ঢাকা , সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সালমান এক সময় আমার বাসায় বাসন ধুয়ে দিতেও আসতে রাজি থাকত: মেঘনা আলম ১২৩ বছরেও চশমা ছাড়াই কোরআন পড়েন ভাষা আন্দোলনের সাক্ষী আব্বাস জামায়াতের উত্থান দেশকে ধর্মযুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে: নুরুল হক নূর ‘তারার কাছে পৌঁছানোর সাহস রাখো আর তোমার প্রতিটি স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দাও’ খুঁটিতে বাঁধা সেই বাবার পাশে প্রশাসন, মেয়ে তুবার পড়াশোনার দায়িত্ব নিলেন ইউএনও কেন্দ্র থেকে বহিষ্কৃত দুই যুবদল নেতাকে সভাপতি ঘোষণা এমপির প্রার্থী জিয়ার সৈনিক না হলে পরীক্ষায় বসতে দিয়েন না: রাকসু জিএস আম্মার দিল্লির সড়কে তরুণকে চড় মন্ত্রীর, পাল্টা হাত তুললো তরুণও চকলেট দেয়ার কথা বলে অফিসের সব কর্মীকে আইফোন উপহার দিলেন নারী বস সংবিধানে ফিরছে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’

ভাড়াটে লোক দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে হ/ত্যা, জামায়াত নেতা কারাগারে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৩৫:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৯৮ বার পড়া হয়েছে

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সাবেক স্ত্রীকে ভাড়াটে লোক দিয়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামায়াত নেতা আবু বকর ছিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৩ আগস্ট) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাদেকুর রহমান তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আবু বকর ছিদ্দিক কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন জামায়াতের রুকন এবং চর সামছুদ্দিন গ্রামের আলী উল্যা হাওলাদারের ছেলে।

আদালত ও মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত সালেহা বেগমকে গোপনে বিয়ে করেছিলেন আবু বকর। পরে তাদের বিচ্ছেদ হলেও জমি কেনার জন্য নেওয়া ৩০ লাখ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে তিনি ভাড়াটে খুনি দিয়ে সালেহাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালের ১৫ জুন দিবাগত রাতে মো. সেলিম নামে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরদিন কমলনগরের মতিরহাট সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে একটি পরিত্যক্ত ভিটা থেকে সালেহা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পরে তদন্তের একপর্যায়ে সেলিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং দাবি করেন, আবু বকর ছিদ্দিকের নির্দেশেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ওই জবানবন্দির ভিত্তিতে পুলিশ সেলিম ও আবু বকর ছিদ্দিককে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। সেলিম আগে থেকেই কারাগারে থাকলেও আবু বকর পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আমজাদ হোসাইন বলেন, চার্জশিটভুক্ত আসামি আবু বকর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন। আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।

এদিকে, নিহত সালেহা বেগমের ছেলে শরীফ উদ্দিন ও মো. আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, অর্থের লোভে তাদের মাকে গোপনে বিয়ে করেছিলেন আবু বকর ছিদ্দিক। পরে টাকার বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করানো হয়। তারা এ ঘটনায় জড়িত দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।

তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে আবু বকর ছিদ্দিক বা তার আইনজীবীর কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সালমান এক সময় আমার বাসায় বাসন ধুয়ে দিতেও আসতে রাজি থাকত: মেঘনা আলম

ভাড়াটে লোক দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে হ/ত্যা, জামায়াত নেতা কারাগারে

আপডেট সময় ১১:৩৫:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সাবেক স্ত্রীকে ভাড়াটে লোক দিয়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামায়াত নেতা আবু বকর ছিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৩ আগস্ট) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাদেকুর রহমান তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আবু বকর ছিদ্দিক কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন জামায়াতের রুকন এবং চর সামছুদ্দিন গ্রামের আলী উল্যা হাওলাদারের ছেলে।

আদালত ও মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত সালেহা বেগমকে গোপনে বিয়ে করেছিলেন আবু বকর। পরে তাদের বিচ্ছেদ হলেও জমি কেনার জন্য নেওয়া ৩০ লাখ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে তিনি ভাড়াটে খুনি দিয়ে সালেহাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালের ১৫ জুন দিবাগত রাতে মো. সেলিম নামে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরদিন কমলনগরের মতিরহাট সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে একটি পরিত্যক্ত ভিটা থেকে সালেহা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পরে তদন্তের একপর্যায়ে সেলিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং দাবি করেন, আবু বকর ছিদ্দিকের নির্দেশেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ওই জবানবন্দির ভিত্তিতে পুলিশ সেলিম ও আবু বকর ছিদ্দিককে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। সেলিম আগে থেকেই কারাগারে থাকলেও আবু বকর পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আমজাদ হোসাইন বলেন, চার্জশিটভুক্ত আসামি আবু বকর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন। আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।

এদিকে, নিহত সালেহা বেগমের ছেলে শরীফ উদ্দিন ও মো. আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, অর্থের লোভে তাদের মাকে গোপনে বিয়ে করেছিলেন আবু বকর ছিদ্দিক। পরে টাকার বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করানো হয়। তারা এ ঘটনায় জড়িত দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।

তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে আবু বকর ছিদ্দিক বা তার আইনজীবীর কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।