ঢাকা , সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘শিক্ষকতা সদকায়ে জারিয়া অর্জনের অন্যতম বড় মাধ্যম’-শিক্ষামন্ত্রী ব্রাজিলের বিদায়ের পর আর্জেন্টাইন সমর্থক মাশরাফির আবেগঘন বার্তা ইসরাইলে গৃহযুদ্ধের ‘বাস্তব’ আশঙ্কা দেখছেন ৬০ শতাংশ নাগরিক বেতনের ১০ শতাংশ গরীবদের জন্য সরকারি কোষাগারে ফিরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী ‘এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ’—বিদায়ের ইঙ্গিত দিলেন রোনালদো খামেনির মরদেহ ইরাকে নেওয়া হচ্ছে কেন? লাল কার্ড দেখার পরও খেলবেন যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়, ফিফাকে ধন্যবাদ ট্রাম্পের ‘ফিলিস্তিনের সমর্থনের কারণেই খামেনিকে হত্যা করা হয়েছে’ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি চীনকেও কাছে টানছে বাংলাদেশ ইরানি নেতাদের নিশ্চিহ্ন করার হুমকি ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

খামেনির মরদেহ ইরাকে নেওয়া হচ্ছে কেন?

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:০৯:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ আগামী ৮ জুলাই ইরাকের কারবালা ও নাজাফে নেওয়া হবে। সেখানে রাষ্ট্রীয় সমন্বয় এবং পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিটস বা পিএমইউএর সহযোগিতায় বড় পরিসরে বিশেষ শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তার মরদেহ আবার ইরানের মাশহাদে ফিরিয়ে আনা হবে দাফনের জন্য। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছেএকজন ইরানি নেতার শেষ বিদায়ের এত গুরুত্বপূর্ণ অংশ কেন প্রতিবেশী দেশ ইরাকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে? বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় বা ধর্মীয় নেতাদের জানাজা ও শোকানুষ্ঠান কেবল বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি রাজনৈতিক বৈধতা, নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা এবং মিত্রদের ঐক্য প্রদর্শনেরও একটি বড় মাধ্যম। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ইরাকে খামেনির শোকানুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে ইরান মূলত তার আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক ও সমর্থনের বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চায়।

ইরাকের এই গুরুত্বের পেছনে আরেকটি বড় ধর্মীয় কারণও রয়েছে। দেশটির কারবালা ও নাজাফ শহর শিয়া ইসলামের অন্যতম প্রধান পবিত্র কেন্দ্র। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই অঞ্চল শিয়া ধর্মীয় শিক্ষা ও নেতৃত্বের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ইতিহাসে কাজার রাজবংশের কয়েকজন ইরানি শাসকও কারবালায় সমাহিত হয়েছিলেন। ফলে খামেনির স্মরণানুষ্ঠান সেখানে আয়োজনের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উত্তরাধিকারকে সামগ্রিক শিয়া ঐতিহ্যের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করার একটি বড় প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব নানা ধরনের কৌশলগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সিরিয়ায় তাদের অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়েছে, লেবাননে চাপ বেড়েছে এবং ইরাকে পিএমইউকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার নতুন উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। এমন এক জটিল প্রেক্ষাপটে ইরাকে এই বড় পরিসরের শোকানুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে তেহরান দেখাতে চায় যে তাদের আঞ্চলিক মিত্ররা এখনো পুরোপুরি ঐক্যবদ্ধ। একই সঙ্গে এই সম্পর্ক যে শুধু সামরিক নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক ভিত্তিতেও অত্যন্ত দৃঢ়সেই বার্তাও দেওয়া হচ্ছে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, খামেনির জানাজা ও শেষ বিদায়ের এই আনুষ্ঠানিকতা তার মৃত্যুর প্রায় চার মাস পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরই মধ্যে বিশ্ব রাজনীতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে; ইরান আবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একধরনের আলোচনা শুরু করেছে, উপসাগরীয় দেশগুলো আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে এবং ইরাকও নিজেকে সামগ্রিক সংঘাত থেকে দূরে রাখার নীতি অনুসরণ করছে। তাই বিশ্লেষকদের মতে, এই শোকানুষ্ঠান শুধু একজন প্রয়াত নেতার প্রতি সাধারণ শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতায় ইরানের বর্তমান অবস্থান, প্রভাব এবং আঞ্চলিক শক্তি প্রদর্শনেরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘শিক্ষকতা সদকায়ে জারিয়া অর্জনের অন্যতম বড় মাধ্যম’-শিক্ষামন্ত্রী

