ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আশুরার দিনে ন্যায়বিচারের জন্য লড়াইয়ের আহ্বান মামদানির প্রধানমন্ত্রীর সফরে মালয়েশিয়া-চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়েছে: মির্জা ফখরুল নিজের ছবিসহ নতুন পাসপোর্টের নকশা প্রকাশ করলেন ট্রাম্প ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে দেখতে পাগলা মসজিদের দানবক্সে চিঠি ফ্রান্সের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল বুর্কিনা ফাসো প্রধান শিক্ষিকার ব্যাগে মিলল শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত ডিম-রুটি ‘এখন আল্লাহ ছাড়া আমার কেউ নেই’, মা ও তিন বোনের জানাজায় সিফাত লণ্ডভণ্ড ভেনেজুয়েলায় আবারও ভূমিকম্প আঘাত ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত্যু ৯০০ ছাড়াল, নিখোঁজ ৫০ হাজারের বেশি যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিবাদে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় ইরানের হামলা

‘এখন আল্লাহ ছাড়া আমার কেউ নেই’, মা ও তিন বোনের জানাজায় সিফাত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

এবার লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার মা ও তার তিন মেয়ের জানাজা শেষে কুমিল্লার হোমনা পৌরসভার লাটিয়া গ্রামে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ১১টার দিকে লাটিয়া গ্রামের ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীপাড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ঢুকে শাহীনুর বেগম (৩৮), তার তিন মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ফাতেমা আক্তার শিফাকে (১০) কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

এদিকে নিহত শাহীনুরের স্বামী কামাল হোসেন প্রায় সাত বছর আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। জীবিকার তাগিদে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে সিলভারের হাঁড়িপাতিল বিক্রি করতেন তিনি। স্বামীর মৃত্যুর পর চার সন্তানকে নিয়ে রায়পুরেই থেকে যান শাহীনুর। গৃহকর্মীর কাজ এবং আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত শাহীনুরের বেঁচে থাকা একমাত্র ছেলে জুনাইদ ইসলাম সিফাত অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে রায়পুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। একাদশ শ্রেণিতে পড়ার পাশাপাশি স্থানীয় একটি রডসিমেন্টের দোকানে সাত হাজার টাকা বেতনে কাজ করে সিফাত। ঘটনার সময় দোকানে থাকায় প্রাণে বেঁচে যায়।

জানাজায় উপস্থিত সিফাতের প্রতিবেশী চাচা অ্যাডভোকেট আজিজ মোল্লা বলেন, ‘এমন হৃদয়বিদারক জানাজা আমি জীবনেও পড়িনি। আজ সিফাত সম্পূর্ণ অসহায়। সে তার মা ও তিন বোনকে হারিয়েছে। আমরা সবাই সিফাতের পাশে থাকব এবং তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে মূল ঘাতকের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।নিহত তিন বোনই লেখাপড়ায় অত্যন্ত মেধাবী ছিল বলে জানান তিনি।

বেঁচে থাকা সন্তান সিফাত বলেন, ‘আমার মতো যেন আর কারও বুক খালি না হয়। আজ আমি আমার মা ও তিন বোনকে বিদায় দিচ্ছি। এর আগেই বাবাকে হারিয়েছিলাম। এখন আল্লাহ ছাড়া আমার আর কেউ নেই।এর আগে, একইদিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীর পাড় সড়কে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় রায়পুরের বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।

জানাজা শেষে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, ‘চারজনকে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও নেপথ্যের রহস্য উদ্ঘাটনে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আশুরার দিনে ন্যায়বিচারের জন্য লড়াইয়ের আহ্বান মামদানির

‘এখন আল্লাহ ছাড়া আমার কেউ নেই’, মা ও তিন বোনের জানাজায় সিফাত

আপডেট সময় ১১:০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

এবার লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার মা ও তার তিন মেয়ের জানাজা শেষে কুমিল্লার হোমনা পৌরসভার লাটিয়া গ্রামে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ১১টার দিকে লাটিয়া গ্রামের ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীপাড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ঢুকে শাহীনুর বেগম (৩৮), তার তিন মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ফাতেমা আক্তার শিফাকে (১০) কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

এদিকে নিহত শাহীনুরের স্বামী কামাল হোসেন প্রায় সাত বছর আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। জীবিকার তাগিদে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে সিলভারের হাঁড়িপাতিল বিক্রি করতেন তিনি। স্বামীর মৃত্যুর পর চার সন্তানকে নিয়ে রায়পুরেই থেকে যান শাহীনুর। গৃহকর্মীর কাজ এবং আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত শাহীনুরের বেঁচে থাকা একমাত্র ছেলে জুনাইদ ইসলাম সিফাত অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে রায়পুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। একাদশ শ্রেণিতে পড়ার পাশাপাশি স্থানীয় একটি রডসিমেন্টের দোকানে সাত হাজার টাকা বেতনে কাজ করে সিফাত। ঘটনার সময় দোকানে থাকায় প্রাণে বেঁচে যায়।

জানাজায় উপস্থিত সিফাতের প্রতিবেশী চাচা অ্যাডভোকেট আজিজ মোল্লা বলেন, ‘এমন হৃদয়বিদারক জানাজা আমি জীবনেও পড়িনি। আজ সিফাত সম্পূর্ণ অসহায়। সে তার মা ও তিন বোনকে হারিয়েছে। আমরা সবাই সিফাতের পাশে থাকব এবং তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে মূল ঘাতকের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।নিহত তিন বোনই লেখাপড়ায় অত্যন্ত মেধাবী ছিল বলে জানান তিনি।

বেঁচে থাকা সন্তান সিফাত বলেন, ‘আমার মতো যেন আর কারও বুক খালি না হয়। আজ আমি আমার মা ও তিন বোনকে বিদায় দিচ্ছি। এর আগেই বাবাকে হারিয়েছিলাম। এখন আল্লাহ ছাড়া আমার আর কেউ নেই।এর আগে, একইদিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীর পাড় সড়কে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় রায়পুরের বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।

জানাজা শেষে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, ‘চারজনকে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও নেপথ্যের রহস্য উদ্ঘাটনে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।