ঢাকা , শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
চট্টগ্রামের ৪০ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক ঢাকার চারদিকে ৮ লেনের রাস্তা করবে সরকার গাজায় হামলায় হামাস কমান্ডার নিহতের দাবি ইসরায়েলি বাহিনীর মন্ত্রিসভায় রদবদল আসছে আজ কিমের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চান ট্রাম্প, জবাবে ১০ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে নতুন রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা ভারতে ককরোচ নেতাদেরকে ‘দেশদ্রোহী’ ও ‘পাকিস্তানি’ আখ্যা দিয়ে হামলা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে ছড়াচ্ছে করোনাভাইরাস ইরানকে একঘরে করতে ট্রাম্পের পরিকল্পনায় বড় বাধা চীন-রাশিয়া ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের মশাল মিছিল

ইরানকে একঘরে করতে ট্রাম্পের পরিকল্পনায় বড় বাধা চীন-রাশিয়া

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:২৭:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে একঘরে করতে বড় ধরনের চাপ তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু ইরান নয়, দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক লেনদেনে জড়িত অন্য দেশগুলোকেও কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ দুই বাণিজ্যিক অংশীদার—চীন ও রাশিয়া। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক, কৌশলগত ও সামরিক সম্পর্কের কারণে বেইজিং ও মস্কোর ওপর চাপ প্রয়োগ করা ওয়াশিংটনের জন্য সহজ হবে না।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তেল পাচার, অর্থ স্থানান্তর, মুদ্রা বিনিময়, জাহাজ নিবন্ধন এবং ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোকে কঠোর অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীনের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের পরিকল্পনা বড় বাধার মুখে পড়তে পারে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরান থেকে সমুদ্রপথে রপ্তানি হওয়া তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই কিনেছে চীন।

চীনের অনেক তেল শোধনাগার স্বাধীনভাবে পরিচালিত হওয়ায় সেগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবও তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে। এ ছাড়া ইরানের সঙ্গে লেনদেন করা চীনা ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে বেইজিংও পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞা কোনো সমস্যা সমাধানে সহায়ক হবে না। কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।

অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক আরও আলাদা ধরনের। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই দুই দেশ বাণিজ্য ও সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মস্কো ও তেহরান ২০ বছরের অংশীদারত্ব চুক্তি করে। একই বছরে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৪৮০ কোটি ডলারে পৌঁছায়।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও চীন এরই মধ্যে পশ্চিমা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে বিকল্প বাণিজ্যিক কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছে। ফলে ইরানকে একঘরে করতে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেইজিং ও মস্কোর উত্তেজনাও বাড়তে পারে।

এদিকে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক চাপের সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি এটিকে ওয়াশিংটনের ব্যর্থ নীতির ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেছেন, এর ফল হবে আরও একটি পরাজয়।

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপ মোকাবিলায় ইরানও বিকল্প পথ খুঁজছে। ব্রিকসের নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে যোগ দেওয়া এবং সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে তেহরান।

সব মিলিয়ে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার ট্রাম্পের উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে চীন ও রাশিয়ার অবস্থানের ওপর। আর এই দুই শক্তিশালী দেশের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে তেহরানের ওপর সর্বাত্মক অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা ওয়াশিংটনের জন্য কঠিন হতে পারে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামের ৪০ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

ইরানকে একঘরে করতে ট্রাম্পের পরিকল্পনায় বড় বাধা চীন-রাশিয়া

আপডেট সময় ০২:২৭:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে একঘরে করতে বড় ধরনের চাপ তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু ইরান নয়, দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক লেনদেনে জড়িত অন্য দেশগুলোকেও কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ দুই বাণিজ্যিক অংশীদার—চীন ও রাশিয়া। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক, কৌশলগত ও সামরিক সম্পর্কের কারণে বেইজিং ও মস্কোর ওপর চাপ প্রয়োগ করা ওয়াশিংটনের জন্য সহজ হবে না।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তেল পাচার, অর্থ স্থানান্তর, মুদ্রা বিনিময়, জাহাজ নিবন্ধন এবং ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোকে কঠোর অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীনের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের পরিকল্পনা বড় বাধার মুখে পড়তে পারে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরান থেকে সমুদ্রপথে রপ্তানি হওয়া তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই কিনেছে চীন।

চীনের অনেক তেল শোধনাগার স্বাধীনভাবে পরিচালিত হওয়ায় সেগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবও তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে। এ ছাড়া ইরানের সঙ্গে লেনদেন করা চীনা ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে বেইজিংও পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞা কোনো সমস্যা সমাধানে সহায়ক হবে না। কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।

অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক আরও আলাদা ধরনের। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই দুই দেশ বাণিজ্য ও সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মস্কো ও তেহরান ২০ বছরের অংশীদারত্ব চুক্তি করে। একই বছরে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৪৮০ কোটি ডলারে পৌঁছায়।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও চীন এরই মধ্যে পশ্চিমা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে বিকল্প বাণিজ্যিক কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছে। ফলে ইরানকে একঘরে করতে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেইজিং ও মস্কোর উত্তেজনাও বাড়তে পারে।

এদিকে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক চাপের সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি এটিকে ওয়াশিংটনের ব্যর্থ নীতির ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেছেন, এর ফল হবে আরও একটি পরাজয়।

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপ মোকাবিলায় ইরানও বিকল্প পথ খুঁজছে। ব্রিকসের নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে যোগ দেওয়া এবং সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে তেহরান।

সব মিলিয়ে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার ট্রাম্পের উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে চীন ও রাশিয়ার অবস্থানের ওপর। আর এই দুই শক্তিশালী দেশের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে তেহরানের ওপর সর্বাত্মক অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা ওয়াশিংটনের জন্য কঠিন হতে পারে।