ঢাকা , সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রাম মন্দিরের জন্য ৪ কোটির চেক দিলেন নারী, অ্যাকাউন্টে মিলল মাত্র ৩ রুপি ‘জীবনে আর কিছু চাওয়ার নাই’: বরযাত্রীর গাড়ি থেকে নববধূকে তুলে নিয়ে ছাত্রদলকর্মীর পোস্ট মক্কায় তৃতীয় হিজরির একটি বিরল কোরআনের পাণ্ডুলিপি প্রদর্শন  খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের, ইরান বলল ‘হাস্যকর’ এবার আরব আমিরাতে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা ইরানের সবার সঙ্গে সম্পর্কের দরজা খোলা রেখে বাণিজ্যিক-সামরিক চুক্তিতে যেতে হবে: ওমরাহ শেষে দেশে ফিরে আসিফ মাহমুদ বাংলাদেশকে প্রায় সাড়ে ২৯ কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র আকস্মিক পরিদর্শনে ভূমি প্রতিমন্ত্রী: অফিসে অনুপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আগেই দেয়া আছে হাজিরা সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণে মরিয়া প্রশাসন: বিএনপির সংসদ সদস্য বরের গাড়ি থামিয়ে নববধূকে তুলে নিয়ে গেল যুবক

খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের, ইরান বলল ‘হাস্যকর’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৩৭:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

এবার ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক মাধ্যমে দেওয়াখার্গ দ্বীপ ধ্বংসেরপোস্ট ও ভিডিওকেহাস্যকরও ভিত্তিহীন উল্লেখ করে ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির প্রধান হামিদ বোভার্ড জানান, সেখানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে এবং তেল উত্তোলন কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে। রয়টার্স নিশ্চিত করেছে যে, ট্রাম্পের শেয়ার করা বিস্ফোরণের ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি। বোভার্ড জানান, অতীতেও এমন হামলার চেষ্টা হয়েছিল, তবে শ্রমিকরা উৎপাদন সচল রেখেছেন এবং বর্তমানে তেল অবকাঠামো আধুনিকায়নের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা এক মাসেরও বেশি সময় পর নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি এআইজেনারেটেড (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি) ভিডিও শেয়ার করে দাবি করেছেন, ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ বোমা হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তবে, ইরান এই দাবিকে সম্পূর্ণহাস্যকরও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে একটি ধ্বংসাত্মক বিস্ফোরণের ভিডিও পোস্ট করে লেখেন, খার্গ দ্বীপ একদম চুরমার হয়ে গেছে! কিন্তু রয়টার্সের অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি। পোস্টের কয়েক ঘণ্টা পর পর্যন্ত খার্গ দ্বীপে কোনো হামলার বাস্তব প্রমাণ মেলেনি।

জাতীয় ইরানি তেল কোম্পানির প্রধান নির্বাহী হামিদ বোভার্দ জানান, ট্রাম্পের এই বার্তা হাস্যকর। খার্গ দ্বীপের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে। তিনি আরও জানান, তেল উত্তোলন ও রপ্তানি কার্যক্রম বিন্দুমাত্র বন্ধ হয়নি এবং সেখানে আগের ক্ষয়ক্ষতি মেরামত ও আধুনিকায়নের কাজ যথারীতি চলছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ইরানের মোট তেল রফতানির ৯০ শতাংশই এই খার্গ দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হতো।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান কোনো যুদ্ধ চায় না, তবে যে কোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেবে। গত রোববারের সামরিক উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু সশস্ত্র সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে: লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলা ও জর্ডানে ইরানের আঘাত: হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপনের প্রস্তুতির অভিযোগে ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন বাহিনী আক্রমণ চালায়। এর জবাবে ইরানি বাহিনী জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। তবে জর্ডান সামরিক বাহিনী জানায়, তারা আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে গুলি করে ভূপাতিত করেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ড্রোন বিতর্ক: ইরানের সেনাবাহিনী সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার দাবি করলেও আমিরাত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সেই খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত ও ট্যাংকারে মাইন হামলা: ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পারস্য উপসাগরে একটি মার্কিন ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করার দাবি করেছে। এছাড়া, হরমুজ দিয়ে বেআইনিভাবে চলাচলের সময় দুটি সামুদ্রিক মাইনের আঘাতে একটি সুপারট্যাংকারে আগুন ধরে যায় এবং সেটি অচল হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।