খামেনির মরদেহ ইরাকে নেওয়া হচ্ছে কেন?

আপডেট সময় ০৩:০৯:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ আগামী ৮ জুলাই ইরাকের কারবালা ও নাজাফে নেওয়া হবে। সেখানে রাষ্ট্রীয় সমন্বয় এবং পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিটস বা পিএমইউএর সহযোগিতায় বড় পরিসরে বিশেষ শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তার মরদেহ আবার ইরানের মাশহাদে ফিরিয়ে আনা হবে দাফনের জন্য। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছেএকজন ইরানি নেতার শেষ বিদায়ের এত গুরুত্বপূর্ণ অংশ কেন প্রতিবেশী দেশ ইরাকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে? বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় বা ধর্মীয় নেতাদের জানাজা ও শোকানুষ্ঠান কেবল বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি রাজনৈতিক বৈধতা, নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা এবং মিত্রদের ঐক্য প্রদর্শনেরও একটি বড় মাধ্যম। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ইরাকে খামেনির শোকানুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে ইরান মূলত তার আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক ও সমর্থনের বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চায়।

ইরাকের এই গুরুত্বের পেছনে আরেকটি বড় ধর্মীয় কারণও রয়েছে। দেশটির কারবালা ও নাজাফ শহর শিয়া ইসলামের অন্যতম প্রধান পবিত্র কেন্দ্র। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই অঞ্চল শিয়া ধর্মীয় শিক্ষা ও নেতৃত্বের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ইতিহাসে কাজার রাজবংশের কয়েকজন ইরানি শাসকও কারবালায় সমাহিত হয়েছিলেন। ফলে খামেনির স্মরণানুষ্ঠান সেখানে আয়োজনের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উত্তরাধিকারকে সামগ্রিক শিয়া ঐতিহ্যের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করার একটি বড় প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব নানা ধরনের কৌশলগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সিরিয়ায় তাদের অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়েছে, লেবাননে চাপ বেড়েছে এবং ইরাকে পিএমইউকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার নতুন উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। এমন এক জটিল প্রেক্ষাপটে ইরাকে এই বড় পরিসরের শোকানুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে তেহরান দেখাতে চায় যে তাদের আঞ্চলিক মিত্ররা এখনো পুরোপুরি ঐক্যবদ্ধ। একই সঙ্গে এই সম্পর্ক যে শুধু সামরিক নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক ভিত্তিতেও অত্যন্ত দৃঢ়সেই বার্তাও দেওয়া হচ্ছে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, খামেনির জানাজা ও শেষ বিদায়ের এই আনুষ্ঠানিকতা তার মৃত্যুর প্রায় চার মাস পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরই মধ্যে বিশ্ব রাজনীতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে; ইরান আবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একধরনের আলোচনা শুরু করেছে, উপসাগরীয় দেশগুলো আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে এবং ইরাকও নিজেকে সামগ্রিক সংঘাত থেকে দূরে রাখার নীতি অনুসরণ করছে। তাই বিশ্লেষকদের মতে, এই শোকানুষ্ঠান শুধু একজন প্রয়াত নেতার প্রতি সাধারণ শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতায় ইরানের বর্তমান অবস্থান, প্রভাব এবং আঞ্চলিক শক্তি প্রদর্শনেরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।