ঢাকা , বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পূর্বাচলকে ঢাকা জেলার আওতায় আনছে সরকার জামায়াতের ছায়া বাজেট আর পাস হওয়া বাজেট কাছাকাছিই: শফিকুর রহমান রেজাল্ট খারাপ করলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার খাতা চেক করতে পারবে: শিক্ষামন্ত্রী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্টের ইতিহাস বলছে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নিবে ব্রাজিল! মসজিদে নামাজ পড়াতে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল ইমামের উপহার হিসেবে ভারতে ১১০০ কেজি আম পাঠাল বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ৬ দিন পর ধ্বং’স*স্তূ’প থেকে জী’বিত উদ্ধার ৩ বছরের শিশু ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প: মৃত্যুর তালিকায় প্রায় ২০০০ মানুষ, আহত বহু পানি সরবরাহ বন্ধের চেষ্টা করলে, হাত কেটে ফেলা হবে: ভারতকে হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

হাসনাত-সারজিস অতিগোপনীয় অভিযোগ নিয়ে নাকি দরবেশ বাবাকে বাঁচাতে দুদকে গিয়েছিলো?: রাশেদ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৪৯:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

গত ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম দুদকে অতিগোপনীয় কি অভিযোগ নিয়ে গিয়েছিলেন, এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। আজ বুধবার (১ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে এ প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ ঘটনার তদন্ত চান রাশেদ খান। পাঠকের জন্য রাশেদ খানের ফেসবুক পোস্ট হুবহু তুলে দেওয়া হলো : গণঅভ্যুত্থানের পরে ডিসি নিয়োগের কেলেঙ্কারি কি মিথ্যা? গণঅভ্যুত্থানের ঠিক পরপরই সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে সচিবালয়ে কখনো রাত ২.০০টা পর্যন্ত, কখনো মধ্যরাত পর্যন্ত একত্রে বসে ডিসির তালিকা প্রস্তুত করেন যুগ্ম সচিব কেএম আলী আজম ও ভূয়া সমন্বয়ক পরিচয়ধারী গাজী সালাউদ্দীন তানভীর। যুগ্ম সচিব গাজী সালাউদ্দীন তানভীরকে স্যার সম্বোধন করতেন কেএম আলী আজম। কারণ তাকে সচিবালয়ে এ কাজের জন্য পাঠিয়েছিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম।

ঐ সময় তো হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম মন্ত্রীর থেকেও ক্ষমতাধর ব্যক্তি ছিলেন। ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখে যুগান্তরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গাজী সালাউদ্দীন তানভীর স্বীকার করেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমের পরামর্শে তিনি সচিবালয়ে এসেছেন। তানভীর ডিসির তালিকা প্রস্তুত করার সাথে নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে যুগান্তরকে বলেন, ‘বিগত আন্দোলনে আমাদের ভূমিকা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। প্রশাসনের কোথায় কাকে নিয়োগ দেওয়া হয়, তা দেখার কিংবা জানার অধিকার আমাদের আছে।

এ কারণেই এখানে আসতে হয়।ঠিক একইভাবে এনসিটিবিতেও তাকে দায়িত্ব দিয়েছিল হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম। সেসময় তো গণমাধ্যমে বই ছাপাতে কাগজ কেনাকে কেন্দ্র করে এনসিটিবির সমস্ত কেলেঙ্কারির তথ্য প্রকাশিত হয়। আমার প্রশ্ন হলো, ডিসি নিয়োগ নিয়ে কেলেঙ্কারির পরেও কেন গাজী সালাউদ্দীন তানভীরকে এনসিটিবিতে দায়িত্ব দেওয়া হলো? গাজী সালাউদ্দীন তানভীর তো ছাত্র সমন্বয়ক ছিলেন না? কিন্তু তিনি বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে সমন্বয়ক পরিচয়ে ঢুকেছেন। কারা তাকে এই ক্ষমতা দিয়েছিলো? আবার প্রশ্ন হলো ভূয়া সমন্বয়ক পরিচয় ব্যবহার করার জন্য শাস্তি না দিয়ে কেন এই অখ্যাত ব্যক্তিকে গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের একটি অংশের দ্বারা গঠিত দলে যুগ্ম সদস্য সচিবের মত গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন করা হলো? হঠাৎ উদয় হওয়া ব্যক্তিকে এই পদের জন্য সাজেস্ট করেছিল কারা? এটিও হাসনাত ও সারজিস করেছে।

