ঢাকা , বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেগম জিয়ার বিশ্বস্ত সঙ্গী ফাতেমা এখন জাইমা রহমানের ছায়াসঙ্গী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৪২:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩৩৮ বার পড়া হয়েছে

এবার বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দীর্ঘদিনের পরিচারিকা ও বিশ্বস্ত সঙ্গী ফাতেমা বেগম তার শূন্যতার এক নীরব সাক্ষী হয়ে রয়েছেন। দাফনের সময় থেকে শুরু করে খালেদা জিয়ার শেষ বিদায় পর্যন্ত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ছিলেন ফাতেমা। এক মুহূর্তও ছায়ার মতো পিছনে সরে যাননি। এবার খালেদার পরিবারের আস্থা ও ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছেন তিনি। তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানের ছায়াসঙ্গী হিসেবে।
বিজ্ঞাপন

এদিকে ফাতেমা বেগম দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে খালেদা জিয়ার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন। গুলশানের ‘ফিরোজা’ বাসভবন থেকে শুরু করে রাজপথের আন্দোলন, কারাগারের নিঃসঙ্গ মুহূর্ত কিংবা বিদেশ সফরের গোপন করিডোর সবখানেই নিঃশব্দে তার উপস্থিতি ছিল। শুধু কাজের দায়িত্ব নয়, খালেদার শারীরিক দুর্বলতায় হাত ধরে রাখা, সময়মতো প্রয়োজনীয় বিষয় স্মরণ করিয়ে দেওয়া, ওষুধ খাওয়ানো সবই ছিল তার নীরব দায়িত্ব ও মানবিক সম্পর্কের অংশ।

ফাতেমার জীবনযাত্রা সহজ ছিল না। ভোলার কাচিয়া ইউনিয়নের কৃষক পরিবারের মেয়ে হিসেবে বেড়ে উঠলেও, স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই সন্তান নিয়ে এক কঠিন জীবনের সংগ্রামে পা রাখেন। সংসারের ভার বইতে গিয়ে ২০০৯ সালে ঢাকায় এসে খালেদা জিয়ার বাসভবনে কাজ শুরু করেন। তার সে অনুগত সেবা ও নিষ্ঠা তাকে রাজনৈতিক উত্তাল সময়েও খালেদা জিয়ার বিশ্বস্ত ছায়াসঙ্গী করে তোলে।

২০১৩ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০১৫ সালের ৯২ দিন অবস্থানকালে এবং ২০১৮ সালের কারাগার জীবনে ফাতেমা ছিলেন নিরব সহযাত্রী। তার পাশে থাকার কারণ ছিল একটাই নেত্রীর প্রতি এক গভীর মানবিক ও অনুগ্রহপূর্ণ দায়বদ্ধতা। করোনা মহামারীর সময়ে হাসপাতালে খালেদার পাশে থেকে সেবা করা থেকে সর্বশেষ লন্ডনের চিকিৎসা সফর পর্যন্ত ফাতেমার অবিচল সঙ্গী হওয়া রাজনৈতিক কিংবা জনপ্রতিনিধির দায়িত্বের বাইরে ছিল, এক নিঃস্বার্থ মানবিক বন্ধন।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক কটাক্ষও ছিল ফাতেমার গুরুত্বেরই প্রমাণ কারাগারেও খালেদা জিয়ার ফাতেমাকে লাগবে। বৈশ্বিক সংকট ও রাজনৈতিক উত্থানপতনের মধ্যেও ফাতেমা বেগম ছিলেন এক অবিচ্ছিন্ন ছায়া। একজন মানবিক সেবা প্রদাতা, যার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই, কোনো পদ নেই, তবু যার উপস্থিতি ছিল ইতিহাসের সাক্ষী।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধে জীবন দিতে চাওয়া ইরানিদের গণবিয়ে, সামরিক জিপে হাজির বর-কনে

বেগম জিয়ার বিশ্বস্ত সঙ্গী ফাতেমা এখন জাইমা রহমানের ছায়াসঙ্গী

আপডেট সময় ১০:৪২:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

এবার বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দীর্ঘদিনের পরিচারিকা ও বিশ্বস্ত সঙ্গী ফাতেমা বেগম তার শূন্যতার এক নীরব সাক্ষী হয়ে রয়েছেন। দাফনের সময় থেকে শুরু করে খালেদা জিয়ার শেষ বিদায় পর্যন্ত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ছিলেন ফাতেমা। এক মুহূর্তও ছায়ার মতো পিছনে সরে যাননি। এবার খালেদার পরিবারের আস্থা ও ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছেন তিনি। তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানের ছায়াসঙ্গী হিসেবে।
বিজ্ঞাপন

এদিকে ফাতেমা বেগম দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে খালেদা জিয়ার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন। গুলশানের ‘ফিরোজা’ বাসভবন থেকে শুরু করে রাজপথের আন্দোলন, কারাগারের নিঃসঙ্গ মুহূর্ত কিংবা বিদেশ সফরের গোপন করিডোর সবখানেই নিঃশব্দে তার উপস্থিতি ছিল। শুধু কাজের দায়িত্ব নয়, খালেদার শারীরিক দুর্বলতায় হাত ধরে রাখা, সময়মতো প্রয়োজনীয় বিষয় স্মরণ করিয়ে দেওয়া, ওষুধ খাওয়ানো সবই ছিল তার নীরব দায়িত্ব ও মানবিক সম্পর্কের অংশ।

ফাতেমার জীবনযাত্রা সহজ ছিল না। ভোলার কাচিয়া ইউনিয়নের কৃষক পরিবারের মেয়ে হিসেবে বেড়ে উঠলেও, স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই সন্তান নিয়ে এক কঠিন জীবনের সংগ্রামে পা রাখেন। সংসারের ভার বইতে গিয়ে ২০০৯ সালে ঢাকায় এসে খালেদা জিয়ার বাসভবনে কাজ শুরু করেন। তার সে অনুগত সেবা ও নিষ্ঠা তাকে রাজনৈতিক উত্তাল সময়েও খালেদা জিয়ার বিশ্বস্ত ছায়াসঙ্গী করে তোলে।

২০১৩ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০১৫ সালের ৯২ দিন অবস্থানকালে এবং ২০১৮ সালের কারাগার জীবনে ফাতেমা ছিলেন নিরব সহযাত্রী। তার পাশে থাকার কারণ ছিল একটাই নেত্রীর প্রতি এক গভীর মানবিক ও অনুগ্রহপূর্ণ দায়বদ্ধতা। করোনা মহামারীর সময়ে হাসপাতালে খালেদার পাশে থেকে সেবা করা থেকে সর্বশেষ লন্ডনের চিকিৎসা সফর পর্যন্ত ফাতেমার অবিচল সঙ্গী হওয়া রাজনৈতিক কিংবা জনপ্রতিনিধির দায়িত্বের বাইরে ছিল, এক নিঃস্বার্থ মানবিক বন্ধন।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক কটাক্ষও ছিল ফাতেমার গুরুত্বেরই প্রমাণ কারাগারেও খালেদা জিয়ার ফাতেমাকে লাগবে। বৈশ্বিক সংকট ও রাজনৈতিক উত্থানপতনের মধ্যেও ফাতেমা বেগম ছিলেন এক অবিচ্ছিন্ন ছায়া। একজন মানবিক সেবা প্রদাতা, যার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই, কোনো পদ নেই, তবু যার উপস্থিতি ছিল ইতিহাসের সাক্ষী।