ইরানের সঙ্গে সংঘাত থামাতে চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু পরিস্থিতি এখন ঠিক উল্টো। যুদ্ধবিরতির চেষ্টা ভেস্তে গেছে, আবারও শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি হামলা। ফলে প্রশ্ন উঠছে—চাইলেই কি এখন এই যুদ্ধ থেকে বের হতে পারবেন ট্রাম্প? নাকি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতেই আটকে যাচ্ছে তাঁর কূটনৈতিক কৌশল?
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে হামলার জবাবে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান।
এরপর ট্রাম্প জানিয়ে দেন, সংঘাত কমানোর উদ্দেশ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানে নতুন করে হামলারও নির্দেশ দিয়েছেন।
মাত্র তিন সপ্তাহ আগে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির একটি প্রাথমিক সমঝোতা হলেও নতুন হামলায় সেই উদ্যোগ ভেস্তে গেছে। ফলে যুদ্ধ থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসা এবং স্থায়ী শান্তিচুক্তি করা—দুই লক্ষ্যই এখন ট্রাম্পের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সামনে এখন খুব বেশি বিকল্প নেই। সামরিক অভিযান বাড়ালে বড় ধরনের যুদ্ধের ঝুঁকি রয়েছে, আবার পিছু হটলেও ইরান কৌশলগত সুবিধা নিতে পারে, বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে।
এদিকে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামও বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক অ্যারন ডেভিড মিলারের ভাষায়, “ট্রাম্প এমন এক পরিস্থিতিতে পড়েছেন, যেখানে সামরিক কিংবা কূটনৈতিক—কোনো পথেই সহজে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।”
সমাপ্তি:
অর্থাৎ যুদ্ধ শুরু করা যতটা সহজ ছিল, এখন তা থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসা ততটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রাম্পের জন্য। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন পুরো বিশ্বের নজরে।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