অর্থনৈতিক কঠোর অবস্থান ও নিষেধাজ্ঞা: সামরিক অপশনের পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসন ইরানের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট রয়টার্সকে জানান, ইরান এবং তাদের অর্থ লেনদেনে সাহায্যকারী বিদেশি ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে নতুন নতন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। মিসরেরব্যাংক মিসর’-এর আরব আমিরাত শাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর এখন নির্দিষ্ট ব্যাংকগুলোকে ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আমেরিকা প্রণালীটিকে মুক্ত দাবি করলেও ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডের নৌবাহিনী একে স্পষ্ট মিথ্যাচার বলে অভিহিত করেছে এবং জোর দিয়ে বলেছে যে, তাদের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রণালীটি দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা বিশ্ব তেলের বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি করছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাম মন্দিরের জন্য ৪ কোটির চেক দিলেন নারী, অ্যাকাউন্টে মিলল মাত্র ৩ রুপি

খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের, ইরান বলল ‘হাস্যকর’

আপডেট সময় ০২:৩৭:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

এবার ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক মাধ্যমে দেওয়াখার্গ দ্বীপ ধ্বংসেরপোস্ট ও ভিডিওকেহাস্যকরও ভিত্তিহীন উল্লেখ করে ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির প্রধান হামিদ বোভার্ড জানান, সেখানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে এবং তেল উত্তোলন কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে। রয়টার্স নিশ্চিত করেছে যে, ট্রাম্পের শেয়ার করা বিস্ফোরণের ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি। বোভার্ড জানান, অতীতেও এমন হামলার চেষ্টা হয়েছিল, তবে শ্রমিকরা উৎপাদন সচল রেখেছেন এবং বর্তমানে তেল অবকাঠামো আধুনিকায়নের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা এক মাসেরও বেশি সময় পর নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি এআইজেনারেটেড (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি) ভিডিও শেয়ার করে দাবি করেছেন, ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ বোমা হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তবে, ইরান এই দাবিকে সম্পূর্ণহাস্যকরও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে একটি ধ্বংসাত্মক বিস্ফোরণের ভিডিও পোস্ট করে লেখেন, খার্গ দ্বীপ একদম চুরমার হয়ে গেছে! কিন্তু রয়টার্সের অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি। পোস্টের কয়েক ঘণ্টা পর পর্যন্ত খার্গ দ্বীপে কোনো হামলার বাস্তব প্রমাণ মেলেনি।

জাতীয় ইরানি তেল কোম্পানির প্রধান নির্বাহী হামিদ বোভার্দ জানান, ট্রাম্পের এই বার্তা হাস্যকর। খার্গ দ্বীপের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে। তিনি আরও জানান, তেল উত্তোলন ও রপ্তানি কার্যক্রম বিন্দুমাত্র বন্ধ হয়নি এবং সেখানে আগের ক্ষয়ক্ষতি মেরামত ও আধুনিকায়নের কাজ যথারীতি চলছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ইরানের মোট তেল রফতানির ৯০ শতাংশই এই খার্গ দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হতো।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান কোনো যুদ্ধ চায় না, তবে যে কোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেবে। গত রোববারের সামরিক উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু সশস্ত্র সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে: লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলা ও জর্ডানে ইরানের আঘাত: হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপনের প্রস্তুতির অভিযোগে ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন বাহিনী আক্রমণ চালায়। এর জবাবে ইরানি বাহিনী জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। তবে জর্ডান সামরিক বাহিনী জানায়, তারা আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে গুলি করে ভূপাতিত করেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ড্রোন বিতর্ক: ইরানের সেনাবাহিনী সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার দাবি করলেও আমিরাত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সেই খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত ও ট্যাংকারে মাইন হামলা: ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পারস্য উপসাগরে একটি মার্কিন ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করার দাবি করেছে। এছাড়া, হরমুজ দিয়ে বেআইনিভাবে চলাচলের সময় দুটি সামুদ্রিক মাইনের আঘাতে একটি সুপারট্যাংকারে আগুন ধরে যায় এবং সেটি অচল হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।

অর্থনৈতিক কঠোর অবস্থান ও নিষেধাজ্ঞা: সামরিক অপশনের পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসন ইরানের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট রয়টার্সকে জানান, ইরান এবং তাদের অর্থ লেনদেনে সাহায্যকারী বিদেশি ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে নতুন নতন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। মিসরেরব্যাংক মিসর’-এর আরব আমিরাত শাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর এখন নির্দিষ্ট ব্যাংকগুলোকে ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আমেরিকা প্রণালীটিকে মুক্ত দাবি করলেও ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডের নৌবাহিনী একে স্পষ্ট মিথ্যাচার বলে অভিহিত করেছে এবং জোর দিয়ে বলেছে যে, তাদের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রণালীটি দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা বিশ্ব তেলের বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি করছে।