ঢাকা , শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট সমাধানে ব্যর্থ হলে সরকারও টিকবে না: শিবির সভাপতি কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ ফিরছে শনিবার ২৫ বছর দায়িত্ব পালন করা ইমামকে রাজকীয় বিদায় দিলো এলাকাবাসী ইরান যুদ্ধে কতজন মার্কিন সেনা হতাহত, জানালো পেন্টাগন যারা বাংলাদেশকে ধারণ করে না, তাদের মাধ্যমেই বড় বড় দুর্নীতি হয়: সাদিক কায়েম অতীত থেকে শিক্ষা না নেওয়ায় শেখ হাসিনাকে পালাতে হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রে পূরণ করতে হবে যে ৭ শর্ত ভারত সফর হতে হবে সমতার, সমমর্যাদার ও বন্ধুত্বের: জামায়াত আমির মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের পর তাসনিম জারার দীর্ঘ পোস্ট শামীম কায়সারকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী করার সিদ্ধান্তে হেফাজতের তীব্র প্রতিবাদ

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ‘কবর’ দেওয়া হবে: চিফ হুইপ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৫৬:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি জানিয়েছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় বাধ্য হয়ে বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যেই সংসদীয় ও রাষ্ট্রপতির যাবতীয় নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে সব রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক ঐকমত্যের মাধ্যমে বিতর্কিত এই ৭০ অনুচ্ছেদের বিলোপ বা ‘কবর’ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

 

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষে সংসদের টানেলে গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন তিনি।

 

সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ সার্বিক নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করে জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫টি ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে বিরোধী দলের জোটের প্রার্থী ড. অলি আহমেদ পেয়েছেন ৮৮টি ভোট।

 

সংবিধান সংশোধন না করে তড়িঘড়ি করে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন আয়োজন সংক্রান্ত বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়েছে, যেভাবে নির্বাচন কমিশন গঠন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও আসন পুনর্র্নিধারণ (ডেলিমিটেশন) করা হয়েছে— তা সবই বিদ্যমান সংবিধান মেনে করা হয়েছে। পরবর্তীতে এই সংবিধান অনুযায়ীই প্রতিনিধিরা ভোট দিয়ে শপথ নিয়েছেন এবং সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। ফলে বর্তমান কাঠামোতে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় তা মেনে চলা ছাড়া উপায় ছিল না।তিনি বলেন, আমরা চাই আগামী নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করে এই ৭০ অনুচ্ছেদের কবর দেওয়া হোক। ভবিষ্যতে যেন ৭০ অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা ছাড়াই মুক্ত পরিবেশে রাষ্ট্রপতি ও অন্যান্য নির্বাচন সম্পন্ন করা যায়।

 

গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ ও সংসদীয় শিষ্টাচারের গুরুত্ব তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, গত ১৭ বছর ধরে এ দেশের মানুষ ভোট দেওয়া কিংবা সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রকৃত আমেজ থেকে বঞ্চিত ছিল। এবার ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধিরা নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে তাদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার সুযোগ পেয়েছেন। নির্বাচনে হার-জিত জেনেও বিরোধী দল অংশ নেওয়ায় তাদেরকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার শুভেচ্ছা বিনিময় এবং বিজয়ী প্রার্থীকে পরাজিত প্রার্থীর অভিনন্দন জানানো প্রমাণ করে যে রাজনীতিতে একটি সুস্থ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসছে। স্মুথ ট্রানজিশন বা ক্ষমতার স্বাভাবিক হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে ভোটাভুটিতে ছয়জন সংসদ সদস্যের অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে ওঠা বিভ্রান্তি দূর করে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন চিফ হুইপ। তিনি জানান, অসুস্থতা ও বিভিন্ন ব্যক্তিগত কারণে মোট ৬ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট সমাধানে ব্যর্থ হলে সরকারও টিকবে না: শিবির সভাপতি

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ‘কবর’ দেওয়া হবে: চিফ হুইপ

আপডেট সময় ০৯:৫৬:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি জানিয়েছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় বাধ্য হয়ে বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যেই সংসদীয় ও রাষ্ট্রপতির যাবতীয় নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে সব রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক ঐকমত্যের মাধ্যমে বিতর্কিত এই ৭০ অনুচ্ছেদের বিলোপ বা ‘কবর’ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

 

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষে সংসদের টানেলে গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন তিনি।

 

সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ সার্বিক নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করে জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫টি ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে বিরোধী দলের জোটের প্রার্থী ড. অলি আহমেদ পেয়েছেন ৮৮টি ভোট।

 

সংবিধান সংশোধন না করে তড়িঘড়ি করে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন আয়োজন সংক্রান্ত বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়েছে, যেভাবে নির্বাচন কমিশন গঠন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও আসন পুনর্র্নিধারণ (ডেলিমিটেশন) করা হয়েছে— তা সবই বিদ্যমান সংবিধান মেনে করা হয়েছে। পরবর্তীতে এই সংবিধান অনুযায়ীই প্রতিনিধিরা ভোট দিয়ে শপথ নিয়েছেন এবং সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। ফলে বর্তমান কাঠামোতে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় তা মেনে চলা ছাড়া উপায় ছিল না।তিনি বলেন, আমরা চাই আগামী নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করে এই ৭০ অনুচ্ছেদের কবর দেওয়া হোক। ভবিষ্যতে যেন ৭০ অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা ছাড়াই মুক্ত পরিবেশে রাষ্ট্রপতি ও অন্যান্য নির্বাচন সম্পন্ন করা যায়।

 

গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ ও সংসদীয় শিষ্টাচারের গুরুত্ব তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, গত ১৭ বছর ধরে এ দেশের মানুষ ভোট দেওয়া কিংবা সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রকৃত আমেজ থেকে বঞ্চিত ছিল। এবার ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধিরা নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে তাদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার সুযোগ পেয়েছেন। নির্বাচনে হার-জিত জেনেও বিরোধী দল অংশ নেওয়ায় তাদেরকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার শুভেচ্ছা বিনিময় এবং বিজয়ী প্রার্থীকে পরাজিত প্রার্থীর অভিনন্দন জানানো প্রমাণ করে যে রাজনীতিতে একটি সুস্থ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসছে। স্মুথ ট্রানজিশন বা ক্ষমতার স্বাভাবিক হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে ভোটাভুটিতে ছয়জন সংসদ সদস্যের অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে ওঠা বিভ্রান্তি দূর করে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন চিফ হুইপ। তিনি জানান, অসুস্থতা ও বিভিন্ন ব্যক্তিগত কারণে মোট ৬ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি।