ঢাকা , রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
হোটেলের অতিথি সেজে ট্রাম্পকে হত্যার অপেক্ষায় ছিলেন শিক্ষক অ্যালেন আম্মারের অশ্লীলতা কি পারিবারিক ঐতিহ্য?: প্রশ্ন ছাত্রদল নেত্রীর ট্রাম্প প্রশাসনকে উপেক্ষা করে মাদুরোর পক্ষে রায় দিল নিউইয়র্ক আদালত মারা গেলেন সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী গোলাম সারোয়ার মিলন গত ১৭ বছর কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে কোনও কাজ হয়নি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সব তাস যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই, ইরান কথা বলতে চাইলে শুধু ‘ফোন’ করলেই হবে: ট্রাম্প গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা, সারা দেশে সতর্কতা জোরদার নতুন করে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-যুক্তরাজ্য, কলকাঠি নাড়ছে ওয়াশিংটন বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১ নোয়াখালীতে ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ, প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

আপনি কখনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হতাশ হবেন না: ড. ইউনূসকে ট্রাম্পের চিঠি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৫৬:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫
  • ১২৩০ বার পড়া হয়েছে

আগামী পহেলা আগস্ট থেকে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই বার্তা দিয়ে তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিটি নিজের ট্রুথ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিঠিটি হুবহু তুলে ধরা হলো: মাননীয় মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান উপদেষ্টা, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ ঢাকা

প্রিয় ইউনূস,

এই চিঠি পাঠানো আমার জন্য এক মহান সম্মানের বিষয়, কারণ এটি আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্কের দৃঢ়তা এবং প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। বাংলাদেশের সাথে উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও, একসাথে কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। তবে, আমরা এখন আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায্য বাণিজ্যের ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে চাই।

আমরা আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি বিশ্বের এক নম্বর বাজার—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অসাধারণ অর্থনীতিতে আরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার জন্য। গত কয়েক বছর ধরে আমরা বাংলাদেশের সাথে আমাদের বাণিজ্য সম্পর্ক নিজে আলোচনা করেছি এবং সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে আমাদের অবশ্যই এই দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী বাণিজ্য ঘাটতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, যা মূলত বাংলাদেশের শুল্ক, অ-শুল্ক নীতিমালা এবং বাণিজ্য বাধার কারণে সৃষ্টি হয়েছে।

দুঃখজনকভাবে, আমাদের সম্পর্কটি বর্তমানে একমুখী এবং পারস্পরিক নয়। তাই, পহেলা অগাস্ট ২০২৫ থেকে আমরা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো বাংলাদেশি যেকোনো এবং সব পণ্যের ওপর ৩৫% শুল্ক আরোপ করবো। বর্তমানে বিভিন্ন খাতে যে শুল্ক রয়েছে, এই শুল্ক তার অতিরিক্ত হিসাবে কার্যকর হবে।

এই শুল্ক এড়াতে যদি ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে পণ্য পাঠানো হয়, সেটিও উচ্চ শুল্কের আওতায় পড়বে। অনুগ্রহ করে উপলব্ধি করুন যে, বর্তমানে আপনার দেশের সাথে আমাদের যে বাণিজ্য বৈষম্য রয়েছে, এই ৩৫% শুল্ক হারটি সেই বৈষম্য দূর করার জন্য প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

তবে বাংলাদেশ বা আপনার দেশের কোম্পানিগুলি যদি যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য উৎপাদন বা তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তাদের কোনো শুল্ক দিতে হবে না। সেক্ষেত্রে দ্রুত, পেশাদারিত্বের সাথে তাদের অনুমোদন দিতে আমরা সবকিছু করবো যা হয়তো কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই করা হবে। তবে কোনো কারণে বাংলাদেশ যদি তার শুল্কহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আপনি যেকোনো হারে শুল্ক বাড়াবেন, আমরা একই হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করবো।

আপনি উপলব্ধি করবেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের যে বাণিজ্য ঘাটতি, সেটা তৈরির পেছনে ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশের অনেক বছরের শুল্ক ও অশুল্ক নীতি ও নানা রকমের বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা। এই ঘাটতি আমাদের অর্থনীতির জন্য এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। আমরা বহু বছর ধরে আপনার বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে কাজ করার জন্য আগ্রহী।

যদি আপনি এতদিন ধরে বন্ধ থাকা বাণিজ্য বাজার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুলতে চান এবং আপনার শুল্ক ও অশুল্ক নীতিমালা এবং বাণিজ্য বাধাগুলি দূর করতে চান, তাহলে আমরা এই চিঠির কিছু অংশ পুনর্বিবেচনা করতে পারি। এই শুল্ক হার আপনার দেশের সাথে আমাদের সম্পর্কের উপর নির্ভর করে বাড়তে বা কমতে পারে। আপনি কখনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হতাশ হবেন না। এই বিষয়ে আপনার মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ!

