ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাহাড়ি ঢল ও নদী ভাঙনে হবিগঞ্জে সাড়ে ৬ হাজার পরিবার পানিবন্দি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৪৭:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং খোয়াই নদীর বাঁধ ভাঙনে হবিগঞ্জের চার উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৬ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। আকস্মিক এই বন্যায় কয়েকশ হেক্টর আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও শাকসবজির খেত পানিতে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

একই সঙ্গে রাস্তাঘাট ও গ্রামীণ অবকাঠামো ভেঙে পড়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। বিভিন্ন এলাকায় কবরস্থান তলিয়ে যাওয়ায় মরদেহ দাফন নিয়েও বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা।

 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার লস্করপুর ও পইল, বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর ও মক্রমপুর, বাহুবল উপজেলার লামাতাশি এবং চুনারুঘাট উপজেলার শানখলা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। হাজারো পরিবার নিজ বাড়িঘরে আটকা পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

 

অনেক স্থানে ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। চুনারুঘাটের শানখলা-লালচান সড়ক ডুবে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। এমনকি নোয়াবাদ এলাকায় স্থানীয় কবরস্থান ডুবে থাকায় এক নারীর মরদেহ ভেলায় করে দূরবর্তী সুলতানশী সাহেব বাড়ি কবরস্থানে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।

 

স্থানীয়রা জানান, কাঁচা-পাকা সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বন্যায় হবিগঞ্জ ধুলিয়াখাল-মিরপুর আঞ্চলিক সড়কের অর্ধেক অংশ ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে জরুরি সেবা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে।

 

বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেককে নৌকা কিংবা বিকল্প পথ ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় অপচয় করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হচ্ছে।

 

দুর্যোগপূর্ণ এই সময়ে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, সরকারি উদ্যোগে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৬২০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

 

এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৩০ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।

 

জেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আকতারুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে কয়েকশ হেক্টর আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পানি নেমে গেলে কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হবে।

 

এদিকে শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ এমপি দুর্গত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তার সঙ্গে জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পাহাড়ি ঢল ও নদী ভাঙনে হবিগঞ্জে সাড়ে ৬ হাজার পরিবার পানিবন্দি

আপডেট সময় ১১:৪৭:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং খোয়াই নদীর বাঁধ ভাঙনে হবিগঞ্জের চার উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৬ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। আকস্মিক এই বন্যায় কয়েকশ হেক্টর আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও শাকসবজির খেত পানিতে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

একই সঙ্গে রাস্তাঘাট ও গ্রামীণ অবকাঠামো ভেঙে পড়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। বিভিন্ন এলাকায় কবরস্থান তলিয়ে যাওয়ায় মরদেহ দাফন নিয়েও বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা।

 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার লস্করপুর ও পইল, বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর ও মক্রমপুর, বাহুবল উপজেলার লামাতাশি এবং চুনারুঘাট উপজেলার শানখলা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। হাজারো পরিবার নিজ বাড়িঘরে আটকা পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

 

অনেক স্থানে ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। চুনারুঘাটের শানখলা-লালচান সড়ক ডুবে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। এমনকি নোয়াবাদ এলাকায় স্থানীয় কবরস্থান ডুবে থাকায় এক নারীর মরদেহ ভেলায় করে দূরবর্তী সুলতানশী সাহেব বাড়ি কবরস্থানে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।

 

স্থানীয়রা জানান, কাঁচা-পাকা সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বন্যায় হবিগঞ্জ ধুলিয়াখাল-মিরপুর আঞ্চলিক সড়কের অর্ধেক অংশ ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে জরুরি সেবা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে।

 

বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেককে নৌকা কিংবা বিকল্প পথ ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় অপচয় করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হচ্ছে।

 

দুর্যোগপূর্ণ এই সময়ে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, সরকারি উদ্যোগে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৬২০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

 

এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৩০ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।

 

জেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আকতারুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে কয়েকশ হেক্টর আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পানি নেমে গেলে কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হবে।

 

এদিকে শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ এমপি দুর্গত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তার সঙ্গে জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।