ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘ডোপ টেস্টের’ খবর শুনেই উধাও এসআই মামুন শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত ষড়যন্ত্র করছে: রিজভী ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষতির চিত্র ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফলে রাজধানীতে জামায়াতের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ হাদি হত্যা নিয়ে মমতার বিতর্কিত মন্তব্য, জনস্বার্থ মামলা খারিজ হাইকোর্টে পটুয়াখালীর চাঞ্চল্যে: একই ঘরে দুই তরুণী, ‘বাসর’ সাজিয়ে রাতযাপন ইরান সংঘাতে জ্বালানি সংকটে বিশ্ব; আকাশচুম্বী তেলের দামে দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ছে বিক্ষোভ ডাকসুর অনার বোর্ডে ২০১৯ সালের জিএস হিসেবে রাশেদ খাঁনের নাম মাদক উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় ভারত, তবুও যে কারণে মোদির প্রশংসায় ট্রাম্প! সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেও কেন এআই উন্নয়ন নিয়ে এতো মরিয়া ট্রাম্প?

হামলা হলে পুরো অঞ্চলকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেব, বোকামি না করাই ভালো: ইরান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৩৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮২ বার পড়া হয়েছে

এবার যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলাকে কেন্দ্র করে ফের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা বলেছেন, ইরানের ওপর হামলা হলে শুধু হামলার জবাবই দেয়া হবে না, পুরো অঞ্চলকেপ্রস্তর যুগেফিরিয়ে দেয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকেবোকামি না করারও সতর্কবার্তা দিয়েছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি আরও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বন্ধ করে দেয়ারও হুমকি দিয়েছে তেহরান। খবর আল জাজিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে  ইরানের পার্লামেন্ট সদস্য এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্য ইব্রাহিম রেজায়ি বলেন, ‘শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য যেকোনও হামলার জবাব শুধু পারস্য উপসাগর অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না। যেখান থেকেই হামলা চালানো হবে, আমরা সেখানকার সব ঘাঁটি এবং হামলার উৎসস্থলকে লক্ষ্য করে জবাব দেব।

এর আগে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বও দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেছিল, এমন কিছু হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, বাজার বন্ধ থাকার দুই দিনের মধ্যেই ইরানের ওপর ভয়াবহ হামলা চালিয়ে দেশটিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব। তার দাবি, গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন সফর করা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এমন ধারণা দিয়েছেন। রেজায়ি বলেন, ‘ইরানে হামলা হলে পুরো অঞ্চল ও এর স্থাপনাগুলোকে আমরা প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেব। বোকামি না করাই আপনাদের জন্য ভালো হবে।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি ও নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখে, তাহলে তেহরান হরমুজ প্রণালির অবরোধ আরও কঠোর করবে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি ও সমুদ্রপথও বন্ধ করে দেবে। রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ইরনার বরাতে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও যুদ্ধংদেহী অবস্থান অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালির অবরোধ আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে অন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি ও সমুদ্রপথও বন্ধ করে দেয়া হবে।তিনি সতর্ক করে বলেন, এর মূল্য দিতে হবে বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং মার্কিন ভোটারদের। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান।

এরপর থেকে পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে প্রণালিটি বন্ধ রয়েছে। একসময় বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। প্রণালি বন্ধ থাকায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং দামও বেড়েছে। এর মধ্যেই গত মাসে ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অবরোধের ঘোষণা দেয়। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় যেসব জাহাজ লোহিত সাগর দিয়ে চলাচল করছিল, সেই পরিবহনও এতে ব্যাহত হয়। গত জুন মাসে সৌদি আরব লোহিত সাগর হয়ে প্রতিদিন ৪১ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছিল।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ডোপ টেস্টের’ খবর শুনেই উধাও এসআই মামুন

হামলা হলে পুরো অঞ্চলকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেব, বোকামি না করাই ভালো: ইরান

আপডেট সময় ১০:৩৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

এবার যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলাকে কেন্দ্র করে ফের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা বলেছেন, ইরানের ওপর হামলা হলে শুধু হামলার জবাবই দেয়া হবে না, পুরো অঞ্চলকেপ্রস্তর যুগেফিরিয়ে দেয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকেবোকামি না করারও সতর্কবার্তা দিয়েছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি আরও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বন্ধ করে দেয়ারও হুমকি দিয়েছে তেহরান। খবর আল জাজিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে  ইরানের পার্লামেন্ট সদস্য এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্য ইব্রাহিম রেজায়ি বলেন, ‘শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য যেকোনও হামলার জবাব শুধু পারস্য উপসাগর অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না। যেখান থেকেই হামলা চালানো হবে, আমরা সেখানকার সব ঘাঁটি এবং হামলার উৎসস্থলকে লক্ষ্য করে জবাব দেব।

এর আগে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বও দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেছিল, এমন কিছু হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, বাজার বন্ধ থাকার দুই দিনের মধ্যেই ইরানের ওপর ভয়াবহ হামলা চালিয়ে দেশটিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব। তার দাবি, গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন সফর করা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এমন ধারণা দিয়েছেন। রেজায়ি বলেন, ‘ইরানে হামলা হলে পুরো অঞ্চল ও এর স্থাপনাগুলোকে আমরা প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেব। বোকামি না করাই আপনাদের জন্য ভালো হবে।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি ও নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখে, তাহলে তেহরান হরমুজ প্রণালির অবরোধ আরও কঠোর করবে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি ও সমুদ্রপথও বন্ধ করে দেবে। রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ইরনার বরাতে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও যুদ্ধংদেহী অবস্থান অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালির অবরোধ আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে অন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি ও সমুদ্রপথও বন্ধ করে দেয়া হবে।তিনি সতর্ক করে বলেন, এর মূল্য দিতে হবে বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং মার্কিন ভোটারদের। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান।

এরপর থেকে পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে প্রণালিটি বন্ধ রয়েছে। একসময় বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। প্রণালি বন্ধ থাকায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং দামও বেড়েছে। এর মধ্যেই গত মাসে ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অবরোধের ঘোষণা দেয়। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় যেসব জাহাজ লোহিত সাগর দিয়ে চলাচল করছিল, সেই পরিবহনও এতে ব্যাহত হয়। গত জুন মাসে সৌদি আরব লোহিত সাগর হয়ে প্রতিদিন ৪১ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছিল।