কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে টানা ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। মাত্র তিন দিনে পাহাড়ধস, আকস্মিক বন্যা, জলাবদ্ধতা ও ঝড়ো হাওয়ায় প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন। আহত হয়েছেন আরও ১০ জন, আর সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ১৬ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী।
ইন্টার সেক্টর ফ্ল্যাশ সিচুয়েশন আপডেট অনুযায়ী, ৪ থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে ৩৩টি ক্যাম্পে মোট ১৬০টি দুর্যোগজনিত ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল পাহাড়ধস, ঝড়, আকস্মিক বন্যা, পানিতে ডুবে যাওয়া এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা।
নিহতদের মধ্যে আটজন পাহাড়ধসে এবং দুজন পানিতে ডুবে মারা গেছেন। নতুন দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ৩ হাজার ১৮২ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজার ৬১৪টি আশ্রয়কেন্দ্র এবং সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে আরও ১০টি। পাশাপাশি শত শত সড়ক, সেতু, শিক্ষা কেন্দ্র, ল্যাট্রিন, পানির উৎস ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক ক্যাম্পে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও জরুরি সেবায় বিঘ্ন ঘটছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি এলাকার মাটি নরম হয়ে পড়ায় নতুন করে পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসও রয়েছে।
এদিকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শত শত শিক্ষাকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক জায়গায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে। কিছু লার্নিং সেন্টার আবার ঘরহারা পরিবারগুলোর অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও সব স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু রয়েছে, তবুও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় চিকিৎসা ও উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, চলমান সংকট মোকাবিলায় অর্থসংকট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রয়োজনীয় তহবিলের বড় অংশ এখনো নিশ্চিত না হওয়ায় পাহাড়ধস প্রতিরোধ, নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা এবং জরুরি মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























