ঢাকা , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
১০০ টাকায় গরুর মাংস দিয়ে ভাত বিক্রেতা ‘ভাইরাল মিজান’ গ্রেপ্তার প্রধানমন্ত্রীর কাছে হেফাজতের ৯ দফা, ইসলামবিরোধী আইন না করার দাবি ফরহাদ মজহারের ‘আমেরিকান ষড়’য’ন্ত্র’তত্ত্ব’ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রিফাত বিএনপির প্রেসিডেন্ট পদে মির্জা ফখরুল নির্বাচিত বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কলকাতার কাছে মমতার গাড়িতে হামলা, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা বাবুনগর মাদ্রাসায় শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহস থাকলে দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হবেন: সমাজকল্যাণমন্ত্রী হেফাজত আমিরকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াবেন না: প্রধানমন্ত্রী

গোপন নম্বর-স্যাটেলাইট ফোনে চলতো শেখ হাসিনার শেষ মুহূর্তের যোগাযোগ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২৬:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১১৮ বার পড়া হয়েছে

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যখন সারাদেশ কার্যত ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন, তখনও গণভবনে চলছিল উচ্চগতির ইন্টারনেট। আর গোপন নম্বর ও স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করে শেষ মুহূর্তের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ চালিয়ে যান ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ডিজিটাল ফরেনসিক টিমের তদন্তে উঠে এসেছে এমনই বেশ কিছু তথ্য। জানাচ্ছেন আখলাকুস সাফা।

২০২৪ সালের জুলাই। আন্দোলন দমাতে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট। কিন্তু তদন্তে দাবি করা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের (বর্তমানে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট) বিশেষ ব্যাকআপ সংযোগের মাধ্যমে গণভবনে সচল ছিল হাই-স্পিড ইন্টারনেট। এমনকি গণভবনের ছাদে বসানো হয়েছিল টাওয়ার ডাম্পিং ব্যবস্থা।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও গণভবনে স্যাটেলাইট সংযোগের মাধ্যমে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়েছিল।

তদন্তে আরও বলা হয়েছে, ১ আগস্ট থেকেই পরিস্থিতির অবনতি আঁচ করতে শুরু করেন শেখ হাসিনা। ৩ আগস্ট একদফা ঘোষণার পর তার ফোন থেকে অন্তত ৭০টি নম্বরে যোগাযোগ করা হয়। এর মধ্যে ১১টি নম্বর ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে নিবন্ধন করা হয়েছিল বলে দাবি তদন্ত দলের।

৪ আগস্ট নিজের ব্যবহৃত নম্বরের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হলে তিনি স্যাটেলাইট ফোন এবং গণভবনের কর্মীদের ব্যক্তিগত নম্বর ব্যবহার শুরু করেন। তদন্তে দাবি করা হয়, স্যাটেলাইট ফোনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছিল।

এরপর দিল্লির সম্মতির পর শুরু হয় দেশত্যাগের প্রস্তুতি। বিমানবাহিনীর এমআই-১৭ হেলিকপ্টারে করে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে কুর্মিটোলা এয়ার মুভমেন্টে নেওয়া হয়। সেখানে উড্ডয়নের আগে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপও করেন তিনি বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ১ আগস্ট থেকেই স্বজনদের গোপনে দেশ ছাড়ার বার্তা পাঠানো হচ্ছিল। তবে সব এসএমএসের ফরেনসিক বিশ্লেষণ এখনও শেষ হয়নি।

তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, শেখ হাসিনার যোগাযোগ-সংক্রান্ত তথ্য মুছে ফেলতে কাজ করেন গুমের মামলায় গ্রেফতার সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান। জলসিড়িতে নিজের বাসভবনে তিনি একটি ব্যক্তিগত সার্ভার সিস্টেম গড়ে তুলেছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহার ভাষ্য, ভবনটিতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বরাদ্দ নিয়ে একটি নিজস্ব ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছিল, যেটিকে তিনি ‘ডিজিটাল আয়নাঘর’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

১০০ টাকায় গরুর মাংস দিয়ে ভাত বিক্রেতা ‘ভাইরাল মিজান’ গ্রেপ্তার

গোপন নম্বর-স্যাটেলাইট ফোনে চলতো শেখ হাসিনার শেষ মুহূর্তের যোগাযোগ

আপডেট সময় ১০:২৬:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যখন সারাদেশ কার্যত ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন, তখনও গণভবনে চলছিল উচ্চগতির ইন্টারনেট। আর গোপন নম্বর ও স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করে শেষ মুহূর্তের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ চালিয়ে যান ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ডিজিটাল ফরেনসিক টিমের তদন্তে উঠে এসেছে এমনই বেশ কিছু তথ্য। জানাচ্ছেন আখলাকুস সাফা।

২০২৪ সালের জুলাই। আন্দোলন দমাতে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট। কিন্তু তদন্তে দাবি করা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের (বর্তমানে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট) বিশেষ ব্যাকআপ সংযোগের মাধ্যমে গণভবনে সচল ছিল হাই-স্পিড ইন্টারনেট। এমনকি গণভবনের ছাদে বসানো হয়েছিল টাওয়ার ডাম্পিং ব্যবস্থা।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও গণভবনে স্যাটেলাইট সংযোগের মাধ্যমে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়েছিল।

তদন্তে আরও বলা হয়েছে, ১ আগস্ট থেকেই পরিস্থিতির অবনতি আঁচ করতে শুরু করেন শেখ হাসিনা। ৩ আগস্ট একদফা ঘোষণার পর তার ফোন থেকে অন্তত ৭০টি নম্বরে যোগাযোগ করা হয়। এর মধ্যে ১১টি নম্বর ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে নিবন্ধন করা হয়েছিল বলে দাবি তদন্ত দলের।

৪ আগস্ট নিজের ব্যবহৃত নম্বরের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হলে তিনি স্যাটেলাইট ফোন এবং গণভবনের কর্মীদের ব্যক্তিগত নম্বর ব্যবহার শুরু করেন। তদন্তে দাবি করা হয়, স্যাটেলাইট ফোনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছিল।

এরপর দিল্লির সম্মতির পর শুরু হয় দেশত্যাগের প্রস্তুতি। বিমানবাহিনীর এমআই-১৭ হেলিকপ্টারে করে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে কুর্মিটোলা এয়ার মুভমেন্টে নেওয়া হয়। সেখানে উড্ডয়নের আগে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপও করেন তিনি বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ১ আগস্ট থেকেই স্বজনদের গোপনে দেশ ছাড়ার বার্তা পাঠানো হচ্ছিল। তবে সব এসএমএসের ফরেনসিক বিশ্লেষণ এখনও শেষ হয়নি।

তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, শেখ হাসিনার যোগাযোগ-সংক্রান্ত তথ্য মুছে ফেলতে কাজ করেন গুমের মামলায় গ্রেফতার সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান। জলসিড়িতে নিজের বাসভবনে তিনি একটি ব্যক্তিগত সার্ভার সিস্টেম গড়ে তুলেছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহার ভাষ্য, ভবনটিতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বরাদ্দ নিয়ে একটি নিজস্ব ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছিল, যেটিকে তিনি ‘ডিজিটাল আয়নাঘর’ হিসেবে উল্লেখ করেন।