মন্ত্রীত্ব হারানোর একমাস পর রাজসিক অভ্যর্থনায় রাঙামাটিতে ফিরেছন সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি। বিএনপিকে নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আর এবার বরদাশত করবো না।’
এসময় তিনি যাতে কেউ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে তার জন্য পাহাড়ি বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
বুধবার (০১ জুলাই) বিকালে রাঙামাটিতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
এর আগে ঢাকা থেকে সড়ক পথে রাঙামাটির প্রবেশদ্বার কাউখালীর বেতবুনিয়ার গোদারপাড় ও ঘাগড়ায় দুপুরে হাজারও নেতাকর্মী তাকে ফুলেল অভ্যর্থনা জানান।
পরে মোটর শোভাযাত্রাসহ বিকাল চারটায় শহরের কাঠালতলী দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হন। সেখানে বক্তব্য রাখেন তিনি। মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগের পর থেকে দলটির মধ্যে হতাশা তৈরি হলেও দীর্ঘ একমাস পর দীপেন দেওয়ানের উপস্থিততে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে। রাঙামাটি জেলার প্রবেশমুখ কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়ার বাবার বাগান এলাকা থেকে রাঙ্গামাটির কাঠালতলীস্থ দলীয় কার্যালয় পর্যন্ত পথে পথে তাকে ফুলেল সংবর্ধনা দেন নেতাকর্মীরা। যেন রাজকীয় অভ্যর্থনায় ফিরলেন দীপেন দেওয়ান। পথে পথে মিছিল, স্লোগান ও ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান বিএনপির নেতাকর্মীরা।
বক্তব্যে দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন ‘বিএনপিকে নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এবার আর বরদাশত করবো না। আমি তৃণমূল ভাইদের সাথে আছি, তৃণমূল ভাইদের সাথে থাকবো। এই তৃণমূল হচ্ছে বিএনপির শক্তি, বিএনপির প্রাণ। আমি এখনও সংসদ সদস্য আছি। আপনারা কোনো কিছু ভুলে যাবেন না। বিএনপিতে যারা ষড়যন্ত্র করে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন।’
দলের প্রতি আকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান আমাদের প্রিয় দলের নেতা। আমাদের সম্মানিত চেয়ারম্যান। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। উনার বাইরে আমরা কোনো কিছু করবো না। উনার আদেশ হচ্ছে সর্বশেষ আদেশ।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘বিএনপি হচ্ছে আমরা শেষ ঠিকানা। বিএনপি হচ্ছে আমার শেষ বাংলাদেশ। বিএনপি হচ্ছে আমার প্রথম বাংলাদেশ। পাহাড়ি বাঙালি ভাই ভাই থাকবেন, যাতে কেউ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াত আহবান জানান তিনি।’
এসময় অন্যান্যর মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম পনির, রাঙামাটি পৌরসভার সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভুট্টো।
রাঙ্গামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান শারীরিক অসুস্থতা দেখিয়ে পার্বত্যমন্ত্রী থেকে পদত্যাগ করেন গেল ১ জুন। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ১০২ দিন পর তিনি পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের ঘটনায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ প্রত্যাহার করে তাকে স্বপদে বহালের জন্য আন্দোলন করে তার কর্মী সমর্থক সহ বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ। পদত্যাগের পর থেকে ঢাকায় অবস্থান করলেও জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অংশ নেন।
এর ঠিক একমাস পর ১ জুলাই নিজের এলাকায় ফিরেন তিনি। তবে মন্ত্রীত্ব হারালেও দলীয় নেতাকর্মীদের রাজকীয় অভ্যর্থনায় ফিরেছেন তিনি। পদত্যাগের পর থেকে ঢাকায় অবস্থান করলেও জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অংশ নেন। পদত্যাগের পর এই প্রথম নিজ নির্বাচনী এলাকা রাঙামাটি সফরে এসে নেতাকর্মীদের সংবর্ধনা গ্রহণ করলেন তিনি।আর এই ফেরার মধ্যদিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উচ্ছ্বাস -চাঙ্গাভাব।
দলটির নেতারা বলছেন- দীপেন দেওয়ানকে ঘিরেই রাঙামাটি বিএনপি সুসংগঠিত। মন্ত্রীত্ব ছাড়াও নেতাকর্মীদের এই আকুণ্ঠ সমর্থন তারই প্রমাণ।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















