মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসন ঠেকাতে কার্যকর ও যাচাইযোগ্য নিশ্চয়তা না থাকায় তেহরান এ প্রস্তাব গ্রহণ করেনি বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
পত্রিকাটির প্রতিবেদনে ইরানি ও ইরাকি কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবটি ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদি তেহরানে পৌঁছে দেন।
ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধ এবং অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিজ্ঞতার কারণে কেবল কূটনৈতিক আশ্বাস তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।
তেহরানের মতে, ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইরানের পরমাণু চুক্তির শর্ত মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ইরানি কর্মকর্তারা আরও দাবি করেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি বারবার বিলম্বিত হয়েছে অথবা নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে তা কার্যকর হয়নি। তাদের ভাষ্য, কূটনৈতিক সংলাপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বজায় রাখার এই নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থা তৈরি হয়নি। তাই ভবিষ্যতে বিশ্বাস অর্জনের জন্য কেবল আশ্বাস নয়, বাস্তব ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ প্রয়োজন।
এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদি একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে তেহরান সফর করেন। সফরে তিনি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, প্রধান আলোচক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ বাকের ঘালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করেন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “সমস্যা বার্তা আদান-প্রদান নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি।” তার অভিযোগ, ওয়াশিংটনের অবস্থান “অযৌক্তিক, লোভী এবং আধিপত্যবাদী।”
এদিকে কূটনৈতিক এই অচলাবস্থার মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইরান পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে তেহরানের দাবি।
ইরান আরও বলেছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যেসব মার্কিন ঘাঁটি থেকে তাদের দাবি অনুযায়ী হামলা পরিচালিত হয়েছে, সেগুলোকে তারা বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস–কে দুই ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোতে হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করেন, তাহলে সম্ভাব্য বৃহত্তর যুদ্ধের জন্য দেশটির সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তাদের দাবি, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে ইরান তার সামরিক প্রতিক্রিয়া পুরো অঞ্চলে সম্প্রসারণ করতে পারে। এর মধ্যে তেল আবিবে হামলা এবং ইয়েমেনের মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে নৌ চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে—এমন সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তারা।
এদিকে বৃহস্পতিবার তেহরানের আজাদি স্কয়ারে হাজারো মানুষ সমাবেশ করে দেশের নেতৃত্ব ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি সমর্থন জানান। সমাবেশে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনকারী একটি সামরিক যানও প্রদর্শন করা হয়, যা ইরানের সামরিক প্রস্তুতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

ডেস্ক রিপোর্ট 



















