দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী আইন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজ। কিন্তু দীর্ঘ ইতিহাসের এই প্রতিষ্ঠানটি আজও পরিচালিত হচ্ছে একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ভবনে।
প্রায় সাড়ে ৫০০ শিক্ষার্থী, চারজন শিক্ষক ও পাঁচজন কর্মচারীর জন্য একটি ভবনেই চলছে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। ক্লাসরুম, অফিস, টয়লেট, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা—সব ক্ষেত্রেই রয়েছে তীব্র সংকট। অথচ কলেজের নামে ব্যাংকে রয়েছে প্রায় ৬ কোটি টাকার এফডিআর।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, ভবন নির্মাণে প্রধান বাধা জমির মালিকানা। ভবনটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির ওপর হওয়ায় নতুন ভবন নির্মাণের আগে জমিটি কলেজের নামে রেজিস্ট্রি করা জরুরি। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা জানান, কয়েক বছর আগেই নতুন ভবনের নকশা, সয়েল টেস্ট ও ভূমি জরিপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। জমির আইনি জটিলতা কাটলেই ছয়তলা ভিত্তির নতুন ভবন নির্মাণ শুরু করা সম্ভব হবে।
এদিকে ২০০৮ সালেই ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও এখনো সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। ছাদ ও দেয়াল থেকে নিয়মিত পলেস্তারা খসে পড়ছে, বৃষ্টিতে চুইয়ে পড়া পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শ্রেণিকক্ষ। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানান, ভবনের পুনর্মূল্যায়নের কাজ চলছে। সেটি শেষ হলে পুনরায় প্রস্তাব পাঠানো হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন মিললে জমি কলেজের নামে রেজিস্ট্রি এবং নতুন ভবন নির্মাণের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
দীর্ঘদিনের এই সংকট দ্রুত সমাধান করে নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজে নিরাপদ ও আধুনিক শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সাবেক শিক্ষার্থীরা।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















