নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। নিখোঁজ শত শত মানুষকে উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকারী দল। এরই মধ্যে অন্তত ১৬৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে বেশ কয়েকটি গ্রাম, ধ্বংস হয়েছে ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হিমবাহ ধসে ভোতে কোশি নদীর শাখা লহেন্দে খোলার প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর হঠাৎ পানির উচ্চতা বেড়ে যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভয়াবহ স্রোত রাসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বড় কোনো সতর্কতা ছাড়াই হঠাৎ পানির বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ে। রাসুয়ার তিমুরে এলাকায় পানির স্রোত প্রায় ১০০ মিটার উঁচু হয়ে বাজারের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। মুহূর্তেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় পুরো এলাকা। ভেসে যায় তিন শতাধিক গাড়ি ও ট্রাক।
বন্যার পানি নেমে গেলেও উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ বহু এলাকা কয়েক মিটার পুরু কাদা ও পলিতে ঢেকে গেছে।
নেপালের হিসাবে, শত শত মানুষের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই মানস সরোবরের তীর্থযাত্রী বলে জানিয়েছে নেপাল সরকার।
দুর্যোগে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা। যুক্তরাষ্ট্র ৫ লাখ ডলার, রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট ১৪ লাখ ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। ভারতও পাঠিয়েছে ১০ টন মানবিক সহায়তা।
এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধার এবং দুর্গত মানুষদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















