ঢাকা , বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘জুলাই সনদ নিয়ে জাতির সঙ্গে অন্তহীন প্রতারণা করছে সরকার’— জামায়াত আমির প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত্রিযাপন না করার পরামর্শ কর্নেল অলির আমরা ইরানের ‘বিপজ্জনক’ ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালিয়েছি: ট্রাম্প ভবিষ্যতে জনগণ আর রাজনীতিবিদদের সম্মান করবে না: জামায়াত আমির প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজে সমর্থন দেশের ৭৫.৩ শতাংশ মানুষের ফাউল হলে তখনই কেন খেলা থামানো হল না, প্রশ্ন মরিনহোর যুদ্ধবিরতি ভাঙলে মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু হবে: ইরান আর্জেন্টিনার জয় যেন দিনের আলোয় ডাকাতি: জোসে মরিনিয়ো বহিষ্কারের পরেও যদি কেউ অপকর্ম করে সে দায় যুবদলের নয়: যুবদল সভাপতি শেষ মুহূর্তে যান্ত্রিক ত্রুটির বার্তা, এরপরই যাত্রীসহ নিখোঁজ পাকিস্তানের বিমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজে সমর্থন দেশের ৭৫.৩ শতাংশ মানুষের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৩৮:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দায়িত্ব পালনের ধরনকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছেন দেশের তিনচতুর্থাংশের বেশি মানুষ। নতুন এক জাতীয় জনমত জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। জরিপটি পরিচালনা করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডেল্টাগ্রাম। জরিপে অংশ নেওয়া ৩ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক উত্তরদাতার মধ্যে ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের কাজের ধরন তারা সমর্থন করেন। বিপরীতে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আর ৭ দশমিক ২ শতাংশ এ বিষয়ে কোনো মত দেননি। ডেল্টাগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত দেশজুড়ে এ জরিপ পরিচালিত হয়। বিএনপি সরকার গঠনের প্রায় চার মাস পর এই জনমত যাচাই করা হয়। জরিপে দেখা গেছে, বিভাগভিত্তিক হিসাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি সমর্থন সবচেয়ে বেশি রংপুর বিভাগে, যেখানে অনুমোদনের হার ৮৩ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে কম সমর্থন পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে এ হার ৭০ দশমিক ৪ শতাংশ।

গ্রামাঞ্চলে সরকারের প্রতি সমর্থন শহরের তুলনায় বেশি। জরিপে গ্রামীণ এলাকার ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। শহরাঞ্চলে এই হার ৭০ দশমিক ১ শতাংশ। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণেও সমর্থনের হার প্রায় একই রকম থাকলেও ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এটি তুলনামূলক কম, ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ। জরিপে উঠে এসেছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার শুরুর দিকেই উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন পেয়েছে।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের মাধ্যমে গঠিত সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা নির্ধারণ এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়ও রয়েছে। ডেল্টাগ্রাম জানিয়েছে, জরিপটি পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নসবই প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন হয়েছে। কোনো বেসরকারি জরিপ সংস্থার সহায়তা নেওয়া হয়নি। জরিপকারীদের প্রশ্নপত্র পরিচালনা ও নমুনা নির্বাচন পদ্ধতি বিষয়ে ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হওয়া, অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি এবং যোগাযোগ ব্যর্থতার তথ্যও সংরক্ষণ করা হয়েছে।

তবে বিভাগভিত্তিক ফলাফল ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। বিশেষ করে রংপুর ও ঢাকার মধ্যে সমর্থনের ব্যবধান পুরোপুরি জনমতের প্রকৃত পার্থক্য নাও হতে পারে। কারণ বিভাগভিত্তিক নমুনা জাতীয় নমুনার তুলনায় অনেক ছোট হওয়ায় সেখানে পরিসংখ্যানগত বিচ্যুতির সম্ভাবনা বেশি থাকে। জরিপের ৭০ শতাংশ সাক্ষাৎকার সরাসরি এবং ৩০ শতাংশ মোবাইল ফোনে নেওয়া হয়েছে। সরাসরি সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৮ শতাংশ, আর ফোনে নেওয়া সাক্ষাৎকারে ছিল ৭৪ দশমিক ১ শতাংশ। গবেষকরা বলছেন, এই পার্থক্য পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সরকার পরিবর্তনের পরপরই সরাসরি সাক্ষাৎকারে উত্তরদাতারা সামাজিক বা রাজনৈতিক কারণে কিছুটা সতর্কভাবে মতপ্রকাশ করতে পারেনএ সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ডেল্টাগ্রাম জানিয়েছে, জরিপে দুই ধাপের স্তরভিত্তিক সম্ভাব্যতা নমুনা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। দেশের আটটি বিভাগের ১৫০টি প্রাথমিক নমুনা এলাকা থেকে প্রতিটিতে ২০টি করে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। মোট উত্তরদাতার সংখ্যা ছিল ৩ হাজার। জরিপের সাড়া দেওয়ার হার ছিল ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ। গবেষকদের হিসাবে, নমুনা নির্বাচন ও পরিসংখ্যানগত সমন্বয় বিবেচনায় জাতীয় পর্যায়ে এই জরিপের সম্ভাব্য ত্রুটির সীমা ৯৫ শতাংশ নির্ভরযোগ্যতায় প্রায় ±২ দশমিক ১ থেকে ±২ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে বিভাগভেদে এই ত্রুটির সীমা আরো বেশি হতে পারে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘জুলাই সনদ নিয়ে জাতির সঙ্গে অন্তহীন প্রতারণা করছে সরকার’— জামায়াত আমির

