ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ভারতে যে হারে মসজিদ ভাঙা হয়, সে হারে কি বাংলাদেশে মন্দির ভাঙা হয়: প্রশ্ন চিফ হুইপের ৪০ ডিগ্রি গরমেও রাজপথ ছাড়েনি ‘ককরোচ’ বিক্ষোভকারীরা, টানা আন্দোলনে উত্তপ্ত ভারত সাভারে আর্জেন্টিনার কিশোর সমর্থককে হত্যা করল ব্রাজিল সমর্থকরা শুধু মানুষ নয়, কোনো প্রাণীই যেন হিংস্রতার শিকার না হয়: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অভ‍্যন্তরীণ ইস্যুতে কারো হস্তক্ষেপ মানবে না চীন: রাষ্ট্রদূত মসজিদে স্পিকার-বা মাইকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করছে ইসরায়েল ভোরে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে, ম্যাচের রেফারি সেই ড্রু ফিশার খামেনির শেষ বিদায়ের প্রস্তুতিতে সর্বোচ্চ সতর্কতায় ইরান, শরিক হচ্ছে ৩০টিরও বেশি দেশ বিশ্বকাপে দলের হারের পর শুনলেন ‘বাবাও নেই’ ভেনেজুয়েলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২৯৫, জায়গা নেই মর্গে

৪০ ডিগ্রি গরমেও রাজপথ ছাড়েনি ‘ককরোচ’ বিক্ষোভকারীরা, টানা আন্দোলনে উত্তপ্ত ভারত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৫৮:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

এবার ভারতের রাজধানী দিল্লির জন্তর মন্তরে টানা ১০ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শত শত শিক্ষার্থী, তরুণ পেশাজীবী ও অধিকারকর্মী। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও তারা দিনরাত অবস্থান করছেন রাস্তায়। এমনকি ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপপ্রবাহেও বিক্ষোভকারীরা এখনও রাস্তায় রয়েছেন। নিজেদের তারা পরিচয় দিচ্ছেনককরোচবাতেলাপোকানামে। এমনটাই বলছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি। 

আন্দোলনকারীরা অনলাইনভিত্তিক ব্যঙ্গধর্মী সংগঠনককরোচ জনতা পার্টি’-র সদস্য। তাদের দাবি, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। আন্দোলনে নতুন গতি আসে জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করার পর। তিনি বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই তিনি আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয় মে মাসে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার কিছু তরুণ সাংবাদিক ও কর্মীকেককরোচপরজীবীবলে মন্তব্য করেন। পরে তিনি ব্যাখ্যা দিলেও মন্তব্যটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী অভিজিৎ দিপকে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করেন—‘সব ককরোচ যদি একসঙ্গে হয়?’ সেই পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর এআইএর সহায়তায় সংগঠনের প্রতীক তৈরি করা হয়। এরপরই জন্ম নেয়ককরোচ জনতা পার্টি

প্রথমে এটি ছিল ব্যঙ্গ ও হাস্যরসের একটি অনলাইন উদ্যোগ। পরে এটি বেকারত্ব, চাকরির সংকট এবং বারবার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে তরুণদের প্রতিবাদের বড় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে সংগঠনটির অনুসারী প্রায় দুই কোটি ২০ লাখ। গত ৬ জুন দিল্লিতে প্রথম বিক্ষোভ করে সংগঠনটি। এরপর দেশের বিভিন্ন শহরে কর্মসূচি পালন করে আবার জন্তর মন্তরে ফিরে আসে তারা। এবার তাদের ঘোষণা, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

তবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি আন্দোলনকারীদের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের সহযোগী বলে মন্তব্য করেছেন। ক্ষমতাসীন দলের নেতারাও সংগঠনটিকে দেশের জন্য ক্ষতিকর বলে দাবি করেছেন। সরকার নতুন করে ভর্তি পরীক্ষা নিলেও আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ কমেনি। তাদের দাবি, শুধু পরীক্ষা নেওয়া নয়, পুরো শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। আন্দোলনস্থলে প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবারের দাবিএমন কয়েকজন শিক্ষার্থীর ছবি ও নাম দিয়ে একটি স্মৃতি দেয়ালও তৈরি করা হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন মানুষ ফুল দিচ্ছেন এবং সমর্থনের বার্তা লিখছেন। আন্দোলনের মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ তাদের একটি দাবি মাত্র। তবে তাদের মূল লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে থাকবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দায়িত্বশীলতা। তথ্যসূত্র: বিবিসি

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে যে হারে মসজিদ ভাঙা হয়, সে হারে কি বাংলাদেশে মন্দির ভাঙা হয়: প্রশ্ন চিফ হুইপের

৪০ ডিগ্রি গরমেও রাজপথ ছাড়েনি ‘ককরোচ’ বিক্ষোভকারীরা, টানা আন্দোলনে উত্তপ্ত ভারত

আপডেট সময় ০১:৫৮:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

এবার ভারতের রাজধানী দিল্লির জন্তর মন্তরে টানা ১০ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শত শত শিক্ষার্থী, তরুণ পেশাজীবী ও অধিকারকর্মী। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও তারা দিনরাত অবস্থান করছেন রাস্তায়। এমনকি ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপপ্রবাহেও বিক্ষোভকারীরা এখনও রাস্তায় রয়েছেন। নিজেদের তারা পরিচয় দিচ্ছেনককরোচবাতেলাপোকানামে। এমনটাই বলছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি। 

আন্দোলনকারীরা অনলাইনভিত্তিক ব্যঙ্গধর্মী সংগঠনককরোচ জনতা পার্টি’-র সদস্য। তাদের দাবি, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। আন্দোলনে নতুন গতি আসে জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করার পর। তিনি বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই তিনি আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয় মে মাসে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার কিছু তরুণ সাংবাদিক ও কর্মীকেককরোচপরজীবীবলে মন্তব্য করেন। পরে তিনি ব্যাখ্যা দিলেও মন্তব্যটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী অভিজিৎ দিপকে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করেন—‘সব ককরোচ যদি একসঙ্গে হয়?’ সেই পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর এআইএর সহায়তায় সংগঠনের প্রতীক তৈরি করা হয়। এরপরই জন্ম নেয়ককরোচ জনতা পার্টি

প্রথমে এটি ছিল ব্যঙ্গ ও হাস্যরসের একটি অনলাইন উদ্যোগ। পরে এটি বেকারত্ব, চাকরির সংকট এবং বারবার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে তরুণদের প্রতিবাদের বড় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে সংগঠনটির অনুসারী প্রায় দুই কোটি ২০ লাখ। গত ৬ জুন দিল্লিতে প্রথম বিক্ষোভ করে সংগঠনটি। এরপর দেশের বিভিন্ন শহরে কর্মসূচি পালন করে আবার জন্তর মন্তরে ফিরে আসে তারা। এবার তাদের ঘোষণা, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

তবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি আন্দোলনকারীদের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের সহযোগী বলে মন্তব্য করেছেন। ক্ষমতাসীন দলের নেতারাও সংগঠনটিকে দেশের জন্য ক্ষতিকর বলে দাবি করেছেন। সরকার নতুন করে ভর্তি পরীক্ষা নিলেও আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ কমেনি। তাদের দাবি, শুধু পরীক্ষা নেওয়া নয়, পুরো শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। আন্দোলনস্থলে প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবারের দাবিএমন কয়েকজন শিক্ষার্থীর ছবি ও নাম দিয়ে একটি স্মৃতি দেয়ালও তৈরি করা হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন মানুষ ফুল দিচ্ছেন এবং সমর্থনের বার্তা লিখছেন। আন্দোলনের মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ তাদের একটি দাবি মাত্র। তবে তাদের মূল লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে থাকবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দায়িত্বশীলতা। তথ্যসূত্র: বিবিসি