চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে ‘সম্পর্কে’ জড়িয়ে শেষমেশ চাকরি হারিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে। এরপরই আলোচনায় উঠে এসেছে ২০২১ সালের তাদের বহুল আলোচিত সেই ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি। যদিও বাংলা চলচ্চিত্রের এই অভিনেত্রী পরে দাবি করেছিলেন, সাকলায়েনের জন্য তার খারাপ লাগছে এবং তিনি ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার। ২০২৪ সালের ২৫ জুনের সেই সাক্ষাৎকারটি এখন নতুন করে একাধিক গণমাধ্যমের শিরোনামে এসেছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) সাকলায়েন ইস্যুতে অভিনেত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। যদিও প্রসঙ্গটি মুঠোফোনে শুনে তিনি কথা বলতে অনীহা দেখান। পরে এ অভিনেত্রী বলেন, এটা কোনো কথা বলার বিষয় নয়। এ বিষয়ে কথা বলতে চাই না।
ঘটনাক্রমে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৪ জুন ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। সেই মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান ডিএমপির তৎকালীন এডিসি সাকলায়েন।
তবে পরবর্তীতে পরীমণির সঙ্গে সাকলায়েনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগ সামনে এলে তাকে তদন্ত কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার করা হয়। ওই সময় একাধিক গণমাধ্যমে বলা হয়, এডিসি সাকলায়েনের সরকারি বাসায় প্রায় ১৮ ঘণ্টা সময় কাটান পরীমনি। এরপরই ডিএমপি সাকলায়েনকে ডিবি থেকে পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) পশ্চিম বিভাগে বদলি করে। একই সঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল।
সম্পর্কের অভিযোগ নিয়ে চলা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সে সময় এক সাক্ষাৎকারে পরীমণি বলেন, এটি ব্যক্তিগত আক্রোশের ফল হতে পারে। এটা প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্কের কারণে হয়েছে— আমি তা বিশ্বাস করি না। সাধারণত কেউ সফল হলে তাকে ঘিরে নানা ধরনের আলোচনা তৈরি হয়। সাকলায়েন একজন দক্ষ ও সফল কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধেও এমন কিছু হতে পারে।
সাকলায়েনের বিরুদ্ধে নেয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থাটি তার কাছে অস্বাভাবিক ও অন্যায্য মনে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাকলায়েনের জন্য খারাপ লাগছে।
সেই ঘটনার পর ২০২৬ সালের ১৮ জুন পুলিশ কর্মকর্তা সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল সরকার। সবশেষ ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















