বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিনে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে প্রায় হারিয়েই দিয়েছিল মিশর। কিন্তু বিতর্কিত ভিএআর সিদ্ধান্ত, শেষ মুহূর্তের নাটকীয় প্রত্যাবর্তন এবং ম্যাচ শেষে মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসানের এক্স ইশারা পুরো ম্যাচ নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে মোহাম্মদ সালাহর দুর্দান্ত আক্রমণ থেকে গোল করে মিশরকে এগিয়ে দেন মোস্তাফা জিকো। এর আগে জিকোর আরেকটি গোল ভিএআর পর্যালোচনার মাধ্যমে বাতিল করে দেন রেফারি। অভিযোগ ওঠে, গোল হওয়ার অনেক আগে ঘটে যাওয়া একটি সামান্য ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করা হয়েছে।
যদিও কিছুক্ষণ পর জিকো আবারও গোল করে মিশরকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন, এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসি একটি গোল শোধ করেন, আর শেষ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের শেষদিকে মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের সামনে দুই হাত ক্রস করে ‘এক্স’ চিহ্ন দেখান। তবে রেফারি সেটি গ্রহণ না করে উল্টো হাসানকে হলুদ কার্ড দেখান। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, ফিফার নির্ধারিত ‘এক্স’ সংকেত কেন কার্যকর করা হয়নি।
২০২৪ সালে ফিফা বর্ণবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করতে ‘এক্স’ সংকেত চালু করে। কোনো খেলোয়াড়, কোচ বা দলের কর্মকর্তা যদি ম্যাচ চলাকালে বর্ণবাদী বা বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হন কিংবা তা প্রত্যক্ষ করেন, তাহলে দুই হাত ক্রস করে ‘এক্স’ চিহ্ন দেখিয়ে রেফারিকে বিষয়টি জানাতে পারেন।
রেফারি সংকেতটি গ্রহণ করলে তিন ধাপের প্রোটোকল কার্যকর হওয়ার কথা-
* প্রথমে খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ করে স্টেডিয়ামে সতর্কবার্তা দেয়া হয়।
* পরিস্থিতির উন্নতি না হলে খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরে পাঠিয়ে ম্যাচ স্থগিত করা হয়।
* এরপরও বৈষম্যমূলক আচরণ চলতে থাকলে ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হতে পারে।
তবে মিশর-আর্জেন্টিনা ম্যাচে এই প্রক্রিয়ার কোনো ধাপই অনুসরণ করা হয়নি। ফিফাও এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
ম্যাচ শেষে বেইন স্পোর্টসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে হোসাম হাসান দাবি করেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আর্জেন্টিনা বিশেষ সুবিধা পেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘হয়তো তারা চেয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা টুর্নামেন্টে টিকে থাকুক। হয়তো তারা চেয়েছিল লিওনেল মেসি প্রতিযোগিতায় থাকুক। ফুটবলে কখনো কখনো এমন কিছু বিষয় থাকে, যা শুধুমাত্র মাঠের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি রেফারিকে বলেছিলাম, যা হচ্ছে তা ন্যায়সংগত নয়। এটি আর্জেন্টিনার প্রাপ্য জয় ছিল না। দেশে ফিরে আমি আর কখনও বিশ্বকাপ দেখব না, কারণ এই প্রতিযোগিতায় কোনো ন্যায়বিচার নেই।’
মিশরের গোলদাতা মোস্তাফা জিকোও অভিযোগ করেন, রেফারির সিদ্ধান্ত তাদের ঐতিহাসিক জয় থেকে বঞ্চিত করেছে। জিকোর বাতিল হওয়া গোলের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সমর্থক অভিযোগ করেন, ভিএআরের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















