ঢাকা , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
হরমুজে অস্থায়ী করিডোর নিয়ে ইরান-ওমান বৈঠক দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারের ৭ নির্দেশনা নবীজির নীতি-আদর্শ অনুসরণ করলে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে: রিজভী ফের আলোচনায় মিল্টন সমাদ্দার, বৃদ্ধাকে আশ্রয় দিতে যাওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর রংপুরের ৪ খুনে অল্প সময়ে অপরাধী গ্রেপ্তার না হলে সুনাম ক্ষুণ্ন হতো: রিজভী গত ছয় মাসে পুলিশের মনোবল ফিরে এসেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঈদে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানালেন মোদি বাসচাপায় আহত সেনাসদস্য, নিহত স্ত্রী ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানালেন মোদি ভারত-পাকিস্তানের জাহাজসহ ৪৫টি নৌযান ইরানের কালো তালিকায়

সব হারানো জহুরার ঘর এখন জরাজীর্ণ যাত্রীছাউনি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:১৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

একসময় ছিল সংসার, স্বামী-সন্তান। এখন জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সব হারিয়ে ৭৫ বছর বয়সী জহুরা বেগমের ঠিকানা হয়েছে একটি জরাজীর্ণ যাত্রীছাউনি। মাথার ওপর নেই নিরাপদ ছাদ, নেই নিয়মিত খাবারের নিশ্চয়তা, এমনকি অসুস্থ শরীরের দেখভালের মতো আপনজনও নেই।

হৃদয়বিদারক এই ঘটনা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের বেতছড়ি এলাকার।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর আগে স্বামীকে হারান জহুরা বেগম। এক ছেলে ও এক মেয়ে ছিল তার। দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভুগে প্রায় ১৫ বছর আগে তারাও মারা যান। এরপর থেকেই একাকী জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।

বয়সের সঙ্গে বাড়তে থাকে নানা অসুস্থতা। প্রায় দুই বছর আগে সম্পর্কের জেঠি হওয়ায় বেতছড়ির আলম মিয়ার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন জহুরা। কিন্তু আলম মিয়া বর্তমানে এলাকায় নেই। অন্য এক স্বজন থাকলেও তিনিও অসুস্থ। ফলে জহুরার দেখভালের মতো কার্যত কেউ নেই।

সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। চিকিৎসা শেষে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে প্রায় দুই মাস থাকার পর সেই আশ্রয়ও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ঠাঁই হয় এলাকার একটি পুরোনো যাত্রীছাউনিতে।

এখন সেই জরাজীর্ণ ছাউনিই জহুরার ঘর ও ঠিকানা। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাউনির ভেতরে পানি পড়ে। নেই নিরাপদে থাকার কোনো ব্যবস্থা। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়েই অসুস্থ শরীরে দিন-রাত কাটছে তার।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগেও অন্যের ভিটায় একটি জরাজীর্ণ ঘরে থাকতেন জহুরা। নিজের কোনো জায়গা-জমি নেই। বয়স ও অসুস্থতার কারণে সেই আশ্রয়টুকুও হারিয়েছেন তিনি।

এখন ছাউনির পাশে পড়ে থাকা একটি অটোরিকশা চোখে পড়লেও সেখানে থাকা বৃদ্ধার নিজের জন্য নেই একটি নিরাপদ ঘর। নেই নিয়মিত খাবার কিংবা চিকিৎসার নিশ্চয়তাও। স্থানীয়দের কেউ খাবার দিলে খান, না হলে অনাহারেই দিন কাটে তার।

জহুরার এই করুণ অবস্থার কথা ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন—জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একজন অসুস্থ বৃদ্ধার ঠিকানা কি একটি ভাঙাচোরা যাত্রীছাউনি হতে পারে?

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত জহুরা বেগমের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, নিয়মিত খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

তাদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের উদ্যোগে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হবে অসহায় এই বৃদ্ধাকে। জীবনের শেষ দিনগুলো যেন আর রোদ-বৃষ্টির নিচে নয়, একটু নিরাপদ ও মর্যাদার সঙ্গে কাটাতে পারেন—এটাই এখন ৭৫ বছরের জহুরা বেগমের সবচেয়ে বড় চাওয়া।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজে অস্থায়ী করিডোর নিয়ে ইরান-ওমান বৈঠক

সব হারানো জহুরার ঘর এখন জরাজীর্ণ যাত্রীছাউনি

আপডেট সময় ১২:১৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

একসময় ছিল সংসার, স্বামী-সন্তান। এখন জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সব হারিয়ে ৭৫ বছর বয়সী জহুরা বেগমের ঠিকানা হয়েছে একটি জরাজীর্ণ যাত্রীছাউনি। মাথার ওপর নেই নিরাপদ ছাদ, নেই নিয়মিত খাবারের নিশ্চয়তা, এমনকি অসুস্থ শরীরের দেখভালের মতো আপনজনও নেই।

হৃদয়বিদারক এই ঘটনা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের বেতছড়ি এলাকার।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর আগে স্বামীকে হারান জহুরা বেগম। এক ছেলে ও এক মেয়ে ছিল তার। দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভুগে প্রায় ১৫ বছর আগে তারাও মারা যান। এরপর থেকেই একাকী জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।

বয়সের সঙ্গে বাড়তে থাকে নানা অসুস্থতা। প্রায় দুই বছর আগে সম্পর্কের জেঠি হওয়ায় বেতছড়ির আলম মিয়ার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন জহুরা। কিন্তু আলম মিয়া বর্তমানে এলাকায় নেই। অন্য এক স্বজন থাকলেও তিনিও অসুস্থ। ফলে জহুরার দেখভালের মতো কার্যত কেউ নেই।

সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। চিকিৎসা শেষে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে প্রায় দুই মাস থাকার পর সেই আশ্রয়ও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ঠাঁই হয় এলাকার একটি পুরোনো যাত্রীছাউনিতে।

এখন সেই জরাজীর্ণ ছাউনিই জহুরার ঘর ও ঠিকানা। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাউনির ভেতরে পানি পড়ে। নেই নিরাপদে থাকার কোনো ব্যবস্থা। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়েই অসুস্থ শরীরে দিন-রাত কাটছে তার।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগেও অন্যের ভিটায় একটি জরাজীর্ণ ঘরে থাকতেন জহুরা। নিজের কোনো জায়গা-জমি নেই। বয়স ও অসুস্থতার কারণে সেই আশ্রয়টুকুও হারিয়েছেন তিনি।

এখন ছাউনির পাশে পড়ে থাকা একটি অটোরিকশা চোখে পড়লেও সেখানে থাকা বৃদ্ধার নিজের জন্য নেই একটি নিরাপদ ঘর। নেই নিয়মিত খাবার কিংবা চিকিৎসার নিশ্চয়তাও। স্থানীয়দের কেউ খাবার দিলে খান, না হলে অনাহারেই দিন কাটে তার।

জহুরার এই করুণ অবস্থার কথা ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন—জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একজন অসুস্থ বৃদ্ধার ঠিকানা কি একটি ভাঙাচোরা যাত্রীছাউনি হতে পারে?

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত জহুরা বেগমের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, নিয়মিত খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

তাদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের উদ্যোগে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হবে অসহায় এই বৃদ্ধাকে। জীবনের শেষ দিনগুলো যেন আর রোদ-বৃষ্টির নিচে নয়, একটু নিরাপদ ও মর্যাদার সঙ্গে কাটাতে পারেন—এটাই এখন ৭৫ বছরের জহুরা বেগমের সবচেয়ে বড় চাওয়া।