ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইকনের পড়ালেখার দায়িত্ব নিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের পাশে স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসকেরা শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অ্যাকশনে বিজেপি ও শরিকদের অস্বস্তি রান্নার সময় মাংসের রং হলো সবুজ, কড়াই নিয়ে থানায় হাজির শিশুকে বলাৎকার করে মাদরাসাশিক্ষক বললেন, ‘মনে করো তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ তারেক রহমানের পাঙ্খা গজাইছে, সব পাঙ্খা ভেঙে মাটিতে পড়ে যাবে: পাটওয়ারী যে মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীকে লাল কার্ড ধরিয়ে দিতে চান পাটওয়ারী, সেই মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন সারজিস আলম সরকারি নির্দেশেই দিল্লিতে ইন্টারনেট বন্ধ, দাবি টেলিকম সংস্থাগুলোর বাবাকে হারিয়েও থামেনি জীবন, রাতের ডিউটি শেষে সকালে এইচএসসি পরীক্ষা দিলেন ইকন মেয়েটা যে অরক্ষিত হলো, এই দায়ভার কে নেবে: মনিরা শারমিন

সাবেক এমপিকে আমন্ত্রণের জেরে শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে ভাঙচুর

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৫৭:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • ৪৭ বার পড়া হয়েছে

একজন শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা হওয়ার কথা ছিল সম্মান আর শুভকামনায়। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানই পরিণত হলো ভাঙচুর আর উত্তেজনায়। পাবনার ঈশ্বরদীতে সাবেক এক এমপিকে প্রধান অতিথি করাকে কেন্দ্র করে পণ্ড হয়ে গেছে এক শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠান।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলামের অবসর উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদারকে প্রধান অতিথি করা হয়। এছাড়া স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বিএনপির আরও কয়েকজন নেতাকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

তবে অভিযোগ ওঠে, জেলা বিএনপির আহ্বায়ককে আমন্ত্রণ না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তার সমর্থকদের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে বিদ্যালয়ে ঢুকে পড়ে। তারা অনুষ্ঠানের মঞ্চ, চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে এবং অতিথিদের জন্য প্রস্তুত করা খাবার নষ্ট করে দেয়।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির দাবি, এ ঘটনায় প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. শাহীনা আক্তার জানান, অতিথিরা অনুষ্ঠানে পৌঁছানোর আগেই হামলার ঘটনা ঘটে। ফলে পুরো অনুষ্ঠান বাতিল করতে হয়। তিনি বলেন, একজন শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।

অভিযোগের বিষয়ে সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদার এবং অভিযুক্ত উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সরদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ দিনে প্রাপ্য সম্মানটুকুও পেলেন না শিক্ষক জহুরুল ইসলাম। আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনা ছাড়াই নীরবে বিদ্যালয় ছেড়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাকে। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইকনের পড়ালেখার দায়িত্ব নিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী

সাবেক এমপিকে আমন্ত্রণের জেরে শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে ভাঙচুর

আপডেট সময় ০৩:৫৭:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

একজন শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা হওয়ার কথা ছিল সম্মান আর শুভকামনায়। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানই পরিণত হলো ভাঙচুর আর উত্তেজনায়। পাবনার ঈশ্বরদীতে সাবেক এক এমপিকে প্রধান অতিথি করাকে কেন্দ্র করে পণ্ড হয়ে গেছে এক শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠান।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলামের অবসর উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদারকে প্রধান অতিথি করা হয়। এছাড়া স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বিএনপির আরও কয়েকজন নেতাকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

তবে অভিযোগ ওঠে, জেলা বিএনপির আহ্বায়ককে আমন্ত্রণ না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তার সমর্থকদের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে বিদ্যালয়ে ঢুকে পড়ে। তারা অনুষ্ঠানের মঞ্চ, চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে এবং অতিথিদের জন্য প্রস্তুত করা খাবার নষ্ট করে দেয়।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির দাবি, এ ঘটনায় প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. শাহীনা আক্তার জানান, অতিথিরা অনুষ্ঠানে পৌঁছানোর আগেই হামলার ঘটনা ঘটে। ফলে পুরো অনুষ্ঠান বাতিল করতে হয়। তিনি বলেন, একজন শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।

অভিযোগের বিষয়ে সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদার এবং অভিযুক্ত উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সরদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ দিনে প্রাপ্য সম্মানটুকুও পেলেন না শিক্ষক জহুরুল ইসলাম। আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনা ছাড়াই নীরবে বিদ্যালয় ছেড়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাকে। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।