ঢাকা , শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
৫ মাস পূর্ণ করলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকলে ইসরায়েল ছাড়বে এক-চতুর্থাংশ ইহুদি ভুলে ‘জয় বাংলা’ বলা এনসিপি নেতা বললেন, ‘জীবনেও আওয়ামী লীগ করিনি’ নতুন বউ নিয়ে ফেরার পথে সড়কে ঝরল ২ প্রাণ শেখ হাসিনা নিজেই ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন: রণধীর জয়সওয়াল মোবাইল চোরকে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করালেন গ্রামবাসী রাসেল ভাইপারের কামড়ে আহত শিশু, সাপসহ হাসপাতালে পরিবার ‘চকলেট মেডেলের ম্যাচ’ খেলার ইচ্ছা নেই ফ্রান্স খেলোয়াড়দের পছন্দ না হলেই ফ্যাসিস্ট বানানো হয়: পুলিশ সুপার ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য কুমিরঘেরা কারাগার তৈরি করছে ইসরায়েল

শাস্তির মুখে ফিলিস্তিনের পক্ষ নেওয়া মিসরের কোচ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:০৯:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • ৪৫ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত পরাজয়। এমন নাটকীয় পতনের পর হতাশা আর ক্ষোভ সামলে রাখা সহজ নয়। আর প্রতিপক্ষ যদি হয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, তাহলে সেই আক্ষেপ আরও গভীর হওয়াই স্বাভাবিক। তবে আবেগের বশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এবার শাস্তির মুখে পড়তে পারেন মিসরের কোচ হোসাম হাসান।

 

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল মিসর। ইয়াসের ইব্রাহিম ও মোস্তফা জিকোর গোলে ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল আফ্রিকার দলটি। তখন মনে হচ্ছিল, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় নিশ্চিত হওয়া শুধু সময়ের ব্যাপার।

 

কিন্তু শেষ মুহূর্তে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা। আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচের শেষ ১৪ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি ও এনজো ফার্নান্দেজের টানা তিন গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় লিওনেল স্কালোনির দল। নিশ্চিত বিদায়ের মুখ থেকে ফিরে এসে রোমাঞ্চকর এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।

 

তবে ম্যাচের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের পাশাপাশি বিতর্কও ছিল আলোচনায়। আর্জেন্টিনার শেষ দিকের আক্রমণের সময় পেনাল্টির জোরালো আবেদন জানায় মিশর, কিন্তু রেফারি সেই আবেদন নাকচ করে দেন। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে মাঠেই প্রতিবাদ জানান মিশরের খেলোয়াড়রা।

 

উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ডাগআউটে আচরণের কারণে হলুদ কার্ডও দেখেন কোচ হোসাম হাসান। এছাড়া গ্যালারির দিকে তার কিছু অঙ্গভঙ্গি নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়। তবে সবচেয়ে বড় বিতর্কের জন্ম দেন ম্যাচ শেষ হওয়ার পরের আচরণে, যার জেরে এখন শাস্তির মুখে পড়তে পারেন মিশরের এই কোচ।

 

ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন মিশর কোচ। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি গ্যালারির দিকে থুতু ছিটান বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ফুটবলে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ফিফার শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, কারও দিকে থুতু ছিটানো শারীরিক আক্রমণের পর্যায়ে পড়ে। একই ধরনের অপরাধের মধ্যে আঘাত, লাথি, কামড় বা ঘুষিও অন্তর্ভুক্ত। এমন অপরাধের জন্য ন্যূনতম তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বহিষ্কারের বিধান রয়েছে।

 

ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও আলোচনায় এসেছে। ফিলিস্তিন ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই সোচ্চার হোসাম হাসান। চলতি বিশ্বকাপেও বিভিন্ন সময়ে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। ম্যাচ-পরবর্তী উত্তেজনার মধ্যে তার সামনে আর্জেন্টিনার কিছু সমর্থক ইসরায়েলের পতাকা প্রদর্শন করলে তিনি আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

 

