এবার বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেনের জয়ের ম্যাচে এক পর্যায়ে মুখ ঢেকে কথা বলতে দেখা যায় স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেলাকে। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে শেষ পর্যন্ত কুকুরেলার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি ম্যাচ কর্মকর্তারা। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। এরপর টেলিভিশন ক্যামেরায় দেখা যায়, মেসি রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণ করে কুকুরেলার দিকে ইঙ্গিত করছেন। তার অভিযোগ ছিল, স্প্যানিশ এই ডিফেন্ডার মুখ ঢেকে কথা বলছেন, যা নতুন নিয়ম অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য হতে পারে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফুটবলে একটি নতুন নির্দেশনা চালু করেছে ফিফা। এর পেছনে রয়েছে গত মৌসুমে বেনফিকার তরুণ ফুটবলার জানলুকা প্রেস্তিয়ানির বিরুদ্ধে রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবাদী মন্তব্য করার অভিযোগ। ওই ঘটনায় প্রেস্তিয়ানি মুখ ঢেকে কথা বলায় কী বলা হয়েছিল তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এরপর থেকেই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মুখ ঢেকে কথা বলার বিষয়টি কঠোরভাবে দেখার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। চলতি বিশ্বকাপেই এই নিয়মে শাস্তি পেয়েছেন প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আলমিরন ও ইকুয়েডরের পিয়েরো হিনক্যাপি। দুজনই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মুখ ঢেকে কথা বলার দায়ে লাল কার্ড দেখেন।
তবে ফিফার নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শুধু মুখে হাত দিয়ে কথা বলাই অপরাধ নয়। কোনো সংঘর্ষ, তর্ক–বিতর্ক বা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষ, রেফারি বা অন্য কারও সঙ্গে কথা বললে সেটি অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখাতে পারেন। ফাইনালের ঘটনাটি ম্যাচ কর্মকর্তারা পর্যালোচনা করেন। সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, কুকুরেলা মেসির দিকে এগিয়ে গিয়ে কথা বলার সময় অল্প সময়ের জন্য মুখ স্পর্শ করেছিলেন। তবে ভিডিওতে এমন কোনো আচরণ দেখা যায়নি, যা শত্রুভাবাপন্ন, অপমানজনক বা উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এ কারণে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে কুকুরেলার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ম্যাচ কর্মকর্তারা তাকে ‘বেনিফিট অব দ্য ডাউট‘ বা সন্দেহের সুবিধা দেন। ফলে মুখ ঢেকে কথা বলার অভিযোগ উঠলেও লাল কার্ড এড়ান স্পেনের এই ডিফেন্ডার। ফিফার বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, মুখ ঢেকে কথা বলার চেয়ে সেটি কোন পরিস্থিতিতে এবং কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, সেটিই শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























