ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে কেন এই র/ক্ত/পাত? নিহত ৪০

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৩৬:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

আইনসভা নির্বাচনকে ঘিরে রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর। ভোটের আগেই আন্দোলনকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন। নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন বিক্ষোভকারী এবং ৬ জন পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য। সহিংসতায় রাওয়ালকোট, রাজধানী মুজাফফরাবাদসহ পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জয়েন্ট অ্যান্ড অল পার্টিজ অ্যাকশন কমিটি বা জেএএসি। সংগঠনটির দাবি, ১৯৭০-এর দশকে ভারতশাসিত কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুতদের জন্য আইনসভায় সংরক্ষিত ১২টি আসনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকৃত রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই তারা ওই আসনগুলো বাতিলের দাবি জানিয়ে আন্দোলনে নেমেছে।

অন্যদিকে সরকার এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে জেএএসিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এরপর থেকেই শুরু হয়েছে ব্যাপক ধরপাকড় ও দমন-পীড়ন, যা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে।

সহিংসতার মধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন অনেক নিরীহ মানুষ। রাওয়ালকোটে নিজ খামারে কাজ করার সময় লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে নিহত হন ৩০ বছর বয়সী স্থানীয় যুবক নাকাশ জারদাদ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টানা ৪০ দিন ধরে পুরো অঞ্চলে মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। বিরোধীরা এই পদক্ষেপকে সাধারণ মানুষের জন্য ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ বলে অভিযোগ করেছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে নির্বাচনী প্রচারণা। বড় জনসভা বা সমাবেশ করতে পারছেন না প্রার্থীরা। অধিকাংশ প্রচারণাই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে ঘরোয়া বৈঠকে।

এদিকে সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ফলকার তুর্ক সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জেএএসিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেছেন তিনি।

সব বিতর্ক ও সহিংসতার মধ্যেই আগামী ২৭ জুলাই থেকে তিন ধাপে আইনসভা নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে পাকিস্তান সরকার। তবে স্থানীয় বিশ্লেষক ও বিরোধীদের আশঙ্কা, ভয়-ভীতি, সহিংসতা ও কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে কেন এই র/ক্ত/পাত? নিহত ৪০

আপডেট সময় ০১:৩৬:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

আইনসভা নির্বাচনকে ঘিরে রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর। ভোটের আগেই আন্দোলনকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন। নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন বিক্ষোভকারী এবং ৬ জন পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য। সহিংসতায় রাওয়ালকোট, রাজধানী মুজাফফরাবাদসহ পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জয়েন্ট অ্যান্ড অল পার্টিজ অ্যাকশন কমিটি বা জেএএসি। সংগঠনটির দাবি, ১৯৭০-এর দশকে ভারতশাসিত কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুতদের জন্য আইনসভায় সংরক্ষিত ১২টি আসনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকৃত রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই তারা ওই আসনগুলো বাতিলের দাবি জানিয়ে আন্দোলনে নেমেছে।

অন্যদিকে সরকার এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে জেএএসিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এরপর থেকেই শুরু হয়েছে ব্যাপক ধরপাকড় ও দমন-পীড়ন, যা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে।

সহিংসতার মধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন অনেক নিরীহ মানুষ। রাওয়ালকোটে নিজ খামারে কাজ করার সময় লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে নিহত হন ৩০ বছর বয়সী স্থানীয় যুবক নাকাশ জারদাদ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টানা ৪০ দিন ধরে পুরো অঞ্চলে মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। বিরোধীরা এই পদক্ষেপকে সাধারণ মানুষের জন্য ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ বলে অভিযোগ করেছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে নির্বাচনী প্রচারণা। বড় জনসভা বা সমাবেশ করতে পারছেন না প্রার্থীরা। অধিকাংশ প্রচারণাই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে ঘরোয়া বৈঠকে।

এদিকে সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ফলকার তুর্ক সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জেএএসিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেছেন তিনি।

সব বিতর্ক ও সহিংসতার মধ্যেই আগামী ২৭ জুলাই থেকে তিন ধাপে আইনসভা নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে পাকিস্তান সরকার। তবে স্থানীয় বিশ্লেষক ও বিরোধীদের আশঙ্কা, ভয়-ভীতি, সহিংসতা ও কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।