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজে সমর্থন দেশের ৭৫.৩ শতাংশ মানুষের

আপডেট সময় ০২:৩৮:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দায়িত্ব পালনের ধরনকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছেন দেশের তিনচতুর্থাংশের বেশি মানুষ। নতুন এক জাতীয় জনমত জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। জরিপটি পরিচালনা করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডেল্টাগ্রাম। জরিপে অংশ নেওয়া ৩ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক উত্তরদাতার মধ্যে ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের কাজের ধরন তারা সমর্থন করেন। বিপরীতে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আর ৭ দশমিক ২ শতাংশ এ বিষয়ে কোনো মত দেননি। ডেল্টাগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত দেশজুড়ে এ জরিপ পরিচালিত হয়। বিএনপি সরকার গঠনের প্রায় চার মাস পর এই জনমত যাচাই করা হয়। জরিপে দেখা গেছে, বিভাগভিত্তিক হিসাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি সমর্থন সবচেয়ে বেশি রংপুর বিভাগে, যেখানে অনুমোদনের হার ৮৩ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে কম সমর্থন পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে এ হার ৭০ দশমিক ৪ শতাংশ।

গ্রামাঞ্চলে সরকারের প্রতি সমর্থন শহরের তুলনায় বেশি। জরিপে গ্রামীণ এলাকার ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। শহরাঞ্চলে এই হার ৭০ দশমিক ১ শতাংশ। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণেও সমর্থনের হার প্রায় একই রকম থাকলেও ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এটি তুলনামূলক কম, ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ। জরিপে উঠে এসেছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার শুরুর দিকেই উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন পেয়েছে।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের মাধ্যমে গঠিত সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা নির্ধারণ এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়ও রয়েছে। ডেল্টাগ্রাম জানিয়েছে, জরিপটি পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নসবই প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন হয়েছে। কোনো বেসরকারি জরিপ সংস্থার সহায়তা নেওয়া হয়নি। জরিপকারীদের প্রশ্নপত্র পরিচালনা ও নমুনা নির্বাচন পদ্ধতি বিষয়ে ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হওয়া, অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি এবং যোগাযোগ ব্যর্থতার তথ্যও সংরক্ষণ করা হয়েছে।

তবে বিভাগভিত্তিক ফলাফল ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। বিশেষ করে রংপুর ও ঢাকার মধ্যে সমর্থনের ব্যবধান পুরোপুরি জনমতের প্রকৃত পার্থক্য নাও হতে পারে। কারণ বিভাগভিত্তিক নমুনা জাতীয় নমুনার তুলনায় অনেক ছোট হওয়ায় সেখানে পরিসংখ্যানগত বিচ্যুতির সম্ভাবনা বেশি থাকে। জরিপের ৭০ শতাংশ সাক্ষাৎকার সরাসরি এবং ৩০ শতাংশ মোবাইল ফোনে নেওয়া হয়েছে। সরাসরি সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৮ শতাংশ, আর ফোনে নেওয়া সাক্ষাৎকারে ছিল ৭৪ দশমিক ১ শতাংশ। গবেষকরা বলছেন, এই পার্থক্য পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সরকার পরিবর্তনের পরপরই সরাসরি সাক্ষাৎকারে উত্তরদাতারা সামাজিক বা রাজনৈতিক কারণে কিছুটা সতর্কভাবে মতপ্রকাশ করতে পারেনএ সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ডেল্টাগ্রাম জানিয়েছে, জরিপে দুই ধাপের স্তরভিত্তিক সম্ভাব্যতা নমুনা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। দেশের আটটি বিভাগের ১৫০টি প্রাথমিক নমুনা এলাকা থেকে প্রতিটিতে ২০টি করে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। মোট উত্তরদাতার সংখ্যা ছিল ৩ হাজার। জরিপের সাড়া দেওয়ার হার ছিল ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ। গবেষকদের হিসাবে, নমুনা নির্বাচন ও পরিসংখ্যানগত সমন্বয় বিবেচনায় জাতীয় পর্যায়ে এই জরিপের সম্ভাব্য ত্রুটির সীমা ৯৫ শতাংশ নির্ভরযোগ্যতায় প্রায় ±২ দশমিক ১ থেকে ±২ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে বিভাগভেদে এই ত্রুটির সীমা আরো বেশি হতে পারে।