ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের পর পাকিস্তান? মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় যুদ্ধের আশঙ্কা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:১৫:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫
  • ৪৮২ বার পড়া হয়েছে

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এখনো প্রশমিত না হতেই নতুন করে উত্তপ্ত হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংক ও পশ্চিমা গণমাধ্যমের মতে, এবার ইসরায়েলের সম্ভাব্য পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তান।

মাত্র ২২ হাজার বর্গকিলোমিটারের একটি ক্ষুদ্র দেশ ইসরায়েল, কিন্তু এর সামরিক আগ্রাসন গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থির করে তুলেছে। গাজা, সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেন এবং ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের রেশ না কাটতেই এবার পাকিস্তান ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে।

যুদ্ধের হুমকি ও ‘ইসলামিক বোমা’ বিতর্ক
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর জেফ্রি স্যাক্স সম্প্রতি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, পাকিস্তান ঘিরেই শুরু হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের পরবর্তী বড় যুদ্ধ। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু পূর্বে পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দুটি ইসলামপন্থী রাষ্ট্রকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা— ইরান এবং পাকিস্তান।”

পশ্চিমা মিডিয়া দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানকে “ইসলামিক বোমা” বলে অভিহিত করলেও কখনোই পারমাণবিক শক্তিধর অন্যান্য ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রকে একইভাবে চিহ্নিত করা হয় না।

পশ্চিমা চাপ ও নিরাপত্তা সংকট
পাকিস্তানকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবেও উল্লেখ করেছেন মার্কিন অ্যাডমিরাল মাইক মুলেন। থিংক ট্যাংক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সন্ত্রাসবাদে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং পারমাণবিক অস্ত্রের নিরাপত্তা ঘিরে পাকিস্তানকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

ভারত-ইসরায়েল জোটের সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েল ও ভারতের কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা এবং মোদি-নেতানিয়াহু জোটের মিলিত জাতীয়তাবাদী অবস্থান পাকিস্তানের জন্য উদ্বেগজনক। স্মার্ট অস্ত্র, ড্রোন হামলা এবং সাইবার আক্রমণের মতো আধুনিক যুদ্ধপদ্ধতি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হতে পারে।

পরিচিত ছক—সন্ত্রাসের অভিযোগ, পরে হামলা
সিরিয়া, লিবিয়া, ইরাক, ইয়েমেন, সুদান ও ইরানের মতো দেশগুলোর ওপর আগে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ এনে পরবর্তী সময়ে সামরিক হামলা চালানো হয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, পাকিস্তানকেও আন্তর্জাতিকভাবে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ হিসেবে উপস্থাপন করে একই কৌশল প্রয়োগের পটভূমি তৈরি করা হচ্ছে।

বিশ্ব রাজনীতির নতুন মেরুকরণ, সামরিক উত্তেজনা এবং অস্থিরতা মিলিয়ে দক্ষিণ ও মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি বড় যুদ্ধের সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর আমিনুর শাহ গ্রেপ্তার

ইরানের পর পাকিস্তান? মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় যুদ্ধের আশঙ্কা

আপডেট সময় ০৯:১৫:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এখনো প্রশমিত না হতেই নতুন করে উত্তপ্ত হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংক ও পশ্চিমা গণমাধ্যমের মতে, এবার ইসরায়েলের সম্ভাব্য পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তান।

মাত্র ২২ হাজার বর্গকিলোমিটারের একটি ক্ষুদ্র দেশ ইসরায়েল, কিন্তু এর সামরিক আগ্রাসন গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থির করে তুলেছে। গাজা, সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেন এবং ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের রেশ না কাটতেই এবার পাকিস্তান ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে।

যুদ্ধের হুমকি ও ‘ইসলামিক বোমা’ বিতর্ক
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর জেফ্রি স্যাক্স সম্প্রতি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, পাকিস্তান ঘিরেই শুরু হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের পরবর্তী বড় যুদ্ধ। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু পূর্বে পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দুটি ইসলামপন্থী রাষ্ট্রকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা— ইরান এবং পাকিস্তান।”

পশ্চিমা মিডিয়া দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানকে “ইসলামিক বোমা” বলে অভিহিত করলেও কখনোই পারমাণবিক শক্তিধর অন্যান্য ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রকে একইভাবে চিহ্নিত করা হয় না।

পশ্চিমা চাপ ও নিরাপত্তা সংকট
পাকিস্তানকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবেও উল্লেখ করেছেন মার্কিন অ্যাডমিরাল মাইক মুলেন। থিংক ট্যাংক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সন্ত্রাসবাদে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং পারমাণবিক অস্ত্রের নিরাপত্তা ঘিরে পাকিস্তানকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

ভারত-ইসরায়েল জোটের সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েল ও ভারতের কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা এবং মোদি-নেতানিয়াহু জোটের মিলিত জাতীয়তাবাদী অবস্থান পাকিস্তানের জন্য উদ্বেগজনক। স্মার্ট অস্ত্র, ড্রোন হামলা এবং সাইবার আক্রমণের মতো আধুনিক যুদ্ধপদ্ধতি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হতে পারে।

পরিচিত ছক—সন্ত্রাসের অভিযোগ, পরে হামলা
সিরিয়া, লিবিয়া, ইরাক, ইয়েমেন, সুদান ও ইরানের মতো দেশগুলোর ওপর আগে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ এনে পরবর্তী সময়ে সামরিক হামলা চালানো হয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, পাকিস্তানকেও আন্তর্জাতিকভাবে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ হিসেবে উপস্থাপন করে একই কৌশল প্রয়োগের পটভূমি তৈরি করা হচ্ছে।

বিশ্ব রাজনীতির নতুন মেরুকরণ, সামরিক উত্তেজনা এবং অস্থিরতা মিলিয়ে দক্ষিণ ও মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি বড় যুদ্ধের সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।