শুভেচ্ছান্তে,

ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হোটেলের অতিথি সেজে ট্রাম্পকে হত্যার অপেক্ষায় ছিলেন শিক্ষক অ্যালেন

আপনি কখনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হতাশ হবেন না: ড. ইউনূসকে ট্রাম্পের চিঠি

আপডেট সময় ০১:৫৬:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫

আগামী পহেলা আগস্ট থেকে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই বার্তা দিয়ে তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিটি নিজের ট্রুথ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিঠিটি হুবহু তুলে ধরা হলো: মাননীয় মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান উপদেষ্টা, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ ঢাকা

প্রিয় ইউনূস,

এই চিঠি পাঠানো আমার জন্য এক মহান সম্মানের বিষয়, কারণ এটি আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্কের দৃঢ়তা এবং প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। বাংলাদেশের সাথে উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও, একসাথে কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। তবে, আমরা এখন আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায্য বাণিজ্যের ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে চাই।

আমরা আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি বিশ্বের এক নম্বর বাজার—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অসাধারণ অর্থনীতিতে আরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার জন্য। গত কয়েক বছর ধরে আমরা বাংলাদেশের সাথে আমাদের বাণিজ্য সম্পর্ক নিজে আলোচনা করেছি এবং সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে আমাদের অবশ্যই এই দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী বাণিজ্য ঘাটতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, যা মূলত বাংলাদেশের শুল্ক, অ-শুল্ক নীতিমালা এবং বাণিজ্য বাধার কারণে সৃষ্টি হয়েছে।

দুঃখজনকভাবে, আমাদের সম্পর্কটি বর্তমানে একমুখী এবং পারস্পরিক নয়। তাই, পহেলা অগাস্ট ২০২৫ থেকে আমরা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো বাংলাদেশি যেকোনো এবং সব পণ্যের ওপর ৩৫% শুল্ক আরোপ করবো। বর্তমানে বিভিন্ন খাতে যে শুল্ক রয়েছে, এই শুল্ক তার অতিরিক্ত হিসাবে কার্যকর হবে।

এই শুল্ক এড়াতে যদি ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে পণ্য পাঠানো হয়, সেটিও উচ্চ শুল্কের আওতায় পড়বে। অনুগ্রহ করে উপলব্ধি করুন যে, বর্তমানে আপনার দেশের সাথে আমাদের যে বাণিজ্য বৈষম্য রয়েছে, এই ৩৫% শুল্ক হারটি সেই বৈষম্য দূর করার জন্য প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

তবে বাংলাদেশ বা আপনার দেশের কোম্পানিগুলি যদি যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য উৎপাদন বা তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তাদের কোনো শুল্ক দিতে হবে না। সেক্ষেত্রে দ্রুত, পেশাদারিত্বের সাথে তাদের অনুমোদন দিতে আমরা সবকিছু করবো যা হয়তো কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই করা হবে। তবে কোনো কারণে বাংলাদেশ যদি তার শুল্কহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আপনি যেকোনো হারে শুল্ক বাড়াবেন, আমরা একই হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করবো।

আপনি উপলব্ধি করবেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের যে বাণিজ্য ঘাটতি, সেটা তৈরির পেছনে ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশের অনেক বছরের শুল্ক ও অশুল্ক নীতি ও নানা রকমের বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা। এই ঘাটতি আমাদের অর্থনীতির জন্য এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। আমরা বহু বছর ধরে আপনার বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে কাজ করার জন্য আগ্রহী।

যদি আপনি এতদিন ধরে বন্ধ থাকা বাণিজ্য বাজার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুলতে চান এবং আপনার শুল্ক ও অশুল্ক নীতিমালা এবং বাণিজ্য বাধাগুলি দূর করতে চান, তাহলে আমরা এই চিঠির কিছু অংশ পুনর্বিবেচনা করতে পারি। এই শুল্ক হার আপনার দেশের সাথে আমাদের সম্পর্কের উপর নির্ভর করে বাড়তে বা কমতে পারে। আপনি কখনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হতাশ হবেন না। এই বিষয়ে আপনার মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ!

শুভেচ্ছান্তে,

ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট

সূত্র: বিবিসি বাংলা।