ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া এক শিশুর জৈবিক পিতা হিসেবে ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযুক্তের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর এক কিশোরকে ১০ বছরের আটকাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আদালত ঘোষণা দিয়েছেন, ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুটি আইনগতভাবে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।
মঙ্গলবার চট্টগ্রামের শিশু আদালত-২ এর বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এই রায় দেন। রায়ের পর অভিযুক্তকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে নিজ বাড়িতে ছুরির ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে প্রতিবেশী এক কিশোরের বিরুদ্ধে। ঘটনার সময় অভিযুক্তের বয়সও ১৮ বছরের কম থাকায় তার বিচার হয় শিশু আইনে।
ধর্ষণের ফলে ওই কিশোরী গর্ভবতী হন এবং পরে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। তবে জন্মের প্রায় দেড় বছর পর শিশুটি মারা যায়।
বিচার চলাকালে আদালতের নির্দেশে ভুক্তভোগী, অভিযুক্ত এবং মৃত শিশুর ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের জাতীয় ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরির প্রতিবেদনে নিশ্চিত হয়, অভিযুক্ত কিশোরই শিশুটির জৈবিক পিতা।
এর ভিত্তিতে আদালত শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী অভিযুক্তকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের আটকাদেশ দেন। বর্তমানে তার বয়স ১৮ বছরের বেশি হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের পৃথক ওয়ার্ডে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের বিধান অনুযায়ী আদালত নির্দেশ দেন, ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুটি দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সন্তান হিসেবে আইনগত স্বীকৃতি পাবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর জন্য ভরণপোষণের অর্থ নির্ধারণ ও আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পিতৃত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর এই রায়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আইন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এটি শুধু অপরাধের বিচারই নয়, ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও একটি তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















