২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে এর পেছনে লিওনেল মেসি নন, বরং আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইই মূল কারণ বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এক পডকাস্টে নেতানিয়াহু বলেন, “মেসির আগে প্রেসিডেন্ট মিলেই। তিনি ইসরাইলের সবচেয়ে বড় বন্ধু এবং একজন সত্যিকারের সুপারস্টার।”
তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের জয় এবং ম্যাচের রেফারিং নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে।
২০২৩ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মিলেই ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছেন। তিনি জেরুজালেমে আর্জেন্টিনার দূতাবাস স্থানান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন, হামাস ও হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে প্রকাশ্যে ইসরাইলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য ফুটবলের চেয়ে আর্জেন্টিনা-ইসরাইলের বর্তমান রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছে।
এদিকে ২০২৩ সালের শেষ দিকে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মিলেই ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। রাজধানী বুয়েনস আইরেসের একজন অর্থোডক্স রাবাই তার প্রধান আধ্যাত্মিক গুরু, যাকে তিনি ইসরাইলে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে মিলেই আর্জেন্টিনার দূতাবাস তেল আবিব থেকে বিতর্কিত জেরুজালেমে স্থানান্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি আর্জেন্টিনার পূর্ববর্তী অবস্থান পরিবর্তন করে ফিলিস্তিনের হামাস এবং লেবাননের হিজবুল্লাহকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে আর্জেন্টিনা অতীতে ইসরাইল-বিরোধী বা ফিলিস্তিনের পক্ষে ভোট দিলেও মিলেইর অধীনে দেশটি এখন সর্বদা ইসরাইলের পক্ষে এককভাবে ভোট দিচ্ছে। এমনকি তার প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইল-বিরোধী একটি প্রস্তাবে ভোট দেওয়ায় মিলেই তাকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















