যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকির মুখে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত। প্রায় ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে ইরানকে নিজেদের দাবি মানতে বাধ্য করতে ইতিহাসের ‘সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন। এমন পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় তেহরান কী ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে সম্ভাব্য কয়েকটি কৌশলের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
তেল রপ্তানিতে বাধা:
ইরানের সাবেক রেভল্যুশনারি গার্ডস প্রধান ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু হলে হরমুজ প্রণালি বা পারস্য উপসাগরের অন্য কোনো পথ দিয়ে ইরান এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি হতে দেবে না। এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তেলবাহী জাহাজে হামলার আশঙ্কা:
উপসাগর থেকে বেরিয়ে আসা ট্যাংকারগুলো ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন বা দ্রুতগতির নৌযানের হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এমন হামলা বা হুমকি বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
লোহিত সাগরে বাড়তে পারে চাপ:
ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে পরিস্থিতির অবনতি হলে এশিয়ামুখী তেল সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্য বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা:
যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করে ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হলে প্রতিবেশী দেশগুলোকে ‘ভূমিকম্পের মতো’ জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
জ্বালানি ও পানি অবকাঠামোয় আঘাত:
তেল-গ্যাস স্থাপনা, বিদ্যুৎকেন্দ্র কিংবা পানি বিশুদ্ধকরণ অবকাঠামোয় হামলা হলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধ করে ব্যবহার করা দেশগুলোর জন্য ডিস্যালিনেশন স্থাপনায় হামলা মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সাইবার হামলা ও পরোক্ষ চাপ:
সরাসরি সামরিক সংঘাতের বাইরে সাইবার হামলার মাধ্যমেও পশ্চিমা দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এরই মধ্যে বিভিন্ন সাইবার হামলার জন্য ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের দায়ী করেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে তেহরান।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়ালে ইরান সরাসরি সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি, জ্বালানি সরবরাহ, উপসাগরীয় অবকাঠামো ও সাইবার সক্ষমতাকে পাল্টা চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























