বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরগোপালপুর ইউনিয়নে মোবাইলে লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে হাতুড়ির আঘাতে শাকিল পন্ডিত (২৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাইফুলকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার জালিরচর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত শাকিল পন্ডিত উপজেলার ৮ নম্বর চরগোপালপুর ইউনিয়নের জালিরচর গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহজাহান পন্ডিতের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শাকিলের বাড়ির সামনের কাচারি ঘরে শাকিল, শান্ত, শুভ ও রাকিব মিলে মোবাইলে লুডু খেলছিলেন। এ সময় একই গ্রামের আলম মাতুব্বরের ছেলে সাইফুল সেখানে দাঁড়িয়ে খেলা দেখছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী মো. শান্ত জানান, হঠাৎ কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাইফুল হাতুড়ি দিয়ে শাকিলের মাথায় পরপর তিনবার সজোরে আঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় শাকিল মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সাইফুলকে আটক করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় শাকিলকে উদ্ধার করে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তরিকুল ইসলাম তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মা হাসিনুর বেগম বলেন, ‘দুপুরে ভাত খেয়ে ছেলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। বিকেলে খবর পাই, সাইফুল হাতুড়ি দিয়ে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা আমি জানি না। আমি আমার ছেলে হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
লেঙ্গুটিয়া মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘শাকিল খুবই শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল। তার এই মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না। হামলাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
মেহেন্দিগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘লুডু খেলার সময় হাতুড়ির আঘাতে শাকিল নিহত হয়েছেন। অভিযুক্ত সাইফুলকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি।’
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত সাইফুল এলাকায় আলোচিত মোবারক হত্যা মামলার একমাত্র প্রত্যক্ষ সাক্ষী। তবে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওই মামলার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















