যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল। তিনি বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কিউবার জনগণ ঐক্যবদ্ধ এবং প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট। তার এই মন্তব্য এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায়।
দিয়াজ-কানেল অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন কিউবার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমনির্ভর মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালাচ্ছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন বক্তব্য শুধু কিউবার জনগণের মর্যাদার অবমাননাই নয়, আন্তর্জাতিক আইনেরও লঙ্ঘন।
সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হামলার আশঙ্কাকে উড়িয়ে না দিয়ে কিউবার প্রেসিডেন্ট বলেন, তার সরকার সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে কিউবা যুদ্ধ চায় না, কিন্তু যুদ্ধকে ভয়ও পায় না।
দেশটির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন, কিউবার জনগণ অতীতেও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়েছে, ভবিষ্যতেও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একইভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অবরোধেরও তীব্র সমালোচনা করেন দিয়াজ-কানেল। তার দাবি, এই নিষেধাজ্ঞার কারণেই কিউবায় বিদ্যুৎ সংকট, ওষুধের ঘাটতি এবং অর্থনৈতিক দুর্ভোগ আরও তীব্র হয়েছে।
এদিকে কিউবায় চীন বা রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি থাকার মার্কিন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। পাশাপাশি রাজনৈতিক বন্দি রাখার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কারাগারে থাকা ব্যক্তিরা রাজনৈতিক কারণে নয়, প্রচলিত আইনে অপরাধের দায়ে দণ্ডিত।
তবে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা জানিয়েছেন কিউবার প্রেসিডেন্ট। তার ভাষায়, যেকোনো আলোচনা হতে হবে পূর্বশর্তহীন এবং কিউবার সার্বভৌমত্ব ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















