ঢাকা , সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
২০১৫ সালে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা মামলার আসামি যুবলীগ নেতা হান্নান গ্রেফতার চোখে ব্যান্ডেজ বেঁধে নাসীরুদ্দীনের প্রতিবাদ, ‘ভয় দেখিয়ে আন্দোলন দমানো যাবে না’ সাধারণদের মতোই ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিয়ে লাইসেন্স পেলেন জাইমা রহমান, বিশেষ সুবিধা নয় বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে জুলাইকে অস্বীকার করেছে: গোলাম পরওয়ার জুলাই কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর অর্জন নয়: সমাজকল্যাণমন্ত্রী পুকুরে ভাসতে থাকা ফুটবলই কেড়ে নিলো শিশু সিয়ামের প্রাণ একযোগে তা’মীরুল মিল্লাত মাদরাসার ৩০ শিক্ষার্থী বহিষ্কার হত্যাচেষ্টা মামলায় সাদিক অ্যাগ্রোর ইমরান গ্রেপ্তার হাসিনাকে এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হবে: নাহিদ ইসলাম তীব্র গ্যাস সংকটে ভোগান্তিতে সিএনজি চালকরা, কমেনি মালিকদের জমা

ঘাটতি পোষাতে এলপিজির পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতও বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০০:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩২ বার পড়া হয়েছে

বর্তমানে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির যাতাকলে পিষ্ট নিম্ন ও মধ্যবিত্ত। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা নতুন করে বাড়িয়েছে চাপ। এমন পরিস্থিতিতে বেড়েছে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম। এলপিজির দামও দ্বিগুণের বেশি বাড়িয়েছিল সরকার। পরে দাম কমানো হলেও বেসরকারি সিন্ডিকেটের দাপটে নির্ধারিত দামে এলপিজি কিনতে পারেনি সাধারণ মানুষ।

এমন বাস্তবতায় সিস্টেম লস বা ঘাটতি পোষাতে সরকার বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ও বাকি জ্বালানি খাতও বেসরকারিকরণের পরিকল্পনা করছে। সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে কমবে লোকসান এবং আমদানিতে অনিশ্চয়তার ঝক্কি। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, তৃতীয় এফএসওর জন্য চীনা কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিনিয়োগকারীরা আসছেন এবং এ বিষয়ে চুক্তির অগ্রগতিও ভালো বলে জানান তিনি। কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্ত আদতে কতটা জনবান্ধব ও কার্যকরএ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোশাহিদা সুলতানা বলেন, বাংলাদেশের জন্য এখনো এমন একটি বেসরকারি বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় যাওয়ার সময় হয়নি। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের যেসব অঞ্চলে এটি করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, সেখানে বিল আদায় আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে কোনো বেসরকারি কোম্পানির হাতে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা দিয়ে দেয়া হলে, এলপিজি খাতে যে উদাহরণ দেখা যাচ্ছে, সেরকম একটি ঘটনা ঘটতে পারে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, জ্বালানি বা বিদ্যুৎ এমন একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য, যেটি মুনাফা করার মতো পণ্য নয়। জনগণের ওপর যাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। তার মতে, এ ধরনের কার্যক্রম যত বেশি সরকারের অধীনে রাখা যায় এবং সীমিত মুনাফার মধ্যে পরিচালনা করা যায়, সেটিই ভালো। তাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সরকারের অধীনেই রাখা উচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসরকারি খাতের মুনাফার প্রবণতায় লাগাম টানা এবং ভোক্তার প্রতি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা না গেলে শুধু বেসরকারিকরণের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

২০১৫ সালে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা মামলার আসামি যুবলীগ নেতা হান্নান গ্রেফতার

ঘাটতি পোষাতে এলপিজির পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতও বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত

আপডেট সময় ১১:০০:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

বর্তমানে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির যাতাকলে পিষ্ট নিম্ন ও মধ্যবিত্ত। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা নতুন করে বাড়িয়েছে চাপ। এমন পরিস্থিতিতে বেড়েছে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম। এলপিজির দামও দ্বিগুণের বেশি বাড়িয়েছিল সরকার। পরে দাম কমানো হলেও বেসরকারি সিন্ডিকেটের দাপটে নির্ধারিত দামে এলপিজি কিনতে পারেনি সাধারণ মানুষ।

এমন বাস্তবতায় সিস্টেম লস বা ঘাটতি পোষাতে সরকার বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ও বাকি জ্বালানি খাতও বেসরকারিকরণের পরিকল্পনা করছে। সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে কমবে লোকসান এবং আমদানিতে অনিশ্চয়তার ঝক্কি। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, তৃতীয় এফএসওর জন্য চীনা কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিনিয়োগকারীরা আসছেন এবং এ বিষয়ে চুক্তির অগ্রগতিও ভালো বলে জানান তিনি। কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্ত আদতে কতটা জনবান্ধব ও কার্যকরএ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোশাহিদা সুলতানা বলেন, বাংলাদেশের জন্য এখনো এমন একটি বেসরকারি বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় যাওয়ার সময় হয়নি। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের যেসব অঞ্চলে এটি করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, সেখানে বিল আদায় আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে কোনো বেসরকারি কোম্পানির হাতে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা দিয়ে দেয়া হলে, এলপিজি খাতে যে উদাহরণ দেখা যাচ্ছে, সেরকম একটি ঘটনা ঘটতে পারে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, জ্বালানি বা বিদ্যুৎ এমন একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য, যেটি মুনাফা করার মতো পণ্য নয়। জনগণের ওপর যাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। তার মতে, এ ধরনের কার্যক্রম যত বেশি সরকারের অধীনে রাখা যায় এবং সীমিত মুনাফার মধ্যে পরিচালনা করা যায়, সেটিই ভালো। তাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সরকারের অধীনেই রাখা উচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসরকারি খাতের মুনাফার প্রবণতায় লাগাম টানা এবং ভোক্তার প্রতি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা না গেলে শুধু বেসরকারিকরণের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।