রাজবাড়ীর পাংশায় চিকিৎসার জন্য নিজেই একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে হাজির হয়েছে অসুস্থ একটি হনুমান। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাংশা পৌর শহরের হামিদা মেডিকেল সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাধারণ রোগীদের জন্য রাখা বেঞ্চে মাথা নিচু করে বসে আছে অসুস্থ হনুমানটি। উপস্থিত রোগী ও মেডিকেল সেন্টারের স্টাফরা হনুমানটির চারপাশে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে ছবি তুলছেন, কেউ কেউ আবার কলা খাওয়াচ্ছেন। তবে অসুস্থতার কারণে হনুমানটি কখনো মাথা নিচু করে বসে থাকছে, কখনো বেঞ্চে শুয়ে পড়ছে।
এ সময় উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা মো. মোস্তফা কামাল অভিযোগ করে বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বন বিভাগে যোগাযোগ করেও দুই ঘণ্টার বেশি সময় কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোনে জানানো হলে তিনি দ্রুত লোক পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে হনুমানটিকে হেফাজতে রাখার পরামর্শ দেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও তখনও কেউ এসে পৌঁছায়নি।
হামিদা মেডিকেল সেন্টারের মালিক আরিফুল ইসলাম বলেন, দু’দিন আগে একবার হনুমানটি ক্লিনিকে এসে হাত দিয়ে কাঁধের আঘাত দেখিয়েছিল, যেখানে আগে থেকেই কয়েকটি সেলাই দেয়া ছিল। তিনি আরও বলেন, পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকায় এক তালবিক্রেতা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হনুমানটিকে জখম করেছিলেন। মঙ্গলবার সকালেও একবার হনুমানটি ক্লিনিকে এসে দশ মিনিট পর চলে যায়, পরে বেলা সাড়ে বারোটার দিকে আবার ফিরে আসে। ক্লিনিকে প্রাণিচিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় সরাসরি চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি, তবে প্রাণিসম্পদ ও বন বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক বলেন, হনুমানটি মানুষ না হলেও মানুষের মতোই সবকিছু বোঝে। এর হাতে আগে দেওয়া সেলাইয়ের জায়গায় নতুন করে সংক্রমণ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাণীটিকে জেলা শহরে পাঠানোর জন্য খাঁচা আনা হলেও খাঁচার মুখ ছোট হওয়ায় তা কাটার জন্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে হনুমানটিকে ব্যথানাশক ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে।
পাংশা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পৃথ্বীজ কুমার দাস জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকায় কেউ একজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হনুমানটিকে জখম করে। পরে বন বিভাগ আহত হনুমানটিকে উদ্ধার করে নিয়ে এলে তারা সেলাই করে দেন এবং এক সপ্তাহ আগে হনুমানটিকে অবমুক্ত করা হয়। সেলাইয়ের স্থানে নতুন করে সংক্রমণ হওয়ায় হনুমানটি উপজেলার একটি ক্লিনিকে চলে যায়। খবর পেয়ে তাদের ভেটেরিনারি সার্জন গিয়ে চিকিৎসা দেন এবং প্রয়োজনীয় প্রেসক্রিপশন করে দেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























