জুলাই জাদুঘর থেকে কাঁটাতারে ঝুলন্ত ফেলানী খাতুনের স্মৃতিচিহ্ন সরিয়ে ফেলার ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন আল-জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান। কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে এ কাজের পেছনে থাকা ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
রোববার (৯ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন জুলকারনাইন সায়ের।
পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকার কারণে বাংলাদেশ কি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরা বন্ধ করেছে? একইভাবে ভারত ব্রিটেনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেও তাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে এবং জাপানও হিরোশিমায় পারমাণবিক হামলার স্মৃতি সংরক্ষণ করে।
এ প্রসঙ্গ টেনে জুলকারনাইন প্রশ্ন করেন, তাহলে কোন কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য জুলাই জাদুঘর থেকে কাঁটাতারে আটকে থাকা ফেলানীর স্মৃতিচিহ্ন সরিয়ে ফেলা হলো?
তিনি আরও বলেন, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির প্রকাশিত বইয়ে ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন তথ্য রয়েছে। তার দাবি, এসব তথ্যেরও ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে এবং সেগুলো সংরক্ষণ করা উচিত।
জুলকারনাইন সায়ের আরও প্রশ্ন তোলেন, জুলাই জাদুঘরে সীমান্ত হত্যার বিভিন্ন ছবি ও নথি নিয়ে যে বর্ডার কিলিং সেকশন ছিল, সেটি কেন সরিয়ে দেওয়া হলো।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জাদুঘর থেকে এসব স্মারক ও তথ্য সরানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা উচিত। যারা এ কাজ করেছে, তাদের উদ্দেশ্য অশুভ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে জুলকারনাইন দাবি করেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠী বিএনপির ভেতরেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে। তার ভাষ্য, এসব গোষ্ঠী এখনো সক্রিয় এবং সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।
তবে জুলাই জাদুঘর থেকে ফেলানীর স্মৃতিচিহ্ন ও সীমান্ত হত্যার নথি সরানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য এ পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