স্বার্থ না থাকলে বিতর্কিত ব্যক্তিকে দলে বড় পদে বসানো ও সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেওয়ার মর্মার্থ কি? কোন দুদক এই ভূয়া সমন্বয়ক গাজী সালাউদ্দীন তানভীরকে ক্লিন সার্টিফিকেট দেয়? অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া দুদকের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পদত্যাগ করেন ২০২৬ সালের ৩ মার্চ। এর পূর্বে ১৮ ফেব্রুয়ারি দুদক আদালতে তানভীরের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি মর্মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তানভীরকে দায়মুক্তি দেন। অর্থাৎ হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত দুদকের কর্মকর্তারা গাজি সালাউদ্দিন তানভীরকে দায়মুক্তি দেন।

নিশ্চয়ই আপনাদের মনে থাকার কথা ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল হঠাৎ দুদুকের চেয়ারম্যান আবদুল মোমেনের সাথে দুদক কার্যালয়ে বৈঠক করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম। সে সময় তারা গণমাধ্যম এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। মূলত তারা দুদকের সামনে সব সময় গণমাধ্যমের কর্মীরা অবস্থান করেন। হাসনাত ও সারজিসের সামনে সাংবাদিকরা এসে হাজির হলে, তারা বলেন অতিগোপনীয় অভিযোগ নিয়ে এসেছি! কি সেই গোপন অভিযোগ? মূলত অতিগোপনীয় অভিযোগ দাখিলের নামে গাজী সালাউদ্দীন তানভীরসহ উপদেষ্টাদের যেসব এপিএস ও পিওদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে, সেসব বিষয়ে রফাদফা করতেই দুদকে হাজির হন হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম।

হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম নিজেরা সরাসরি দুর্নীতি বা তদবির বাণিজ্য করেননি। গাজি সালাউদ্দিন তানভীরদের মাধ্যমে করিয়েছে। সুতরাং ওদের রক্ষা করতে না পারলে নিজেরা ফেঁসে যাবেন। তাই রক্ষা করতে যা করার করেছেন। এজন্য এখন বড় গলায় বলতে পারেন, বিএনপি সরকারের সময় এনসিপির দরবেশ বাবা গাজী সালাউদ্দীন তানভীর দায়মুক্তি পেয়েছে! সব সেটাপ এভাবেই করে রেখেছিল যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ের পরে নির্বাচিত সরকার আসবে, আর দুদকের কর্মকর্তারা পদত্যাগের আগে ক্লিন সার্টিফিকেট দিয়ে যাবে। এতে সারাজীবন বলা যাবে, নির্বাচিত সরকার আমাদের দায় মুক্তি দিয়েছে! কিন্তু সাম্প্রতিককালে টিআইবির প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সুস্পষ্ট ঘুস ও দুর্নীতির তথ্য উঠে আসায় সবকিছু নতুন করে তদন্তের দাবি উঠেছে…. নতুন করে সব তদন্ত হোক।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পূর্বাচলকে ঢাকা জেলার আওতায় আনছে সরকার

হাসনাত-সারজিস অতিগোপনীয় অভিযোগ নিয়ে নাকি দরবেশ বাবাকে বাঁচাতে দুদকে গিয়েছিলো?: রাশেদ

আপডেট সময় ১২:৪৯:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

গত ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম দুদকে অতিগোপনীয় কি অভিযোগ নিয়ে গিয়েছিলেন, এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। আজ বুধবার (১ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে এ প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ ঘটনার তদন্ত চান রাশেদ খান। পাঠকের জন্য রাশেদ খানের ফেসবুক পোস্ট হুবহু তুলে দেওয়া হলো : গণঅভ্যুত্থানের পরে ডিসি নিয়োগের কেলেঙ্কারি কি মিথ্যা? গণঅভ্যুত্থানের ঠিক পরপরই সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে সচিবালয়ে কখনো রাত ২.০০টা পর্যন্ত, কখনো মধ্যরাত পর্যন্ত একত্রে বসে ডিসির তালিকা প্রস্তুত করেন যুগ্ম সচিব কেএম আলী আজম ও ভূয়া সমন্বয়ক পরিচয়ধারী গাজী সালাউদ্দীন তানভীর। যুগ্ম সচিব গাজী সালাউদ্দীন তানভীরকে স্যার সম্বোধন করতেন কেএম আলী আজম। কারণ তাকে সচিবালয়ে এ কাজের জন্য পাঠিয়েছিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম।

ঐ সময় তো হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম মন্ত্রীর থেকেও ক্ষমতাধর ব্যক্তি ছিলেন। ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখে যুগান্তরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গাজী সালাউদ্দীন তানভীর স্বীকার করেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমের পরামর্শে তিনি সচিবালয়ে এসেছেন। তানভীর ডিসির তালিকা প্রস্তুত করার সাথে নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে যুগান্তরকে বলেন, ‘বিগত আন্দোলনে আমাদের ভূমিকা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। প্রশাসনের কোথায় কাকে নিয়োগ দেওয়া হয়, তা দেখার কিংবা জানার অধিকার আমাদের আছে।

