উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে চলতি বছরের শেষের দিকে আবারও বৈঠকে বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের প্রস্তাবে এখনো তেমন সাড়া দেয়নি পিয়ংইয়ং। খবর রয়টার্সের।
শুক্রবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো হলেও উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কূটনৈতিক অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্যে সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার পরিসর কমিয়েছে ওয়াশিংটন। চলতি বছরের শেষ দিকে চীনে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা বা এপেক সম্মেলনকে ঘিরে ট্রাম্প-কিম বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত ওয়াশিংটন। তবে পিয়ংইয়ংকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি তারা।
অন্যদিকে কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং জানিয়েছেন, দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ককে উত্তর কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা কিংবা সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়ার কারণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি আত্মনির্ভর। বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দেশটির অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমেছে। ফলে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে পিয়ংইয়ং নিজের শর্তকে বেশি গুরুত্ব দিতে পারে।
এর মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়া প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
গবেষকদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করার বার্তা নয়; বরং নিজেদের অবস্থান শক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় আরও নমনীয় করার কৌশল হতে পারে। ফলে ট্রাম্প-কিমের বহুল আলোচিত বৈঠক আবারও বাস্তবে রূপ নেয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















