ঢাকা , শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আমরা ইনসাফের বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি: সাদিক কায়েম দিল্লিকে ৪ শর্ত দেওয়ার চিন্তা করছে ঢাকা বিরোধী দলের আন্দোলন দেশের জন্য ক্ষতি: পানিসম্পদ মন্ত্রী জাতিসংঘের প্রতিবেদন, ভারতে বাংলাভাষী মুসলিম, দলিত ও রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বাড়ার তথ্য, দিল্লির প্রতিবাদ আগে বিদ্যুতের জন্য ফোন চার্জ ‍দিতে পারতাম না: নয়ন এক মুসলিম দেশের ওপর হামলায় অন্য দেশের ভূমি ব্যবহার নয়: পেজেশকিয়ান জাতীয় চার নেতার মুরালকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ আখ্যা দিয়ে অপসারণ করলেন ইউএনও গ্রামে সরবরাহ বাড়াতেই রাজধানীতে লোডশেডিং নেপালে বন্যা-ভূমিধস: অপুদের দেশে ফেরার প্রস্তুতি, আটকে আছেন তাসরিফ রাজধানীতে মিছিলের চেষ্টা, স্বেচ্ছাসেবক লীগের একজন আটক

জাতিসংঘের প্রতিবেদন, ভারতে বাংলাভাষী মুসলিম, দলিত ও রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বাড়ার তথ্য, দিল্লির প্রতিবাদ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:১১:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

ভারতে বাংলাভাষী মুসলিম, দলিত, তফসিলি জাতি ও রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা, বৈষম্য ও নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটি—ইউএনসিইআরডি।

মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ভারতের বিপুলসংখ্যক মানুষের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে তফসিলি আদিবাসী, তফসিলি জাতি, দলিত, বাংলাভাষী মুসলিম এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

ইউএনসিইআরডির প্রতিবেদনে জাতিগত বিদ্বেষ থেকে সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া আটক, নির্যাতন, দুর্ব্যবহার ও যৌন সহিংসতার মতো অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষকে রাস্তায় থামিয়ে তল্লাশি, আটক এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রয়োজন থাকা ব্যক্তিদের জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে কমিটি।

এসব ঘটনা বন্ধে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউএনসিইআরডি। একই সঙ্গে কোনো জনগোষ্ঠীকে সম্মিলিতভাবে দেশ থেকে বহিষ্কার না করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে ২০১৭ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি আদেশ এবং ২০২৫ সালের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পরবর্তী পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কমিটির দাবি, এসব ঘটনার পর রোহিঙ্গা, বাংলাভাষী মুসলিম, অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের লক্ষ্য করে অভিযান, আটক ও হয়রানি বেড়েছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের পরদিনই এর সমালোচনা করেছে ভারত। জাতিসংঘে ভারতের মিশন প্রতিবেদনটিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পর্যালোচনা বৈঠকে ভারত তার সাংবিধানিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, আইনি কাঠামো, বহুত্ববাদ এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেছে।

তিনি জানান, নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ইউএনসিইআরডির পর্যবেক্ষণের জবাব দেবে ভারত। তবে পর্যালোচনা বৈঠকেই ‘ঢালাও মন্তব্য’ ও ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’ প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতীয় প্রতিনিধিদল।

জাতিসংঘের এই কমিটি ১৮ জন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ নিয়ে গঠিত। বর্ণবৈষম্য বিলোপ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো ওই সনদের শর্ত মেনে চলছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করাই কমিটির দায়িত্ব।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আমরা ইনসাফের বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি: সাদিক কায়েম

জাতিসংঘের প্রতিবেদন, ভারতে বাংলাভাষী মুসলিম, দলিত ও রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বাড়ার তথ্য, দিল্লির প্রতিবাদ

আপডেট সময় ০৬:১১:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

ভারতে বাংলাভাষী মুসলিম, দলিত, তফসিলি জাতি ও রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা, বৈষম্য ও নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটি—ইউএনসিইআরডি।

মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ভারতের বিপুলসংখ্যক মানুষের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে তফসিলি আদিবাসী, তফসিলি জাতি, দলিত, বাংলাভাষী মুসলিম এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

ইউএনসিইআরডির প্রতিবেদনে জাতিগত বিদ্বেষ থেকে সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া আটক, নির্যাতন, দুর্ব্যবহার ও যৌন সহিংসতার মতো অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষকে রাস্তায় থামিয়ে তল্লাশি, আটক এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রয়োজন থাকা ব্যক্তিদের জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে কমিটি।

এসব ঘটনা বন্ধে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউএনসিইআরডি। একই সঙ্গে কোনো জনগোষ্ঠীকে সম্মিলিতভাবে দেশ থেকে বহিষ্কার না করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে ২০১৭ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি আদেশ এবং ২০২৫ সালের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পরবর্তী পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কমিটির দাবি, এসব ঘটনার পর রোহিঙ্গা, বাংলাভাষী মুসলিম, অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের লক্ষ্য করে অভিযান, আটক ও হয়রানি বেড়েছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের পরদিনই এর সমালোচনা করেছে ভারত। জাতিসংঘে ভারতের মিশন প্রতিবেদনটিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পর্যালোচনা বৈঠকে ভারত তার সাংবিধানিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, আইনি কাঠামো, বহুত্ববাদ এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেছে।

তিনি জানান, নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ইউএনসিইআরডির পর্যবেক্ষণের জবাব দেবে ভারত। তবে পর্যালোচনা বৈঠকেই ‘ঢালাও মন্তব্য’ ও ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’ প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতীয় প্রতিনিধিদল।

জাতিসংঘের এই কমিটি ১৮ জন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ নিয়ে গঠিত। বর্ণবৈষম্য বিলোপ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো ওই সনদের শর্ত মেনে চলছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করাই কমিটির দায়িত্ব।