এ কারণেই এখানে আসতে হয়।ঠিক একইভাবে এনসিটিবিতেও তাকে দায়িত্ব দিয়েছিল হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম। সেসময় তো গণমাধ্যমে বই ছাপাতে কাগজ কেনাকে কেন্দ্র করে এনসিটিবির সমস্ত কেলেঙ্কারির তথ্য প্রকাশিত হয়। আমার প্রশ্ন হলো, ডিসি নিয়োগ নিয়ে কেলেঙ্কারির পরেও কেন গাজী সালাউদ্দীন তানভীরকে এনসিটিবিতে দায়িত্ব দেওয়া হলো? গাজী সালাউদ্দীন তানভীর তো ছাত্র সমন্বয়ক ছিলেন না? কিন্তু তিনি বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে সমন্বয়ক পরিচয়ে ঢুকেছেন। কারা তাকে এই ক্ষমতা দিয়েছিলো? আবার প্রশ্ন হলো ভূয়া সমন্বয়ক পরিচয় ব্যবহার করার জন্য শাস্তি না দিয়ে কেন এই অখ্যাত ব্যক্তিকে গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের একটি অংশের দ্বারা গঠিত দলে যুগ্ম সদস্য সচিবের মত গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন করা হলো? হঠাৎ উদয় হওয়া ব্যক্তিকে এই পদের জন্য সাজেস্ট করেছিল কারা? এটিও হাসনাত ও সারজিস করেছে।

স্বার্থ না থাকলে বিতর্কিত ব্যক্তিকে দলে বড় পদে বসানো ও সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেওয়ার মর্মার্থ কি? কোন দুদক এই ভূয়া সমন্বয়ক গাজী সালাউদ্দীন তানভীরকে ক্লিন সার্টিফিকেট দেয়? অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া দুদকের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পদত্যাগ করেন ২০২৬ সালের ৩ মার্চ। এর পূর্বে ১৮ ফেব্রুয়ারি দুদক আদালতে তানভীরের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি মর্মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তানভীরকে দায়মুক্তি দেন। অর্থাৎ হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত দুদকের কর্মকর্তারা গাজি সালাউদ্দিন তানভীরকে দায়মুক্তি দেন।

নিশ্চয়ই আপনাদের মনে থাকার কথা ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল হঠাৎ দুদুকের চেয়ারম্যান আবদুল মোমেনের সাথে দুদক কার্যালয়ে বৈঠক করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম। সে সময় তারা গণমাধ্যম এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। মূলত তারা দুদকের সামনে সব সময় গণমাধ্যমের কর্মীরা অবস্থান করেন। হাসনাত ও সারজিসের সামনে সাংবাদিকরা এসে হাজির হলে, তারা বলেন অতিগোপনীয় অভিযোগ নিয়ে এসেছি! কি সেই গোপন অভিযোগ? মূলত অতিগোপনীয় অভিযোগ দাখিলের নামে গাজী সালাউদ্দীন তানভীরসহ উপদেষ্টাদের যেসব এপিএস ও পিওদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে, সেসব বিষয়ে রফাদফা করতেই দুদকে হাজির হন হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম।

হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম নিজেরা সরাসরি দুর্নীতি বা তদবির বাণিজ্য করেননি। গাজি সালাউদ্দিন তানভীরদের মাধ্যমে করিয়েছে। সুতরাং ওদের রক্ষা করতে না পারলে নিজেরা ফেঁসে যাবেন। তাই রক্ষা করতে যা করার করেছেন। এজন্য এখন বড় গলায় বলতে পারেন, বিএনপি সরকারের সময় এনসিপির দরবেশ বাবা গাজী সালাউদ্দীন তানভীর দায়মুক্তি পেয়েছে! সব সেটাপ এভাবেই করে রেখেছিল যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ের পরে নির্বাচিত সরকার আসবে, আর দুদকের কর্মকর্তারা পদত্যাগের আগে ক্লিন সার্টিফিকেট দিয়ে যাবে। এতে সারাজীবন বলা যাবে, নির্বাচিত সরকার আমাদের দায় মুক্তি দিয়েছে! কিন্তু সাম্প্রতিককালে টিআইবির প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সুস্পষ্ট ঘুস ও দুর্নীতির তথ্য উঠে আসায় সবকিছু নতুন করে তদন্তের দাবি উঠেছে…. নতুন করে সব তদন্ত হোক।