ঢাকা , মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সিঙ্গাপুর-দুবাইয়ে একাধিক কোম্পানি, অনুমতির তথ্য নেই: স্মার্ট টেকনোলজিসের এমডি জহিরুল ইসলামকে ঘিরে অভিযোগ বিদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ নিয়ে প্রশ্ন প্রযুক্তি ব্যবসার আড়ালে স্মার্ট টেকনোলজির অর্থপাচারের অভিযোগ ঢাকার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে দুই জেলার অংশ এআইতে আর্জেন্টিনার জার্সি বদলে ব্রাজিল, শেষমেশ শোকজ এসআই মহাকাশ থেকে হামলার সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনায় ইসরায়েল: কাটজ মাত্র ১ মিলিয়ন ডলারের বাজেট, বক্স অফিসে ৩৪৪ মিলিয়ন আয় ভারতীয় ভূখণ্ডে চীনা সেনা, দখলের অভিযোগ বিস্তৃত এলাকা জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস রূপপুরে আরও অনিয়ম, ২৭ কোটির যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছিল ২১৪ কোটিতে রুমিন ফারহানাকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ মন্তব্য

সিঙ্গাপুর-দুবাইয়ে একাধিক কোম্পানি, অনুমতির তথ্য নেই: স্মার্ট টেকনোলজিসের এমডি জহিরুল ইসলামকে ঘিরে অভিযোগ বিদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ নিয়ে প্রশ্ন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:৩৯:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতি ছাড়া সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে একাধিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা এবং বিদেশে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে দেশের প্রযুক্তিখাতের উদ্যোক্তা ও স্মার্ট টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ও আয়ের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নথিতে পাওয়া যাচ্ছে না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জহিরুল ইসলাম ও তার ভাই মাঝহারুল ইসলাম বিদেশে অন্তত তিনটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ বিষয়ে প্রায় এক বছর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
দেশীয় প্রতিষ্ঠানের আড়ালে বিদেশি ব্যবসার অভিযোগ
আগারগাঁওয়ের বিসিএস কম্পিউটার সিটির অন্যতম পুরনো প্রতিষ্ঠান স্মার্ট টেকনোলজিস নব্বইয়ের দশকে কম্পিউটার ব্যবসার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম প্রযুক্তিখাত ছাড়িয়ে খাদ্য ও নির্মাণ খাতেও বিস্তৃত হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে অংশীদারিত্বের কথাও জানা যায়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, ২০০৯ সালে সিঙ্গাপুরে ‘স্টারসিড টেকনোলজি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন জহিরুল ইসলাম ও মাঝহারুল ইসলাম। কোম্পানিটির প্রাথমিক মূলধন ছিল প্রায় ছয় মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার। সিঙ্গাপুরের নথি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে দুই ভাইয়ের মালিকানা সমান।
দুবাইয়ে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়েও জহিরুল ব্রাদার্সের নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ‘সিমাল টেকনোলজি মিডল ইস্ট’ নামের প্রতিষ্ঠানটি ২০০২ সালে নিবন্ধিত হয়। এতে জহিরুল ইসলামের মালিকানা ১৫ শতাংশ এবং মাঝহারুল ইসলামের মালিকানা ৮৫ শতাংশ বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া ‘টুইনমস টেকনোলজি মিডল ইস্ট’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্রি-জোন এলাকায় রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশি নথিতে নেই তথ্য—দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের
এসব বিদেশি বিনিয়োগ ও আয়ের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদেশে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে জহিরুল ইসলাম বা তার প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদনের তথ্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি আয়কর নথিতেও এসব প্রতিষ্ঠানের আয়ের হিসাব নেই বলে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জহিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য দেননি।
দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে প্রশ্ন
অর্থপাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গত বছরের মার্চে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়। তবে তদন্ত কর্মকর্তা অবসরে যাওয়ার পর অনুসন্ধান কার্যক্রমে আর দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে জানা গেছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অর্থপাচারের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সিঙ্গাপুর-দুবাইয়ে একাধিক কোম্পানি, অনুমতির তথ্য নেই: স্মার্ট টেকনোলজিসের এমডি জহিরুল ইসলামকে ঘিরে অভিযোগ বিদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ নিয়ে প্রশ্ন

সিঙ্গাপুর-দুবাইয়ে একাধিক কোম্পানি, অনুমতির তথ্য নেই: স্মার্ট টেকনোলজিসের এমডি জহিরুল ইসলামকে ঘিরে অভিযোগ বিদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় ০৬:৩৯:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতি ছাড়া সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে একাধিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা এবং বিদেশে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে দেশের প্রযুক্তিখাতের উদ্যোক্তা ও স্মার্ট টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ও আয়ের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নথিতে পাওয়া যাচ্ছে না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জহিরুল ইসলাম ও তার ভাই মাঝহারুল ইসলাম বিদেশে অন্তত তিনটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ বিষয়ে প্রায় এক বছর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
দেশীয় প্রতিষ্ঠানের আড়ালে বিদেশি ব্যবসার অভিযোগ
আগারগাঁওয়ের বিসিএস কম্পিউটার সিটির অন্যতম পুরনো প্রতিষ্ঠান স্মার্ট টেকনোলজিস নব্বইয়ের দশকে কম্পিউটার ব্যবসার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম প্রযুক্তিখাত ছাড়িয়ে খাদ্য ও নির্মাণ খাতেও বিস্তৃত হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে অংশীদারিত্বের কথাও জানা যায়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, ২০০৯ সালে সিঙ্গাপুরে ‘স্টারসিড টেকনোলজি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন জহিরুল ইসলাম ও মাঝহারুল ইসলাম। কোম্পানিটির প্রাথমিক মূলধন ছিল প্রায় ছয় মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার। সিঙ্গাপুরের নথি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে দুই ভাইয়ের মালিকানা সমান।
দুবাইয়ে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়েও জহিরুল ব্রাদার্সের নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ‘সিমাল টেকনোলজি মিডল ইস্ট’ নামের প্রতিষ্ঠানটি ২০০২ সালে নিবন্ধিত হয়। এতে জহিরুল ইসলামের মালিকানা ১৫ শতাংশ এবং মাঝহারুল ইসলামের মালিকানা ৮৫ শতাংশ বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া ‘টুইনমস টেকনোলজি মিডল ইস্ট’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্রি-জোন এলাকায় রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশি নথিতে নেই তথ্য—দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের
এসব বিদেশি বিনিয়োগ ও আয়ের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদেশে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে জহিরুল ইসলাম বা তার প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদনের তথ্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি আয়কর নথিতেও এসব প্রতিষ্ঠানের আয়ের হিসাব নেই বলে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জহিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য দেননি।
দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে প্রশ্ন
অর্থপাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গত বছরের মার্চে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়। তবে তদন্ত কর্মকর্তা অবসরে যাওয়ার পর অনুসন্ধান কার্যক্রমে আর দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে জানা গেছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অর্থপাচারের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নিতে হবে।