ দীপকে যখন জয়পুরের শহীদ স্মারকের বিক্ষোভস্থলে পৌঁছান, তখন তার সমর্থকেরা তাকে কাঁধে তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় ভিড়ের মধ্যে থাকা কয়েকজন যুবক তাকে চড় মারে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর দীপকের সমর্থকেরা অভিযুক্তদের ধরে ফেলে এবং তাদের মারধর শুরু করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া তরুণরা দুর্নীতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার অনিয়মের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন। শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানায় সিজেপি।
বিক্ষোভ চলাকালে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতেও স্লোগান দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নিট, সিবিএসই, সিইউইটি এবং এসএসসি-সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত বলে মনে করছে সংগঠনটি।
এই আন্দোলনটি ককরোচ জনতা পার্টির উদ্যোগে পরিচালিত একটি বৃহত্তর প্রচারণার অংশ। সংগঠনটির দাবি, এটি একটি শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক আন্দোলন। এর উদ্দেশ্য শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের উদ্বেগ এবং দাবি সরকারের সামনে তুলে ধরা।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিক্ষোভের প্রস্তুতি তদারকির জন্য অভিজিৎ দীপকে রোববার গভীর রাতে জয়পুরে পৌঁছান।
প্রথমদিকে স্থানীয় প্রশাসন বিক্ষোভের অনুমতি দিতে রাজি না হলেও পরে কিছু শর্ত সাপেক্ষে অনুমতি দেয়। প্রশাসন জানায়, একসঙ্গে ৮০০ জনের বেশি মানুষকে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একইসঙ্গে সতর্ক করা হয় যে, অনুমোদিত সীমা অতিক্রম করলে বা কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই আন্দোলন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনও পেয়েছে। তিনি প্রকাশ্যে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, অভিজিৎ দীপকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি ছয় সপ্তাহের অনশন শুরু করবেন।
এর আগে সিজেপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিল, দিল্লির যন্তর মন্তরে আরেকটি প্রতিবাদের জন্য দিল্লি পুলিশ অনুমতি দিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এসব কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টি আগামী ১৬ জুন নাগপুরে আরেকটি প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ দীপকে জানান, তিনি ওই দিন নাগপুরে থাকবেন এবং ছাত্র, যুবক ও সাধারণ নাগরিকদের বিকেল ৪টায় সংবিধান চত্বরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট 



















