ঢাকা , রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা, সারা দেশে সতর্কতা জোরদার নতুন করে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-যুক্তরাজ্য, কলকাঠি নাড়ছে ওয়াশিংটন বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১ নোয়াখালীতে ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ, প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার ১৩ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ, পূজা চেরির বাবা গ্রেপ্তার উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর স্মার্টফোনের ন্যূনতম দাম ২৫০০ টাকার মধ্যে আনতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ‘স্থায়ী শান্তি’ আসবে না: রাশিয়া হাজার চেষ্টা করলেও আ.লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির আজহারী ও জারার ছবি ব্যবহার করে যৌন উত্তেজক ওষুধের বিজ্ঞাপন, গ্রেপ্তার ১০

‘আমি একজন গর্বিত মুসলিম’ — বিদায় বেলায় বললেন উসমান খাজা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৪১:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩৬২ বার পড়া হয়েছে

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ও প্রথম মুসলিম টেস্ট ব্যাটার উসমান খাজা। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষপ্রান্তে এসে কঠিন সময়ই পার করছিলেন তিনি। ব্যাটে রান আসছিল না, একপর্যায়ে জায়গা হারাতে হয়েছিল দল থেকেও। ঠিক তখনই অস্ট্রেলিয়ার সমাজে ঘটে যায় আরেক ঘটনা, যা খাজার ব্যক্তিগত জীবনে নতুন করে চাপ তৈরি করে।
সিডনির বন্ডাই সমুদ্র সৈকতে হামলার ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়াজুড়ে ইসলামবিদ্বেষ ও মুসলিমবিরোধী মনোভাব চোখে পড়ে। এর আঁচ উসমান খাজাও পেয়েছেন। তবে সব বাধা আর নেতিবাচকতাকে পেছনে ফেলে আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি।
অ্যাডিলেইডে কামব্যাক টেস্টে খেলে ফেলেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস—৮২ ও ৪০ রান। সেই অ্যাশেজ সিরিজ এখন শেষের পথে। রোববার সিডনি টেস্ট খেলেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলবেন উসমান খাজা—এই ঘোষণা তিনি দিয়েছেন এক আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী র‍্যাচেল ও দুই কন্যা।
সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটের চেয়ে নিজের জীবনের অভিজ্ঞতাই বেশি তুলে ধরেন খাজা। বিশেষ করে বর্ণবাদ ও পরিচয়ের সংগ্রামের কথা বলেন তিনি। খাজার ভাষায়,
‘সবচেয়ে বড় অনুভূতি হলো তৃপ্তি। আমি ভাগ্যবান যে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এতগুলো ম্যাচ খেলতে পেরেছি। আশা করি, এই পথে আমি অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে পেরেছি।’
ছোট বয়সে ইসলামাবাদ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান উসমান খাজা। বহু বাধা অতিক্রম করে জায়গা করে নেন জাতীয় দলে। একসময় তিনি ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র এশিয়ান বংশোদ্ভূত প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার। অনেক তরুণের কাছে তিনি সুযোগ তৈরির প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তবে পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই তাঁকে বর্ণবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
তবু থেমে যাননি তিনি। ক্যারিয়ারের শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে নিজের জীবনকেই উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে খাজা বলেন,
‘আমি একজন গর্বিত মুসলিম, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ভিন্ন রঙের মানুষ। আমাকে বলা হয়েছিল, আমি কখনো অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে পারব না। এখন আমাকে দেখো। তুমিও আমার মতো পারো।’
সিডনি টেস্টের আগে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৮৭টি টেস্ট খেলেছেন উসমান খাজা। রান করেছেন ৬ হাজার ২০৬, সেঞ্চুরি ১৬টি, গড় ৪৩.৩৯। গত বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করা ২৩২ রান তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংস। এরপর আর তিন অঙ্কের দেখা পাননি তিনি। রানের ধারাবাহিকতা কমে যাওয়ায় বাড়ছিল চাপও।
৩৯ বছর বয়সে এসে আবার নতুন করে ফেরার কথা ভাবেননি খাজা। শেষ পর্যন্ত সম্মানজনক বিদায়ের পথই বেছে নিলেন। সিডনি টেস্ট দিয়েই শেষ হচ্ছে এক সাহস, সংগ্রাম আর অনুপ্রেরণায় ভরা অধ্যায়—উসমান খাজার টেস্ট

