সিলেটের গোয়াইনঘাটে মসজিদের ইমাম ও মসজিদ কমিটির সভাপতির পদ বাতিল সংক্রান্ত বিরোধের জেরে জুমার নামাজের পর দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) জুমার নামাজের পর উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের উপরগ্রাম পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ সংলগ্ন রাস্তায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে সভাপতি পক্ষের আহতরা হলেন- মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি ফারুক আহমদ, বিলাল হোসেন, আবুল হোসেন, মাসুম আহমেদ, এরশাদ মিয়া, সাবিদ ইবনে আবুল, সুমন আহমদ, সজিব আহমদ, সাদ্দাম হোসেন, রবিউল আহমদ ও কয়েছ আহমেদ।
অপরদিকে, কমিটির সহ-সভাপতি মুসাহিদ আলী মাস্টারের পক্ষের আহতরা হলেন- সুমন আহমদ, লোকমান, রাজু, তোফায়েল, কিবরিয়া ও আরিফ মিয়া। আহতরা বর্তমানে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি মুশাহিদ আলী জানান, গত দুই সপ্তাহ আগে বর্তমান সভাপতি গোলাম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রামের বিল্লাল হোসেন একটি লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু সেই অভিযোগের বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। এ নিয়ে গত শুক্রবার রাতে গ্রামের মুরব্বিরা বৈঠকে বসেন। বৈঠকে প্রথমে নতুন ইমাম রাখার বিষয়ে আলোচনা উঠলে সভাপতি দাবি করেন, আগের ইমাম সাহেবকে গ্রামের নিয়াজ উদ্দিন গালাগালি করায় তিনি চলে গেছেন। কিন্তু সমাজের সবাই জানে ইমাম সাহেব অন্যত্র ভালো চাকরি পাওয়ায় চলে গেছেন। এরপর বিল্লাল যখন সভাপতির বিরুদ্ধে মূল অভিযোগটি তুলতে যান, তখন সভাপতি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বাইরের মুরব্বি ছাড়া বিচার হবে না বলে সবাইকে গালাগালি শুরু করেন। এতে বৈঠকটি ভেঙে যায়।
মুশাহিদ আলী আরও জানান, গতকাল জুমার নামাজের পর মসজিদের নতুন ইমাম নিয়োগের বিষয়ে কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি মনির মিয়া মতামত প্রকাশ করলে বর্তমান সভাপতি তাতে বাধা দেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মসজিদের বাইরে বের হওয়া মাত্রই সভাপতির হুকুমে তার লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের পক্ষের ৬ জন গুরুতর আহত হন।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে মসজিদ কমিটির সভাপতি গোলাম হোসেন বলেন, ২০২৩ সাল থেকে গ্রামবাসী আমাকে মসজিদের সভাপতির দায়িত্ব দেয়। প্রতিপক্ষের লোকেরা দীর্ঘদিন কমিটির দায়িত্বে থেকে মসজিদের ১৭ লাখ টাকার মধ্যে ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই টাকা উদ্ধার করি এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজ করিয়েছি। মূলত এ কারণেই তারা আমার ওপর ক্ষিপ্ত।
ইমামের বিদায়ের বিষয়ে সভাপতি বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে জুমার নামাজে ইমাম সাহেব সুদ ও ঘুষের বিরুদ্ধে ওয়াজ করায় সমাজের নিয়াজ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি তাকে গালিগালাজ করেন। ইমাম সাহেব আমার কাছে বিচার দেওয়ার পর ক্ষোভে চাকরি ছেড়ে চলে যান। গতকাল নতুন ইমাম আনার আগে আমি শুধু ওই ইমামের অপমানের বিচার দাবি করেছিলাম। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে সুমন ও মুশাহিদের লোকজন আমাদের ওপর চড়াও হয়। জুমার নামাজ শেষে আমরা বাড়ি ফেরার পথে তারা অতর্কিত হামলা চালায়। আমাদের লোকজন তাদের প্রতিহত করতে গেলে ১১ জন আহত হন। এ বিষয়ে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
বিছনাকান্দি ইউনিয়নের বিট অফিসার ও গোয়াইনঘাট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অমিত সিংহ কালবেলাকে জানান, জুমার নামাজের পর মসজিদ কমিটির দ্বন্দ্ব নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক কালবেলাকে বলেন, মসজিদ কমিটি ও ইমামকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















