ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শুধু মানুষ নয়, কোনো প্রাণীই যেন হিংস্রতার শিকার না হয়: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অভ‍্যন্তরীণ ইস্যুতে কারো হস্তক্ষেপ মানবে না চীন: রাষ্ট্রদূত মসজিদে স্পিকার-বা মাইকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করছে ইসরায়েল ভোরে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে, ম্যাচের রেফারি সেই ড্রু ফিশার খামেনির শেষ বিদায়ের প্রস্তুতিতে সর্বোচ্চ সতর্কতায় ইরান, শরিক হচ্ছে ৩০টিরও বেশি দেশ বিশ্বকাপে দলের হারের পর শুনলেন ‘বাবাও নেই’ ভেনেজুয়েলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২৯৫, জায়গা নেই মর্গে ৩২ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বাধা নেই বিশ্বকাপের মাঝেই গাজায় প্রাণ হারালেন ফিলিস্তিনি গোলরক্ষক পদ্মা রেল সেতুর নিচে মাটি অপসারণ প্রকল্পেরই অংশ, ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী

বিশ্বকাপে দলের হারের পর শুনলেন ‘বাবাও নেই’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:১৮:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

এবার বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের হতাশা কাটিয়ে ওঠার আগেই আরও বড় দুঃসংবাদের মুখোমুখি হলেন ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় হারের পর সংবাদ সম্মেলনের মাঝপথেই তিনি জানতে পারেন, তার বাবা আর বেঁচে নেই। বুধবার (১ জুলাই) রাতে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত শেষ ৩২এর ম্যাচে দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হ্যারি কেনের জোড়া গোলে ২১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ডিআর কঙ্গো। ম্যাচ শেষে স্বাভাবিকভাবেই সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন ফরাসি কোচ দেসাব্রে। দলীয় পারফরম্যান্স, ম্যাচের বিশ্লেষণ ও বিশ্বকাপ যাত্রা নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন।

কিন্তু আলোচনার এক পর্যায়ে হঠাৎ করেই সংবাদ সম্মেলন কক্ষের পরিবেশ বদলে যায়। দলের এক মিডিয়া অফিসার ফরাসি ভাষায় উপস্থিত সবাইকে জানান, কোচের বাবা মারা গেছেন। খবরটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই স্তব্ধ হয়ে যান দেসাব্রে। কয়েক মুহূর্তের জন্য তিনি নীরব হয়ে থাকেন, যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যা শুনেছেন। এরপর ধীরস্বরেমার্সিবলে চেয়ার ছেড়ে উঠে যান তিনি। মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় সংবাদ সম্মেলন। ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়ায় দ্রুতই তা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ফুটবলপ্রেমীরা কোচের প্রতি সমবেদনা জানান। অনেকেই এই কঠিন সময়ে তার পাশে থাকার বার্তা দেন।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে কঙ্গো শুরু থেকেই দারুণ লড়াই করে। মাত্র সাত মিনিটে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি। দীর্ঘ সময় তারা সেই লিড ধরে রাখলেও শেষ দিকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন। ৭৫ মিনিটের পরপরই সমতা ফেরান তিনি এবং ৮৬ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে দলকে জয় এনে দেন। ফলে প্রথমবার নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় ডিআর কঙ্গোর।

তবে ফলের হতাশার মধ্যেও নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন দেসাব্রে। তিনি বলেন, তার দল বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে সাহসী ফুটবল খেলেছে এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছে। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কঙ্গোর ফুটবলকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিশ্বকাপে এই প্রথম নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া কঙ্গো ইতিহাস গড়লেও শেষ পর্যন্ত আবেগঘন এক অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে তাদের যাত্রা শেষ হলো। একই সঙ্গে ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন ব্যক্তিগত মুহূর্তও বয়ে আনল কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রের জন্য।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শুধু মানুষ নয়, কোনো প্রাণীই যেন হিংস্রতার শিকার না হয়: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বকাপে দলের হারের পর শুনলেন ‘বাবাও নেই’

আপডেট সময় ১২:১৮:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

এবার বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের হতাশা কাটিয়ে ওঠার আগেই আরও বড় দুঃসংবাদের মুখোমুখি হলেন ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় হারের পর সংবাদ সম্মেলনের মাঝপথেই তিনি জানতে পারেন, তার বাবা আর বেঁচে নেই। বুধবার (১ জুলাই) রাতে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত শেষ ৩২এর ম্যাচে দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হ্যারি কেনের জোড়া গোলে ২১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ডিআর কঙ্গো। ম্যাচ শেষে স্বাভাবিকভাবেই সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন ফরাসি কোচ দেসাব্রে। দলীয় পারফরম্যান্স, ম্যাচের বিশ্লেষণ ও বিশ্বকাপ যাত্রা নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন।

কিন্তু আলোচনার এক পর্যায়ে হঠাৎ করেই সংবাদ সম্মেলন কক্ষের পরিবেশ বদলে যায়। দলের এক মিডিয়া অফিসার ফরাসি ভাষায় উপস্থিত সবাইকে জানান, কোচের বাবা মারা গেছেন। খবরটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই স্তব্ধ হয়ে যান দেসাব্রে। কয়েক মুহূর্তের জন্য তিনি নীরব হয়ে থাকেন, যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যা শুনেছেন। এরপর ধীরস্বরেমার্সিবলে চেয়ার ছেড়ে উঠে যান তিনি। মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় সংবাদ সম্মেলন। ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়ায় দ্রুতই তা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ফুটবলপ্রেমীরা কোচের প্রতি সমবেদনা জানান। অনেকেই এই কঠিন সময়ে তার পাশে থাকার বার্তা দেন।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে কঙ্গো শুরু থেকেই দারুণ লড়াই করে। মাত্র সাত মিনিটে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি। দীর্ঘ সময় তারা সেই লিড ধরে রাখলেও শেষ দিকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন। ৭৫ মিনিটের পরপরই সমতা ফেরান তিনি এবং ৮৬ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে দলকে জয় এনে দেন। ফলে প্রথমবার নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় ডিআর কঙ্গোর।

তবে ফলের হতাশার মধ্যেও নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন দেসাব্রে। তিনি বলেন, তার দল বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে সাহসী ফুটবল খেলেছে এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছে। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কঙ্গোর ফুটবলকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিশ্বকাপে এই প্রথম নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া কঙ্গো ইতিহাস গড়লেও শেষ পর্যন্ত আবেগঘন এক অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে তাদের যাত্রা শেষ হলো। একই সঙ্গে ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন ব্যক্তিগত মুহূর্তও বয়ে আনল কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রের জন্য।