সংবাদ সম্মেলনেও এই প্রসঙ্গ ওঠে। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ফিলিস্তিন নিয়ে তার অবস্থানের কারণে রেফারিংয়ে মিসর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না। জবাবে সরাসরি সেই বিতর্কে না গিয়ে মানবিক দিকটিকেই সামনে আনেন মিসর কোচ, ‘আমি এই বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। আমরা একটি মানবিক বিষয় নিয়ে কথা বলছিলাম। যে মানুষটি তার দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে কিংবা যার হাত কেটে ফেলা হয়েছে, তাদের কষ্ট কি কেউ অনুভব করে? আমরা চাই ফুটবল যেন মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ মাস পূর্ণ করলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার

শাস্তির মুখে ফিলিস্তিনের পক্ষ নেওয়া মিসরের কোচ

আপডেট সময় ১০:০৯:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত পরাজয়। এমন নাটকীয় পতনের পর হতাশা আর ক্ষোভ সামলে রাখা সহজ নয়। আর প্রতিপক্ষ যদি হয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, তাহলে সেই আক্ষেপ আরও গভীর হওয়াই স্বাভাবিক। তবে আবেগের বশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এবার শাস্তির মুখে পড়তে পারেন মিসরের কোচ হোসাম হাসান।

 

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল মিসর। ইয়াসের ইব্রাহিম ও মোস্তফা জিকোর গোলে ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল আফ্রিকার দলটি। তখন মনে হচ্ছিল, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় নিশ্চিত হওয়া শুধু সময়ের ব্যাপার।

 

কিন্তু শেষ মুহূর্তে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা। আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচের শেষ ১৪ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি ও এনজো ফার্নান্দেজের টানা তিন গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় লিওনেল স্কালোনির দল। নিশ্চিত বিদায়ের মুখ থেকে ফিরে এসে রোমাঞ্চকর এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।

 

তবে ম্যাচের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের পাশাপাশি বিতর্কও ছিল আলোচনায়। আর্জেন্টিনার শেষ দিকের আক্রমণের সময় পেনাল্টির জোরালো আবেদন জানায় মিশর, কিন্তু রেফারি সেই আবেদন নাকচ করে দেন। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে মাঠেই প্রতিবাদ জানান মিশরের খেলোয়াড়রা।

 

উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ডাগআউটে আচরণের কারণে হলুদ কার্ডও দেখেন কোচ হোসাম হাসান। এছাড়া গ্যালারির দিকে তার কিছু অঙ্গভঙ্গি নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়। তবে সবচেয়ে বড় বিতর্কের জন্ম দেন ম্যাচ শেষ হওয়ার পরের আচরণে, যার জেরে এখন শাস্তির মুখে পড়তে পারেন মিশরের এই কোচ।

 

ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন মিশর কোচ। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি গ্যালারির দিকে থুতু ছিটান বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ফুটবলে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ফিফার শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, কারও দিকে থুতু ছিটানো শারীরিক আক্রমণের পর্যায়ে পড়ে। একই ধরনের অপরাধের মধ্যে আঘাত, লাথি, কামড় বা ঘুষিও অন্তর্ভুক্ত। এমন অপরাধের জন্য ন্যূনতম তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বহিষ্কারের বিধান রয়েছে।

 

ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও আলোচনায় এসেছে। ফিলিস্তিন ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই সোচ্চার হোসাম হাসান। চলতি বিশ্বকাপেও বিভিন্ন সময়ে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। ম্যাচ-পরবর্তী উত্তেজনার মধ্যে তার সামনে আর্জেন্টিনার কিছু সমর্থক ইসরায়েলের পতাকা প্রদর্শন করলে তিনি আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

 

সংবাদ সম্মেলনেও এই প্রসঙ্গ ওঠে। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ফিলিস্তিন নিয়ে তার অবস্থানের কারণে রেফারিংয়ে মিসর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না। জবাবে সরাসরি সেই বিতর্কে না গিয়ে মানবিক দিকটিকেই সামনে আনেন মিসর কোচ, ‘আমি এই বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। আমরা একটি মানবিক বিষয় নিয়ে কথা বলছিলাম। যে মানুষটি তার দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে কিংবা যার হাত কেটে ফেলা হয়েছে, তাদের কষ্ট কি কেউ অনুভব করে? আমরা চাই ফুটবল যেন মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।’