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা, সারা দেশে সতর্কতা জোরদার

‘আমি একজন গর্বিত মুসলিম’ — বিদায় বেলায় বললেন উসমান খাজা

আপডেট সময় ১১:৪১:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ও প্রথম মুসলিম টেস্ট ব্যাটার উসমান খাজা। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষপ্রান্তে এসে কঠিন সময়ই পার করছিলেন তিনি। ব্যাটে রান আসছিল না, একপর্যায়ে জায়গা হারাতে হয়েছিল দল থেকেও। ঠিক তখনই অস্ট্রেলিয়ার সমাজে ঘটে যায় আরেক ঘটনা, যা খাজার ব্যক্তিগত জীবনে নতুন করে চাপ তৈরি করে।
সিডনির বন্ডাই সমুদ্র সৈকতে হামলার ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়াজুড়ে ইসলামবিদ্বেষ ও মুসলিমবিরোধী মনোভাব চোখে পড়ে। এর আঁচ উসমান খাজাও পেয়েছেন। তবে সব বাধা আর নেতিবাচকতাকে পেছনে ফেলে আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি।
অ্যাডিলেইডে কামব্যাক টেস্টে খেলে ফেলেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস—৮২ ও ৪০ রান। সেই অ্যাশেজ সিরিজ এখন শেষের পথে। রোববার সিডনি টেস্ট খেলেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলবেন উসমান খাজা—এই ঘোষণা তিনি দিয়েছেন এক আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী র‍্যাচেল ও দুই কন্যা।
সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটের চেয়ে নিজের জীবনের অভিজ্ঞতাই বেশি তুলে ধরেন খাজা। বিশেষ করে বর্ণবাদ ও পরিচয়ের সংগ্রামের কথা বলেন তিনি। খাজার ভাষায়,
‘সবচেয়ে বড় অনুভূতি হলো তৃপ্তি। আমি ভাগ্যবান যে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এতগুলো ম্যাচ খেলতে পেরেছি। আশা করি, এই পথে আমি অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে পেরেছি।’
ছোট বয়সে ইসলামাবাদ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান উসমান খাজা। বহু বাধা অতিক্রম করে জায়গা করে নেন জাতীয় দলে। একসময় তিনি ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র এশিয়ান বংশোদ্ভূত প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার। অনেক তরুণের কাছে তিনি সুযোগ তৈরির প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তবে পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই তাঁকে বর্ণবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
তবু থেমে যাননি তিনি। ক্যারিয়ারের শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে নিজের জীবনকেই উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে খাজা বলেন,
‘আমি একজন গর্বিত মুসলিম, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ভিন্ন রঙের মানুষ। আমাকে বলা হয়েছিল, আমি কখনো অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে পারব না। এখন আমাকে দেখো। তুমিও আমার মতো পারো।’
সিডনি টেস্টের আগে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৮৭টি টেস্ট খেলেছেন উসমান খাজা। রান করেছেন ৬ হাজার ২০৬, সেঞ্চুরি ১৬টি, গড় ৪৩.৩৯। গত বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করা ২৩২ রান তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংস। এরপর আর তিন অঙ্কের দেখা পাননি তিনি। রানের ধারাবাহিকতা কমে যাওয়ায় বাড়ছিল চাপও।
৩৯ বছর বয়সে এসে আবার নতুন করে ফেরার কথা ভাবেননি খাজা। শেষ পর্যন্ত সম্মানজনক বিদায়ের পথই বেছে নিলেন। সিডনি টেস্ট দিয়েই শেষ হচ্ছে এক সাহস, সংগ্রাম আর অনুপ্রেরণায় ভরা অধ্যায়—উসমান খাজার টেস্ট